
পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের আহ্বান | তিনটি পৃথক কমিশন গঠনের প্রস্তাব | এক বছরের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্নের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, বৈষম্য ও প্রশাসনিক দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কারসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি বলেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা। কিন্তু নিয়োগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ সেই আকাঙ্ক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি পিএসসিকে তিনটি পৃথক কমিশনে পুনর্গঠন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ এবং সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, জুলাই জাতীয় সনদের সুপারিশ অনুযায়ী পিএসসির বর্তমান কাঠামো পুনর্গঠন করে সংবিধানের অধীনে তিনটি পৃথক কমিশন প্রতিষ্ঠা। এসব কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের জন্য সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রত্যেক কমিশনের একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি তাঁদের পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গণভোটে ৬৯ শতাংশ মানুষের রায় এবং রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে সরকার জুলাই জাতীয় সনদের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিচ্ছে না। পিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিচার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা, মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার জন্য উদ্বেগজনক।
পিএসসির সংস্কার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি
সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের নেতৃত্বাধীন পিএসসি কমিশনের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ছাত্রশিবিরের মতে, লিখিত পরীক্ষার খাতা পরিচয় গোপন রেখে কোডভিত্তিক মূল্যায়ন, একই খাতার বিভিন্ন প্রশ্ন পৃথক পরীক্ষকের মাধ্যমে মূল্যায়ন, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা, মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক (কম্পিটেন্সি বেইজড) সাক্ষাৎকার চালু এবং প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তায় নিজস্ব ডিজিটাল প্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো নিয়োগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
এ ছাড়া ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতির মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর উদ্যোগও বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।
নূরুল ইসলাম বলেন, পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত পিএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গত ১৮ আগস্ট পদত্যাগ করেছেন। পরবর্তী সময়ে কমিশনের দুই সদস্য ড. মো. মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রহমানের পদত্যাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর চায়ের আমন্ত্রণের পর কমিশনের সদস্যদের পদত্যাগের ঘটনাও প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনরায় ১০০ থেকে ২০০ করার উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর মূল্যায়ন, ফলাফল প্রস্তুত এবং প্রকাশের প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানায় সংগঠনটি।
১২০০ প্রার্থীর নিয়োগ না পাওয়ার অভিযোগ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি প্রার্থীকে নিয়োগপত্র না দেওয়ার অভিযোগও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড কিংবা তাঁদের নিয়োগ না দেওয়ার যৌক্তিক কারণ জানানো হয়নি বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ও পারিবারিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের বৈষম্য সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতার নীতির পরিপন্থী।
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবেরও সমালোচনা করে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির বক্তব্য, লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার গুরুত্ব কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর বরাদ্দ করা হলে নিয়োগে দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বাড়বে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।
সংবাদ সম্মেলনে ৪৫তম বিসিএসের গেজেটে পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত ১ হাজার ৮০৭ জনের মধ্যে ৫৬ জন এবং ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রথম গেজেটে ৫৭ জন প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
নূরুল ইসলামের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের বাদ দেওয়া তাঁদের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের মুখে পুনঃযাচাই ও কয়েকজনের গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এ ধরনের অনিশ্চয়তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্রশিবিরের প্রস্তাব অনুযায়ী, পুলিশ ভেরিফিকেশনের উদ্দেশ্য, যাচাইয়ের মানদণ্ড, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ও সময়সীমা লিখিতভাবে প্রকাশ করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং প্রাসঙ্গিক অপরাধসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই শেষ করতে হবে।
ভেরিফিকেশনে কোনো নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে লিখিতভাবে কারণ জানানো এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুল তথ্য সংশোধন, আপিল ও পুনর্বিবেচনার কার্যকর ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
১৩ দফা দাবিতে যা রয়েছে
মেধাভিত্তিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার এবং চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন।
২. নবম ও দশম গ্রেডের সব সরকারি চাকরির নিয়োগ পিএসসির অধীনে আনা এবং নিয়োগ, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ।
৩. কোডভিত্তিক খাতা মূল্যায়ন, দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষাৎকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতিসহ মোনেম কমিশনের সংস্কার উদ্যোগ বহাল রাখা।
৪. মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলোর অনুমোদিত শূন্য পদ, সম্ভাব্য অবসর, নতুন পদ সৃষ্টি এবং জনবল চাহিদার তথ্য পিএসসিকে সময়মতো সরবরাহ এবং সমন্বিত বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ।
৫. নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি ও বিলম্বের কারণ ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ।
৬. রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে কোনো প্রার্থীকে বৈষম্যের শিকার না করা।
৭. সাধারণ সরকারি নিয়োগ ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে সম্পন্নের সময়সীমা নির্ধারণ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রকাশ।
৮. জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রাসঙ্গিক অপরাধসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ডের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন।
৯. ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে প্রার্থীকে লিখিতভাবে কারণ জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা।
১০. পদের ধরন ও দায়িত্ব অনুযায়ী লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণ এবং মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়নে অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ।
১১. মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক নম্বর ও মূল্যায়নগত অসংগতি পর্যালোচনায় অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ এবং আপিলের সুযোগ রাখা।
১২. প্রশ্নফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষা ও অন্যান্য অনিয়ম ঠেকাতে নিরাপদ প্রযুক্তি, ডিজিটাল নজরদারি, দক্ষ জনবল ও আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
১৩. সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ৮, ১৯ ও ২০ ধারাসহ প্রাসঙ্গিক বিধান পর্যালোচনা করে নিয়োগ, পদোন্নতি ও মূল্যায়নে মেধা, সততা, দক্ষতা ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া।
ছাত্রশিবিরের নেতাদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা কমবে, প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ হবে এবং প্রশাসনে পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজির হোছাইন জুয়েল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক সুমন সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, ঢাকা কলেজ শাখা সভাপতি মোস্কাকিম আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষণ
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয় এখন তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রতা, ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং সুপারিশের পরও নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।
ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা প্রস্তাবে এসব সমস্যার পাশাপাশি পিএসসির প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, নিয়োগের সময়সীমা, পরীক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এসব দাবি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় কথা, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর অনুগ্রহ নয়; এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শুধু চাকরিপ্রার্থীরাই উপকৃত হবেন না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসও বাড়বে।