• ঢাকা |

৬ দফা দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, বাধা এলে প্রতিহতের হুঁশিয়ারি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

এমএম রহমাতুল্লাহ: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা, কৃত্রিম যানজট কিংবা হামলা হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের নেতারা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দফা দাবিতে লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে সরকার গণতন্ত্রের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা দেখানো এবং জনদুর্ভোগ, বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাস সংকট সমাধানে ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কটু ভাষায় কথা বলা হচ্ছে এবং সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় এমপিদের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সরকার কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে না—এটাই তারা প্রত্যাশা করছেন। একই সঙ্গে সরকার, সরকারদলীয় শীর্ষ নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা, সন্ত্রাসী হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা নাশকতার চেষ্টা করা হলে তা প্রমাণ করবে যে জুলাই অভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদের আলোকে ‘নতুন বাংলাদেশের’ যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সরকার তা ধারণ করে না। লংমার্চ বাধাগ্রস্ত করা হলে সরকারের প্রতি জনঅনাস্থা আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেওয়া হলে সব বাধা অতিক্রম করে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে পৌঁছাবেন তারা। তাদের ভাষ্য, জনগণের অধিকার আদায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জনগণের কাছে তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি।

লংমার্চ ঘোষণার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে নেতারা এটিকে ‘কৃত্রিম যানজট’ হিসেবে অভিহিত করেন। লংমার্চের দিন বালুবাহী বা খালি ট্রাক দিয়ে বহরের গতিপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন, সরকারি কর্মকর্তা, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন জোটের নেতারা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হবে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।

এর বাইরে অনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। স্থানীয় পর্যায়ের পথসভাগুলোর ব্যবস্থাপনা করবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মোর্শেদ সিদ্দীকী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারাক হোসাইন ও ড. রেজাউল করিম এবং বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করতে জোটের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।