
‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ।
আব্বাসউদ্দীন আহমদ বাংলা সংগীত ও উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। ভাওয়াইয়া, পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, ইসলামী গান ও নজরুলসংগীতসহ বিভিন্ন ধারার সংগীতে তাঁর অসামান্য অবদান বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কণ্ঠে ধারণ করা গান বাংলার মানুষের জীবন, আবেগ, ধর্মীয় অনুভূতি ও লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য দলিল।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বহু বিখ্যাত গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি কবি জসীমউদ্দীন ও গোলাম মোস্তফার রচিত ইসলামী ভাবধারার গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সংগীতের বহুমাত্রিকতাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর সংগীতচর্চা প্রমাণ করে, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য কোনো সংকীর্ণ পরিচয়ের বিষয় নয়; বরং একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও মানুষের জীবনবোধের সম্মিলিত প্রকাশ।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ মনে করে, একটি জাতির আত্মপরিচয় ও ঐতিহাসিক চেতনাকে শক্তিশালী করতে তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা অপরিহার্য। আব্বাসউদ্দীন আহমদের মতো কালজয়ী শিল্পীদের অবদানকে স্মরণ করা কেবল আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; বরং তাঁদের সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশীয় সংগীত, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ আব্বাসউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এবং দেশের শিক্ষার্থীসমাজকে বাংলা সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার, চর্চা করার ও তা সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার বিকাশে কালজয়ী শিল্পীদের অবদান হোক নতুন প্রজন্মের প্রেরণা।