• ঢাকা |

রাষ্ট্র নির্মাণে নবীজী (সা:)’য়ের তরিকা এবং আজকের বিদ্রোহ ও ভ্রষ্টতা


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ফিরোজ মাহবুব কামাল
ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে নবীজী (সা:)য়ের তরিকা

বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশগুলির জনগণের মূল সমস্যাটি শুধু ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখা নিয়ে নয়, বরং গভীরতর সংকটটি হলো, কিরূপে সেরূপ একটি রাষ্ট্রের নির্মাণ সম্ভব -তা নিয়ে। এ প্রসঙ্গে নানা দল ও নানা নেতার নানা মত। বাংলাদেশের ন্যায় অনেক মুসলিম দেশেই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভাবনা নিয়ে বহু দল বহু বছর ধরে কাজ করছে। কিন্তু তারা ইতিহাস গড়েছে ব্যর্থতায়। বিস্ময়ের বিষয় হলো, তাদের সে ব্যর্থ পথ ও ব্যর্থ প্রক্রিয়া নিয়ে আজও কোন গবেষণা হয়নি। কোথায় তাদের ত্রুটি -সেগুলো নিয়েও কোন চিন্তাভাবনা হয়নি। তাদের ব্যর্থতার মূল কারণ, তারা অনুসরণ করেনি মহান নবীজী (সা:)’য়ের ত্বরিকা তথা পদ্ধতি। মহান নবীজী (সা:)‌ যেখান থেকে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন, তারা সেখান থেকে শুরু করেনি। তারা শুরু করেছে রাজনৈতিক লড়াই দিয়ে। তাদের সে লড়াইয়ে অস্ত্র হলো তাদের বক্তৃতা, ওয়াজ ও নিজেদের লেখা বই। নিজেদের লড়াইকে তারা জিহাদে পরিণত করতে পারিনি। সেটি সীমিত হয়ে গেছে নির্বাচনি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সংসদে ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলিত নিজেদের দলীয় উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার মাঝে। ফলে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে। এ আন্দোলনগুলি বেঁচে আছে কেবল কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে।

নবীজী (সা:) শুরুতেই তাঁর লড়াইকে বিশুদ্ধ জিহাদে পরিণত করেন। লড়াইয়ের প্রথম ধাপে সেটি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ। সে জিহাদে নবীজী (সা:)’য়ের অস্ত্র ছিল পবিত্র কুর’আন। কাফিরদের বক্তব্যের জবাবে কুর’আনের আয়াতগুলিকে তিনি ব্যবহার করেছেন হাতিয়ার রূপে। নবীজী (সা:)’য়ের প্রতি এমন জিহাদের নির্দেশনা এসেছে মহান আল্লাহ তায়ালা থেকে। নবীজী (সা:)কে বলা হয়েছে:

فَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَجَاهِدْهُم بِهِ جِهَادًا كَبِيرًا

অর্থ: “অতএব আপনি কাফেরদের আনুগত্য করবেন না এবং তাদের সাথে এ কুর‌’আন দিয়ে বড় জিহাদটি করুন।” –( সুরা ফুরকান, আয়াত ৫২)।

প্রশ্ন হলো, তথাকথিত ইসলামী দলগুলোর ক’জন নেতাকর্মী  মহান আল্লাহ তায়ালার এ নির্দেশনাকে মেনে চলে? বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে ক’জন কুর’আনকে অস্ত্র রূপে ব্যবহার করে? কুর’আনের বদলে তারা ব্যবহার করেছে নিজেদের ওয়াজ। ফলে বিজয় আসবে কিরূপে?

বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদে কুর’আনকে অস্ত্র রূপে ব্যবহার করতে হলে এ ধারালো অস্ত্রকে বুঝতে হয়। কিন্তু ক‌’জন নেতাকর্মীর রয়েছে সে কুর’আনী জ্ঞান? সে জ্ঞান আসবেই বা কিরূপে? ক’জনের রয়েছে কুর’আন বুঝার সামর্থ্য? বিস্ময়ের বিষয় হলো, বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলি বহুতল বিশিষ্ট বিল্ডিং গড়া নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু উদ্যোগ নাই ছাত্র ছাত্রীদের হাতে উচ্চ মানের বই তুলে দেয়ায়। এ থেকে বুঝা যায়, তাদের আগ্রহ নাই ছাত্র ছাত্রীদের জ্ঞানবান করায়। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলিতে নাই বিশ্বমানের কোন লাইব্রেরী। যখন লক্ষ্য হয়, জনগণের দৈহিক সুস্থতা এবং দুর্ভিক্ষ থেকে মু্ক্তি, তখন কৌশল হতে হয় জনগণের হাতে পর্যাপ্ত খাদ্য পৌছিয়ে দেয়া। তেমনি লক্ষ্য যদি হয় অজ্ঞতা থেকে মুক্তি এবং জনগণকে জ্ঞানবান করা -তখন কৌশল হতে হয় জনগণের হাতে বই পৌঁছে দেয়া। কিন্তু সে কাজটি বাংলাদেশসহ অধিকাংশ মুসলিম দেশে হচ্ছে না। বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলিতে বিনা মূল্যে বিরানি খাওয়া গেলেও বিনা মূল্যে বই জুটে না। অথচ বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের মূল অস্ত্র হলো কুর’আন এবং কুর’আনী জ্ঞান সমৃদ্ধ বই। ইসলামী দলগুলির মাঝে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদে বিজয়ী হওয়ার তাড়না থাকলে তারা দলের নেতাকর্মীদের হাতে বই তুলে দিত। এবং বই তুলে দিত সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের হাতেও।  


জিহাদের তিনটি ধাপ:বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও সশস্ত্র

জিহাদের তিনটি ধাপ: বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও সশস্ত্র। জিহাদের প্রতিটি ধাপই অতি গুরুত্বপূর্ণ; প্রত্যেকটি ধাপই অন্য দুটি ধাপের পরিপূরক। বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ না হলে রাজনৈতিক ও সশস্ত্র জিহাদ সফল হয় না। তেমনি রাজনৈতিক জিহাদে সফল না হলে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ ও সশস্ত্র জিহাদও ফল দেয় না। আফগানিস্তানের অস্ত্রের জিহাদ ব্যর্থ হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক জিহাদে ব্যর্থ হওয়ার কারণে। জিহাদের চুড়ান্ত ফয়সালাটি হয় সশস্ত্র জিহাদে; এ জিহাদ অর্থ, শ্রম ও রক্তের কুরবানী চায়।

বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ হলো জিহাদের শুরুর পর্ব। নবীজী এ বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদটি করেছিলেন নবু্য়তের মক্কী অংশের ১৩ বছর ধরে। এ জিহাদের অস্ত্র ছিল পবিত্র কুর’আন। মহান আল্লাহ তায়ালা এ জিহাদকে সুরা ফুরকানে জিহাদান কবিরা অর্থাৎ বড় জিহাদ বলেছেন। সুযোগ পেলে সে জিহাদকে অবশ্যই রাজনৈতিক ও সশস্ত্র জিহাদে পরিণত করতে হয়। নইলে জিহাদের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়না; তখন নির্মিত হয়না ইসলামী রাষ্ট্র। মদিনায় হিজরতের পর নবীজী (সা:) তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের সাথে রাজনৈতিক জিহাদ শুরু করেন। মাঝে মধ্যে তাকে বদর, ওহুদ, খন্দকের ন্যায় বহু সশস্ত্র জিহাদে লিপ্ত হতে হয়েছে। তবে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ জারি রাখতে হয়ে রাজনৈতিক ও সশস্ত্র জিহাদের সময়ও। কারণ এ জিহাদ ঈমান বাঁচিয়ে রাখার। তাই সশস্ত্র জিহাদে বিরতি আছে, কিন্তু বিরতি নাই বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক জিহাদে।     

রাজনৈতিক জিহাদটি সংঘটিত করতে হয় রাজনীতির অঙ্গণে। এখানে পরীক্ষা হয় একতাবদ্ধ হওয়া, সংগঠিত হওয়া এবং জনগণকে উজ্জীবিত করার সামর্থ্যের। রাজনৈতিক জিহাদে বিজয়ী হতে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদে বিজয়ী হতে হয়। রাজনৈতিক জিহাদের অঙ্গণে একাকী বিজয়ী হওয়াটি দুরূহ; তাই ইস্যু ভিত্তিক বন্ধু খুঁজতে হয় এবং তাদের সাথে রাজনৈতিক কোয়ালিশন গড়তে হয়। সশস্ত্র জিহাদে না গিয়েও বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক জিহাদের মাধ্যমে বহু জালেম শক্তির পতন ঘটানো যায়। উদাহরণ, ২০২৪ সালে জুলাই আগস্ট বিপ্লব -যা ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন। একই ভাবে ১৯৭৯ সালে ইরানের বিপ্লব পতন ঘটিয়েছিল ফ্যাসিস্ট বাদশাহ মহম্মদ রেজা শাহের। রাজনৈতিক জিহাদ নিরস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে শুরু হলেও সেটি নিরস্ত্র থাকে না; অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্তাক্ত রূপ নেয়। স্বৈর সরকার ক্ষমতায় থাকতে অস্ত্রের প্রয়োগ করে। তাই খুনি হাসিনার পুলিশ, RAB, বিজিবি ও সেনাবাহিনী প্রায় দেড় হাজার নিরস্ত্র ও নিরপরাধ মানুষকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে এবং ২২ হাজার মানুষকে আহত করেছে। বহু শত মানুষকে অন্ধ বানিয়েছে। ইরানের স্বৈরশাসক হত্যা করেছে বহু হাজার মানুষকে। রাজপথে শত শত মানুষকে পিষ্ট করেছে ট্যাংকের নিচে ফেলে।    

মদিনায় হিজরতের পরই নবীজী (সা:)’য়ের জীবনে শুরু হয় বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক জিহাদ। সে জিহাদের মূল লক্ষ্য ছিল, মদিনার বুকে অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং শত্রুর সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া। সে লক্ষ্যে তিনি শুধু বনু আউস ও বনু খাজরাজ -এ দুটি মুসলিম গোত্রের মাঝে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসে বিবাদকে দূর করেননি, সন্ধি করেছেন মদিনা ও তার আশেপাশে বসবাসরত ইহুদি ও পৌত্তলিক গোত্রগুলির সাথেও। তাদের সাথে কোয়ালিশন গড়েন এ ইস্যুতে যে, বাইরের কোন গোত্র হামলা করলে তারা সবাই সম্মিলিত প্রতিরোধ খাড়া করবে। ইতিহাসে সেটি মদিনা সনদ নামে পরিচিত। এভাবে তিনি মদিনায় অভ্যন্তরীণ শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এখান থেকেই শুরু হয় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজ। ক্ষমতা হাতে পেলে কৌশল হতে হয়, রাষ্ট্রের প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষা ব্যবস্থা, মিডিয়া, আদালত, গোয়েন্দা বিভাগকে শত্রুর বিরুদ্ধে হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করা। শান্তি কালীন সে সময়ে শত্রুর সশস্ত্র হামলার প্রতিরোধে পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হয় সশস্ত্র জিহাদের। সংগ্রহ করতে হয় অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র। দেশবাসীকে প্রশিক্ষিত করতে হয় সর্বাধুনিক যুদ্ধবিদ্যায়। এ যুদ্ধে সৈনিক হলো দেশের প্রতিটি ঈমানদার নাগরিক। নামাজের আযানে নামাজে হাজির হওয়া যেমন ফরজ, তেমনি ফরজ হলো জিহাদের আযানে ত্বরিৎ হাজির হওয়া। নইলে মুনাফিক হতে হয় -যেমন মুনাফিক হয়েছিল আব্দুল্লাহ বিন উবাই। প্রতিটি ঈমানদারের উপর এমন যুদ্ধে সর্বসামর্থ্য নিয়ে সদা প্রস্তুত থাকার হুকুম এসেছে নিচের আয়াতে। বলা হয়েছে:

وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ

অর্থ: “আর সম্ভাব্য সকল সামর্থ্য দিয়ে প্রস্তুত হও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এবং প্রস্তুত করো যুদ্ধের ঘোড়াকে, যেন সন্ত্রস্ত্র করতো পারো আল্লাহর শুত্রু এবং তোমাদের শত্রুদের।”–(সুরা আনফাল, আয়াত ৬০)।

কোন মুসলিম কি মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুমকে অমান্য করতে পারে? অমান্য করলে কি সে মুসলিম থাকে? তাই নবীজী (সা:)’র জিহাদ শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক জিহাদে সীমিত ছিল না; তাকে বার বার সশস্ত্র জিহাদে নামতে হয়েছে। তাঁর শাসনামলে ৮৩টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। সশস্ত্র জিহাদের মধ্য দিয়েই তিনি ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষাকে সুনিশ্চিত করেন। এটিই হলো ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে নবীজী (সা:)’য়ের ত্বরিকা। নিজের এ তরিকায় নবীজী (সা:) কোন রূপ জটিলতা ও অস্বচ্ছতা রাখেননি। আজও বিশ্বের যে কোন প্রান্তে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে এটিই হলো নবীজী (সা:)’য়ের দেখানো সিরাতাল মুস্তাকীম। যারা সিরাতাল মুস্তাকীমে চলতে চায়, তাদের সামনে এ পথটি ছাড়া কোন বিকল্প পথ নাই।   

পরিতাপের বিষয় হলো, ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ক্ষেত্রে নবীজী (সা:) যে পথটি দেখিয়ে যান, মুসলিমদের মাঝে সে পথের কোন অনুসরণ নাই। বরং ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের নামে প্রতিটি ইসলামী দলই নিজ নিজ পদ্ধতির আবিষ্কার করে নিয়েছে। বাংলাদেশের ন্যায় বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে ইসলাম হলো একটি পরাজিত জীবন বিধান। ইসলাম বেঁচে আছে কেবল কুর’আন পাঠ, নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও দোয়া দরুদের মাঝে। দেশের শাসনতন্ত্র, রাজনীতি, প্রশাসন, আইন আদালত, শিক্ষা সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে ইসলামের কোন স্থান নাই। এ সবগুলি ক্ষেত্রেই তারা মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশগুলিকে পরিত্যাগ করেছে। ইসলাম থেকে তারা এতোটাই দূরে সরেছে যে, তারা যে পথ হারিয়েছে -সে হুশও তাদের নাই।


ভ্রষ্টতা নিয়ে বাঁচাই যেখানে তরিকা ও সংস্কৃতি

নামাজের প্রতি রাকাতে নামাজী মাত্রই সুরা ফাতেহা পাঠ কালে মহান রব’য়ের কাছে সিরাতাল মুস্তাকীম চায়; এবং বাঁচতে চায় পথভ্রষ্টদের পথ থেকে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, তারা নিজেরাই বেছে নিয়েছে ভ্রষ্ট পথ। পৌত্তলিকরা যেমন মূর্তি পূজা ছাড়তে রাজী নয়, তেমনি এরাও রাজী নয় সে ভ্রষ্ট পথ ছাড়তে।  নিজের বিচ্যুতি তো একমাত্র সেই টের পায়, যে সঠিক পথটি জানে। সে সঠিক পথটি হলো সিরাতাল মুস্তাকীম তথা কুর’আনের পথ -যা নবীজী (সা:) ২৩টি বছর যাবত পদে পদে চলে দেখিয়ে গেছেন। এ পথে হিজরত ও দাওয়াত আছে। আছে বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও সশস্ত্র জিহাদ। আছে ভাষা, বর্ণ, আঞ্চলিকতার উর্দ্ধে উঠে প্যান ইসলামী ভাতৃত্ব ও একতা নিয়ে বাঁচা। আছে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ ও সে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার জিহাদ। যে পথে এগুলি নাই, বুঝতে হবে, সেটি নবীজী (সা:)’য়ের তরিকা হতে পারে না। সিরাতাল মুস্তাকীমও নয়।

জাহেল ব্যক্তিগণ নবীজী (সা:)’য়ের সে সঠিক পথটি চিনে না। কারণ তাদেরকে সে পথটি চেনাতে জ্ঞানদান হয়নি। কারণ, বাংলাদেশের মত দেশগুলিতে কুর’আনী জ্ঞানদানের কাজটিই সবচেয়ে উপেক্ষিত খাত। দেশটিত কুর’আনের তেলাওয়াত শেখানো হয়। গুরুত্ব দেয়া হয় হিফজ করাকে। কিন্ত কুর’আন বুঝা ও কুর’আনের অনুসরণ নয়। ফলে এ মুসলিম দেশে শত শত পতিতা পল্লীর জ্বিনার ব্যবসাও বৈধ পেশা গণ্য হয়। আদালতে পরিত্যক্ত হলো শরিয়া আইন; বিচার হয় কুফরি আইনে। অথচ শরিয়া আইন ছাড়া বিচার করলে যে কাফির, জালিম ও ফাসিক হতে হয় -পবিত্র কুর’আনের সে হুশিয়ারি তাদের কাছে গুরুত্ব পায়না। বিদ্রোহ ও বিচ্যুতি নিয়ে বাঁচাই নীতিতে পরিণত হয়েছে। যে পথে কুর’আনের জ্ঞানচর্চা নাই, জিহাদ নাই, ইসলামী রাষ্ট্র নাই, জাতীয়তাবাদী ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতির উর্দ্ধে উঠার তাড়না নাই,  -এমন একটি পথ তার কাছে সঠিক পথ মনে হয়।

অথচ নবীজী (সা)’য়ের তরিকা আঁকড়ে ধরলে এতো তরিকার উদ্ভব হতো না। এ পৃথিবীতে সঠিক পথ মাত্র একটিই -সেটি সিরাতাল মুস্তাকীম, কিন্তু বিচ্যুতির পথ অনেক।  বাংলাদেশের মত দেশে প্রতিটি তরিকা এবং প্রতিটি দলের অনুসারিরা মনে করে, একমাত্র তাদের পথটিই সঠিক, অন্যদের পথটি ভূল। নিজ পথে চলার আনন্দে তারা এতোটাই বিভোর যে, মাতম নাই মহান রব’য়ের বিধানের এরূপ পরাজয় নিয়ে। মাতম নেই মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি নিয়ে। বরং মাতম করে স্রেফ নিজ দল ও নিজ নেতার পরাজয় নিয়ে। শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, শ্রেষ্ঠ সমাজ ও শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র নির্মাণের কুর‌’আনী রোডম্যাপটি অধিকাংশ মুসলিম দেশেই আজ উপেক্ষিত। রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো অধিকৃত হয়ে আছে ইসলামের বিপক্ষ শক্তির হাতে। তারা ধরেছে রাষ্ট্র নির্মাণের সেক্যুলার, জাতীয়তাবাদী,ফ্যাসিবাদী ও রাজতন্ত্রী পথ। ইসলামের থেকে এরূপ বিচ্যুতি কি কোন সত্যিকার ঈমানদার মেনে নিতে পারে? অথচ অধিকাংশ মুসলিম ইসলামের এ পরাজয় মেনে নিয়ে নিজ নিজ এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত। তারা ইসলাম ও মহান রবয়ের এজেন্ডার বিজয় নিয়ে ভাবে না। সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতি এবং ইসলামের সাথে গাদ্দারীই আজ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। ২৯/০৮/২০২৬