• ঢাকা |

শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছে একটি গুলি, তবুও থামেনি সংগ্রাম: অদম্য জুলাই যোদ্ধা মো. আরিফুল ইসলাম


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

মনছুর আলম, পাবনা: জুলাই—এটি আর কেবল ক্যালেন্ডারের একটি মাস নয়; এটি প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও সাহসের প্রতীক। এই মাসের প্রতিটি দিন স্মরণ করিয়ে দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো তরুণদের কথা, যাদের রক্তে লেখা হয়েছে নতুন ইতিহাস। সেই ইতিহাসের একজন সাহসী যোদ্ধা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সন্তান মো. আরিফুল ইসলাম।

তিনি পাবনার শহীদ মনসুর আলী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে সরব ছিলেন এই তরুণ।

আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে ২০ জুলাই পাবনা টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে একই রাতেই তিনি মুক্তি পান। গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি কিংবা দমন-পীড়ন—কোনো কিছুই তাকে আন্দোলন থেকে সরিয়ে রাখতে পারেনি। মুক্তির পর আবারও রাজপথে ফিরে দাঁড়ান তিনি।

এরপর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পাবনা শহীদ চত্বরে আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন আরিফুল ইসলাম। তাঁর শরীরে লাগে তিনটি বুলেট এবং ১৮টি রাবার বুলেট। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও আজও তাঁর শরীরে একটি গুলি রয়ে গেছে। প্রতিটি মুহূর্তে সেই গুলি তাকে মনে করিয়ে দেয় আন্দোলনের রক্তাক্ত দিনগুলোর কথা এবং সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মৃতি।

বর্তমানে তিনি 'ওয়ারিয়র্স জুলাই' পাবনা জেলা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শারীরিক যন্ত্রণা সঙ্গী হয়েও তিনি আহত যোদ্ধাদের অধিকার, জুলাই আন্দোলনের চেতনা সংরক্ষণ এবং শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আরিফুল ইসলামের শরীরে বহন করা সেই একটি গুলি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতের স্মারক নয়; এটি একটি আন্দোলনের মূল্য, আত্মত্যাগ এবং অদম্য সাহসের জীবন্ত সাক্ষ্য। তাঁর মতো অসংখ্য জুলাই যোদ্ধার ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাবে এবং দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।

জুলাইয়ের রক্তস্নাত ইতিহাসে মো. আরিফুল ইসলামের নাম সাহস, ত্যাগ ও অদম্য সংগ্রামের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।