ফিরোজ মাহবুব কামাল
নবীজী (সা:)’য়ের ইসলামী রাষ্ট্র: মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন
নবীজী (সা:)’য়ের হাতে নির্মিত ইসলামী রাষ্ট্র কোন মামুলি রাষ্ট্র ছিল না; সেটি ছিল সমগ্র মানব ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র। এর আগে এবং সমকালীন সময়ে রাষ্ট্র বলতে বুঝাতো স্বৈরাচারী রাজার অধিকৃত ভুমি। রাজা ভিন্ন সে রাজ্যে অন্য কারো কোন অধিকার থাকতো না। নাগরিক অধিকারের কোন ধারণাই সে সময় ছিল না। রাজার মৃত্যু হলে রাজপুত্র হতো নতুন রাজা। জনগণ ছিল নিছক প্রজা মাত্র; অতি উচ্চহারে রাজস্ব দিয়ে এবং রাজার পক্ষে যুদ্ধ করে তাদের বাঁচতে হতো। রাজাদের বসবাস ছিল দুর্গে ঘেরা প্রাসাদে; আর প্রজারা বাস করতো মাটির ঘর, ঝুপড়ি বা গুহায়। বহু প্রাসাদ এখনো বেঁচে আছে, কিন্তু প্রজাদের বাসস্থানগুলির একটিও বেঁচে নাই; সবগুলি ঝড় ঝঞ্জায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মানুষ আরবের হাটে বাজারে গরু ছাগলের ন্যায় বিক্রি হতো। ছিল না কোন আইনের শাসন। রাজার কথাই ছিল আইন। জনগণের কোন রাজনৈতিক অধিকার ছিল না; রাজার সামান্যতম সমালোচনা করলে নির্মম ভাবে প্রাণদণ্ড হতো। রাজ পরিবাবের সদস্যরা বিচারের উর্দ্ধে ছিল। রাজার বাহিনী যাকে ইচ্ছা তাকে বিনা বিচারে হত্যা করতে পারতো। সে সময় আরব ভূমিতে কোন রাষ্ট্রই ছিল না; গোত্রে গোত্রে চলতো গোত্রীয় স্বৈরাচার। এমন এক প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয় নবীজী (সা:)’য়ের হাতে ইসলামী রাষ্ট্র। রাষ্ট্র নির্মাণের ইতিহাসে এটি ছিল সম্পূর্ণ এক নতুন অভিজ্ঞতা এবং এক নতুন ইতিহাস।
নবীজী (সা:) নিজে কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজ বিজ্ঞানী বা যুদ্ধ বিশারদ ছিলেন না। রাষ্ট্র নির্মাণ দূরে থাক, গৃহ নির্মাণেও অভিজ্ঞতা লাগে। রাষ্ট্র নির্মাণে নবীজী (সা:)’য়ের সেরূপ কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। অথচ তিনি নির্মাণ করেণ মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র। সর্বশ্রেষ্ঠ ছিল তাঁর প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা ও আইন। এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ছিল তাঁর সামজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যুদ্ধরীতি। গোত্রীয় বিবাদ ও যুদ্ধ বিগ্রহে বিপর্যস্ত আরব জীবনে তিনি শান্তি ফিরিয়ে আনেন। সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় এ ছিল অনন্য রেকর্ড। প্রতিষ্ঠা দেন আইনের শাসন। যে সমাজে শত শত বছরেও কোন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায়নি, সেখানে প্রতিষ্ঠা দেন শক্তিশালী রাষ্ট্র। তাঁকে ৮৩টি যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়, কিন্তু কোন যুদ্ধে তিনি পরাজিত হননি। মাত্র ১০ বছরের মধ্যে মদিনার ক্ষুদ্র নগর রাষ্ট্রকে তিনি বাংলাদেশের চেয়ে ২০গুণ বৃহৎ রাষ্ট্রে পরিণত করেন। সে রাষ্ট্রের উপর সবেচেয়ে শক্তিশালী বিশ্বশক্তি রূপে উত্থান হয় মুসলিম উম্মাহর।
এ পৃথিবী পৃষ্ঠে বহু শত রাষ্ট্র নির্মিত হয়েছে; বহু সাম্রাজ্যও প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, কিন্তু কোন রাষ্ট্রই মানব সভ্যতার গতিপথে এতোটা গুণগত ভাবে এবং এতোটা ব্যাপক ভাবে পরিবর্তন আনতে পারিনি, যতটা এনেছে নবীজী (সা:)’য়ের হাতে গড়ে উঠা ইসলামী রাষ্ট্র। এ পৃথিবীতে লক্ষাধিক নবী রাসূলও এসেছেন, কিন্তু তাদেরও কেউ এরূপ যুগান্তকারী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দেননি। তাই নবীজী (সা:)’য়ের সবচেয়ে বড় লিগ্যাসি শুধু ইসলাম নয়, বরং ইসলামী রাষ্ট্র। ইসলামী রাষ্ট্র ছাড়া ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজ এতোটা ব্যাপক ভাবে সম্ভব হতো না। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত না হলে মহান রাব্বুল আলামীনের সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া আইন পৃথিবী পৃষ্ঠে কোথাও প্রতিষ্ঠা পেত না। এবং প্রতিষ্ঠা পেত না তাঁর ভূ-রাজনৈতিক, বৈচারিক, আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষা সাংস্কৃতিক এজেন্ডা। আজ সেরূপ কোন ইসলামী রাষ্ট্র নাই, ফলে সেগুলি আজ শুধু কিতাবেই রয়ে গেছে। মুসলিমগণ মহান রব’য়ের সে আইন, সে ইচ্ছা ও সে এজেন্ডা পবিত্র কুর’আনে পাঠ করে মাত্র। কিন্তু কিরূপে সে আমলে অর্জিত হলো এতো বড় বিশাল সাফল্য এবং কিরূপে সম্ভব আবার সে পথে ফির যাওয়া -সেটিই হওয়া উচিত ছিল মুসলিম বিশ্বের কোনে কোনে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এ বিষয় চিন্তা ভাবনা ও গবেষণা নিয়ে মুসলিমদের আগ্রহ অতি সামান্যই। অথচ এরূপ একটি ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণই হলো মুসলিম জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা।
পরিত্যক্ত হয়েছে নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম
ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে আজকের মুসলিমদের ব্যর্থতার মূল কারণটি হলো, নবীজী (সা:) যে ইসলাম নিয়ে বেঁচেছিলেন, সে ইসলাম নিয়ে আজকের মুসলিমগণ বাঁচে না। পরিত্যক্ত হয়েছে নবীজী (সা:)’য়ের সে কুর’আনী ইসলাম। নবীজী (সা:)’য়ের ইসলামে শুধু কালেমা পাঠ, নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও তাসবিহ তাহলিল ছিল না, সেগুলির সাথে ছিল মহান রাব্বুল আলামীনের সার্বভৌমত্ব, তাঁর শরিয়া এবং তাঁর এজেন্ডাকে বিজয়ী করার অতি গুরুত্বপূর্ন ফরজ বিষয়। সে ফরজ পালনে অতি অপরিহার্য ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। তাই বিপুল অর্থ ব্যয়ে, শ্রম ব্যয়ে, অর্ধেকের বেশী সাহাবার জীবন দানে এবং নবীজী (সা:) নিজে যুদ্ধে আহত হয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিতে হয়েছিল। অথচ আজকের মুসলিমগণ যে ইসলাম পালন করে তাতে কালেমা পাঠ, নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও তাসবিহ তাহলিল থাকলেও তাতে মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্ব, তাঁর শরিয়া এবং তাঁর এজেন্ডাকে বিজয়ী করার কোন বিধান নাই। সেগুলিকে দ্বীন পালনের অংশ মনে করা হয়না। ফলে তাদের এ ইসলাম পালনে ইসলাম রাষ্ট্র নির্মাণের কোন প্রয়োজন পরে না। মসজিদ, পীরের খানকাহ, সুফি দরগাহ হলেই চলে। তাছাড়া নবীজী (সা:) এবং তাঁর সাহাবাগণ যে সিরাতাল মুস্তাাকীমে চলতেন আজকের মুসলিমগণ সে পথে চলাটাও জরুরি মনে করেনা। নবীজী (সা:)’য়ের সিরাতাল মুস্তাকীমে ছিল হিজরত, ছিল ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও সশস্ত্র জিহাদ এবং ছিল প্রতিক্ষণ সে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার দায় নিয়ে বাঁচা। কিন্তু আজকের মুসলিমগণ সে পথে চলে না। তারা যে পথে চলে সে পথে এগুলির কোনটাই নাই। নামাজের জান্নাতের চাবী মনে করা হয়। যে পথে জিহাদ আছে এবং সে জিহাদে জান ও মালের কুরবানী সে পথে তারা নাই। নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও তাসবিহ তাহলিলের বাইরে যা আছে তা হলো নিজ ঘর থেকে মসজিদ, মিলাদ মাহফিল, ওয়াজ মাহফিল, তাবলিগ জামায়াতের গাশত, চিল্লাহ ও ইজতেমায় যাওয়া। প্রশ্ন হলো, এ পথে আজীবন চলেও কি নবীজী (সা:)’য়ের দেখানো সিরাতাল মুস্তাকীমে চলা যাবে? ফিরে আসবে কি হারানো দিনের গৌরব? সেদিনের বিজয়, গৌরব, স্বাধীনতা ও ইজ্জত ফিরে হতে হলে আজকের বিকৃত ও অপূর্ণাঙ্গ ইসলাম বাদ দিয়ে নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠা দেয়া কুর’আনী ইসলাম ধরতে হবে। আজকের ভ্রান্ত পথ বাদ নবীজী (সা:)’য়ের অনুসৃত সিরাতাল মুস্তাকীমে চলতে হবে। নইলে নাামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও তাসবিহ তাহলিল যতই পালন করা হোক -তা জান্নাতে পৌঁছাবে না। বরং জাহান্নামে হাজির করবে।
ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নবীজী (সা:)’য়ের সাফল্যের মূল কারণ, সে লক্ষ্যে পৌঁছতে তিনি যে রোডম্যাপটি অনুসরণ করেছিলেন -সেটি তাঁর নিজের আবিষ্কৃত ছিল না। সে রোডম্যাপটি তিনি পেয়েছিলেন সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ তায়ালা থেকে -যেমন তিনি পেয়েছিলেন পবিত্র কুর’আন এবং ইবাদত বন্দেগীর রোডম্যাপ। সেগুলি তিনি পেয়েছিলেন হযরত জিবরাইল (আ:) মারফত। তাই রাষ্ট্র নির্মাণে যারা নবীজী (সা:)কে অনুসরণ করে, তারা অনুসরণ করে মহান আল্লাহ তায়ালাকে। নবীজী (সা:)’য়ের সে রোডম্যাপটি যে কতটা নির্ভূল ও সফল -সেটির প্রমাণ আজও ইতিহাসে বেঁচে আছে। তার কোন ব্যর্থতা নজরে পড়ে না। মুসলিম উম্মাহর জন্য অপরিহার্য হলো, নবীজী (সা:) পরীক্ষিত সে রোডম্যাপকে পদে পদে অনুসরণ করা। তাছাড়া এ পথটি শুধু ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের রোডম্যাপ নয়, এটি হলো সিরাতাল মুস্তাকীমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ হলো সিরাতাল মুস্তাকীমের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক; তাই এ মাইল ফলক অতিক্রম না করে জান্নাতের দিকে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব।
তাছাড়া ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ হলো পূর্ণ ইসলাম পালনের একমাত্র উপায়। যেখানে ইসলামী রাষ্ট্র নাই, সেখানে মসজিদ মদ্রাসা যতই থাক, সেখানে পূর্ণ ইসলাম পালনও নাই। কারণ, পূর্ণ ইসলাম পালনের অর্থ শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালন নয়। সেজন্য জরুরি হলো, কুর’আনী জ্ঞানার্জনের ফরজ পালন, শরিয়া পালন এবং দুর্বৃত্তির নির্মূল এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ পালনের ন্যায় বহু ফরজ পালন করতে হয়। ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ ছাড়া সে ফরজগুলি পালনের কাজ অসম্ভব থেকে যায়। অথচ সে ফরজগুলির পালন নিয়েই হলো সিরাতাল মুস্তাকীম। তাই সিরাতাল মুস্তাকীমে যেতে হলে বাঁচতে হবে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদ নিয়ে। এ জিহাদে নিহত হলে জুটে শহীদের মর্যাদা। কিন্তু আজকের মুসলিমগণ সে পথে যাচ্ছে না; তারা ধেয়ে চলেছে বিদ্রোহের পথে। বিদ্রোহের অর্থ তো সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতির পথ। এ বিচ্যুতিটি নিশ্চিত পরাজয়, পতন ও বিপর্যয়ের পথ। সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে এ বিচ্যুতি জাহান্নামে হাজির করবে।
মুসলিম উম্মাহর বিপর্যয়ের বড় কারণ, তারা এ মৌল বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে, পৃথিবী পৃষ্ঠে সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণকর কর্মটি মসজিদ মাদ্রাসা, স্কুল কলেজ, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল বা কলকারখানার নির্মাণ নয়, বরং সেটি হলো ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। মাথা টানলে চোখ কান, নাক মুখ সবই একত্রে আসে, তেমনি ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত হলে শিক্ষা সংস্কৃতি, অর্থনীতি, প্রশাসন, স্বাস্থ, কৃষি, শিল্প ,সড়ক যোগাযোগ, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে বিপ্লব শুরু হয়। তখন ইসলামী রাষ্ট্র পরিণত হয় উন্নত মানব, উন্নত শিক্ষা সংস্কৃতি ও উন্নত সভ্যতা নির্মাণের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ারে। সর্বোপরি তখন সে ইসলামী রাষ্ট্র কাজ করে জনগণকে জান্নাতে নেয়ার বাহন রূপে। সেটি দেখা গেছে নবীজী (সা:) ও খোলাফায়ে রাশেদার শাসনামলে। অপর দিকে অনৈসলামী রাষ্ট্র পরিনত হয় দুর্বৃত্ত উৎপাদনের কারখানায় এবং জাহান্নামের বাহনে। সেরূপ দুর্বৃত্ত অধিকৃত একটি রাষ্ট্রে লক্ষ লক্ষ মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ করেও জনগণকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর কাজটি হয় না। বরং সে দেশে প্লাবন আসে গুম, খুন, চাঁদাবাজী, ধর্ষণ,ব্যাভিচার ও সন্ত্রাসের ন্যায় নানারূপ দুর্বৃত্তির। বাংলাদেশে তো তারই জাজ্জ্বল্যমান দৃষ্টান্ত। এ প্লাবনটি জাহান্নামের দিকে ভেসে চলার।
ট্রেন যেদিকে যায়, যাত্রীদেরও সেদিক যেতে হয়। তেমনি রাষ্ট্র যেদিকে যায়, জনগণকেও সেদিকেই যেতে হয়। এখানে নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছা কাজ করে না। তখন দোয়া দরুদ পাঠ করে গাড়ির গতিপথ পাল্টানো যায় না। তাই সঠিক গন্তব্যে পৌঁছতে সঠিক ট্রেনে উঠতে হয়। তাই জান্নাতে যেতে হলে রাষ্ট্রকে জান্নাতমুখি করতে হয়। অথবা জান্নাতমুখি রাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে হয়। সেরূপ রাষ্ট্র না থাকলে নির্মাণ করতে হয় ইসলামী রাষ্ট্র। তাই মুসলিম উম্মাহর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ভাবে, তাদের ভাবনার শীর্ষে থাকে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ভাবনা। তাছাড়া ঈমানদারের বিবেচনায় ইসলামী রাষ্ট্রের চেয়ে উত্তম কোন রাষ্ট্র থাকতে পারে না; ইসলামী রাষ্ট্র ছাড়া বিকল্প রাষ্ট্র আছে -সেটি বিশ্বাস করলে সেটি হবে সুস্পষ্ট বেঈমানি। সাহাবাগণ সেটি বুঝতেন; ফলে তাদের যুগে মুসলিমদের অর্থ রক্ত, মেধা ও শ্রমের সর্বাধিক খরচ হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে।
খেলাফতে রাশেদার বিলুপ্তি: মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নাশকতা
দেশবাসীকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানো ও জান্নাতে নেয়ায় ইসলামী রাষ্ট্রের চেয়ে সফল ও শক্তিশালী কোন প্রতিষ্ঠান পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন কালেই ছিল না। এখনো নাই। এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। মসজিদ মাদ্রাসা, ওয়াজ মাহফিল ও পীরের খানকার সে সামর্থ্য থাকে না। মহান আল্লাহ তায়ালা সেটি জানতেন। নবীজী (সা:)ও সেটি বুঝতেন। তাই নবীজী (সা:)’য়ের কাছে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি পায় ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রায়োরিটি পায় সে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় সর্ববিধ সহায়তা দেয়া। খোলাফায়ে রাশেদা ও সাহাবাগণ সেটি বুঝতেন; ফলে তাদেরও প্রায়োরিটি হয় যে কোন মূল্যে সে রাষ্ট্রকে বাঁচিয়ে রাখা। রাষ্ট্রের শক্তি ও গুরুত্ব এমন কি শয়তান ও তার অনুসারীরাও বুঝে; ফলে তারাও নিজেদের এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে রাষ্ট্র নির্মাণ করে। কম্যুনিস্টগণ তাই কম্যুনিস্ট রাষ্ট্র গড়ে। এবং পুঁজিবাদীরা গড়ে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র।
ইবলিস শয়তানের ঘোষিত মূল এজেন্ডাটি হলো, যে কোন উপায়ে মানব সন্তানদের জাহান্নামে নেয়া। এজন্যই শয়তান ও তার অনুসারীদের মূল টার্গেট হলো ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণরোধ। কোথাও সেরূপ একটি রাষ্ট্র নির্মিত হলে শয়তান চায় সে রাষ্ট্রের আশু বিলুপ্তি। কারণ ইসলামী রাষ্ট্র হলো জনগণকে জান্নাতে দিকে নেয়ার মহান আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব প্রকল্প; এবং আল্লাহ তায়ালারই সরাসরি নির্দশনায় সে প্রকল্পের প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন নবীজী (সা:) এবং তাঁর একান্ত অনুগত সাহাবাগণ। সে রাষ্ট্রের সুরক্ষায় আল্লাহ তায়ালা বার বার ফিরেশতা পাঠিয়েছেন। ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন থেকেই সেটি শয়তানের টার্গেটে পরিণত হয়। শয়তানের এজেন্ডা ছিল সে রাষ্ট্রের দ্রুত বিনাশ। শয়তানের সে এজেন্ডা পালনে এগিয়ে আসে শয়তানের পৌত্তলিক আরব খলিফাগণ। বদর যুদ্ধ, ওহুদের যুদ্ধ, খন্দকের যুদ্ধ ছিল বস্তুত সে শয়তানী প্রকল্পেরই অংশ। তারা ব্যর্থ হলে শয়তানের প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে আসে রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের স্বৈরশাসকগণ। মুতার যুদ্ধ হয় রোমানদের সাথে; এবং কাদেসিয়ার যুদ্ধ হয় ইরানীদের সাথে। তাদের প্রকল্পও ব্যর্থ হয়।
পৌত্তলিক, রোমান ও পারসিক প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার পর শয়তান মাঠে নামায় ইসলামের ঘরের শত্রুদের। এরা হলো গোত্রবাদী আরবগণ। এগিয়ে আসে উমাইয়া গোত্রের গোত্রবাদীরা। শয়তান এবার সফল হয়; ফলে বিলুপ্ত হয় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রকল্প খেলাফতে রাশেদা। প্রতিষ্ঠা পায় উমাইয়া রাজতন্ত্র। উমাইয়া রাজাদের সে স্বৈরশাসনে নবীজী (সা:) ও খোলাফায়ে রাশেদার হাতে প্রতিষ্ঠিত বিশাল রাষ্ট্রটি চলে যায় উমাইয়া গোত্রের মালিকানায়। আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্বের বদলে রাষ্ট্রের উপর প্রতিষ্ঠা পায় দুর্বৃত্ত উমাইয়া রাজাদের সার্বভৌমত্ব। বিলুপ্ত হয় রাষ্ট্র পরিচালনায় নবীজী (সা:)’য়ের সূন্নত এবং প্রতিষ্ঠা পায় স্বৈর শাসনের বিদয়াত। বহু মুসলিম দেশে আজও বেঁচে আছে সে বিদয়াত। পরিতাপের বিষয় হলো আলেমগণ নানা বিদয়াত নিয়ে কথা বললেও স্বৈরশাসনের এ বিদয়াত নিয়ে তারা নীরব। অথচ সাড়ে ১৪ শত বছরের মুসলিম ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ছিল খেলাফতে রাশেদার বিলুপ্তি। হযরত আদম (আ:)কে জান্নাত থেকে বের করার পর সম্ভবত ইসলামের বিরুদ্ধে নাশকতায় এটিই হলো ইবলিসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। সে নাশকতায় বিলুপ্ত হয়ে যায় অর্ধেকের বেশী সাহাবার শাহাদতে নির্মিত নবীজী (সা:) সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকল্প ইসলামী রাষ্ট্র। শুধু মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে নয়, সমগ্র মানব জাতির বিরুদ্ধে এটিই হলো সবচেয়ে বড় নাশকতা। মানব জাতি হারায় নবীজী (সা:)’য়ের হাতে গড়া জান্নাতের বাহন।
যে ভাবে আড়াল করা হয়েছে অপরাধীদের
কিরূপে বিলুপ্ত হলো মহান আল্লাহ তায়ালার প্রকল্প ইসলামী রাষ্ট্র এবং কিরূপে বিজয় পেল শয়তানের প্রকল্প -সেটিই মুসলিম ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। অতীত গৌরবের দিকে ফিরতে হল অতীত ব্যর্থতার ইতিহাসটিও জানতে হয়। নইলে একই ব্যর্থতা আবারো ঘটবে। কিন্তু বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশগুলিতে সে ইতিহাস পড়ানো হয়না। কারণ মুসলিম দেশগুলি অধিকৃত তাদের হাতে যারা কখনোই ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা চায়না। ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার অর্থ তাদের নিজেদের আধিপত্যের বিলুপ্তি। ফলে মুসলিম বিশ্বে আড়ার করা হয়েছে তাদের ভূমিকা -যারা সেদিন কাজ করেছিল শয়তানের এজেন্ট রূপে। ইসলামী রাষ্ট্রের বিলুপ্তিতে সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে উমাইয়া বংশীয় সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া। হযরত আলী (রা:) খলিফা নির্বাচিত হলে সকল প্রদেশের গভর্নরগণ তাঁকে খলিফা রূপে মেনে নেয়। কিন্তু মুয়াবিয়া বিদ্রোহ করে ও জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফফিনে খলিফা হযরত আলী (রা:)’য়ের বিরুদ্ধ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। একজন খলিফায়ে রাশেদা ও আমিরুল মু’মিনিনের বিরুদ্ধে এমন বিদ্রোহ ছিল হারাম; শরিয়তের বিচারে এ বিদ্রোহের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। মুসলিমদের উপর ফরজ শুধু আল্লাহ ও তার রাসূলের হুকুমের আনুগত্য নয়, আনুগত্য করতে হবে তাদেরও যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত -অর্থাৎ খলিফা বা আমিরুল মু’মিনুন। যেমন নিচের আয়াতে বলা হয়েছে:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত।” -(সুরা নিসা, আয়াত ৫৯)।
যখন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ আসে তখন সে হুকুম মানা ফরজ হয়ে যায়। না মানলে কাফির হতে হয়। অমান্য করার পরও কেউ যদি নিজে মুসলিম রূপে দাবী করে, তবে বুঝতে হবে সে মুনাফিক। এটিই ইসলামের বিধান। উপরের আয়াতে হুকুম দেয়া হয়েছে আল্লাহ তায়ালার ও তাঁর রাসূলে সাথে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের হুকুম মানার। হযরত আলী (রা:) কোন মামুলি ব্যক্তি ছিলেন না । তিনি খোলাফায়ে রাশেদার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন খলিফা, তিনি ছিলেন আমিরুল মু’মিনিন। ফলে তাঁর শাসনকালে তাঁর চেয়ে অধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি আর কি ছিলেন? অথচ মুয়াবিয়ার ফরজ ছিল হযরত আলী (রা:)’য়ের নির্দেশ মান্য করে সিরিয়ার গভর্নর পদ থেকে ইস্তেফা দেয়া। কিন্তু সে হুকুম না মেনে বরং বিদ্রোহ করেছে এবং খলিফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। অতএব কুফুরি করছে এবং হত্যাযোগ্য অপরাধ করেছেন।
বিস্ময়ের বিষয় হলো, যে মুয়াবিয়া খোলাফায়ের রাশেদার বিলুপ্তি ঘটিয়ে রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা দিল, সে অপরাধী মুয়াবিয়ার প্রতি বহু মুসলিম -এমন কি বহু আলেম নামধারী ব্যক্তি সম্মান দেখায়। খলিফায়ে রাশেদার বিরুদ্ধে যে মুয়াবিয়া জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফফিনে হারাম যুদ্ধ করলো, সে মুয়াবিয়ার কুফুরি নীতিকে অনেকে নিন্দা পর্যন্ত করতে রাজী নয়। মুয়াবিয়ার অপরাধ কর্মকে নিন্দা করলে সেটিকে তারা সাহাবাদের অবমাননা বলে। প্রশ্ন হলো, মুয়াবিয়া সত্যিকার সাহাবা হলে সে কি কখনো খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতো? আব্দুল্লাহ বিন উবাই নবীজী (সা:)’য়ের পিছনে নামাজ পড়ে এবং রোজা রেখেও মুসলিম হতে পারেন, সে মুনাফিক হয়েছে। তেমনি মুয়াবিয়া ওহীর লেখক হয়েও ওহীর অনুসারি প্রকৃত সাহাবী হতে পারিনি। মহান আল্লাহর কুর’আনী হুকুমের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি এরূপ অবাধ্যতা দেখায়, সে কি কখনোই মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় হতে পারে? এমন অবাধ্য ব্যক্তি প্রিয় হতে পারে না কোন ঈমানদারে কাছেও। খলিফা হয়রত আলী (রা:) ও তাঁর সাথী সাহাবাদের কাছে মুয়াবিয়া একজন সত্যিকার সাহাবী গণ্য হলে তাঁরা কি তার হত্যা করতে জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফফিনে যুদ্ধ করতেন? মুয়াবিয়ার বিচারে হয়রত আলী (রা:) ও তাঁর সাথীদের বিচারের চেয়ে আজকের মুয়াবিয়া ভক্তদের বিচার অধিক সঠিক?
প্রশ্ন হলো, মুয়াবিয়ার অপরাধের সমালোচনা যদি সাহাবাদের অবমাননা হয়, তবে হয়রত আলী (রা:)ও হযরত আম্মার বিন ইয়াসিরের ন্যায় যেসব উচ্চ মরতবার সাহাবী তাকে হত্যা করতে তরবারি হাতে যুদ্ধ করেছিলেন, তাদেরকে কি বলা যাবে? তাছাড়া উমাইয়াদের শাসনামলে জুম্মার খোতবায় হয়রত আলী (রা:) এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে যে কুৎসা রটনা ও গালি গালাজ করা হতো -সেটি কি সাহাবাদের অবমাননা ছিল না? তাদের সে নীতির বিরুদ্ধে মুয়াবিয়াভক্তদের নিন্দা কই?এসব মুসলিমদের দুর্গতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা মুয়াবিয়া মত গুরুতর অপরাধীকে ঘৃণা করার ঈমানী বলও হারিয়ে ফেলেছে। অথচ একজন ব্যক্তির ঈমান দেখা যায় সত্য ও মজলুমের পক্ষে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো দেখে। মুয়াবিয়ার ঘৃণ্য অপরাধগুলির নিন্দার জন্য শিয়া হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, মুসলিম হলেই যথেষ্ট।
মুয়াবিয়ার পরিচয় হলো, সে এবং তার পিতা আবু সুফিয়ান ছিল উমাইয়া বংশের তোলকা। ইসলামের ইতিহাসে তোলাকা তাদের বলা হয়, যারা ইসলাম কবুল করেছিল মক্কা বিজয়র পর। মুয়াবিয়া তাই ইসলামের আকর্ষণে ঘর বাড়ি ছেড়ে মুসলিম হয়নি। বরং মুসলিম উম্মাহ যখান বিশাল ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দেয় তখন মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে আসে এবং পরবর্তীতে সিরিয়ার গভর্নর পদে আসীন হয়। তাকে তাই হযরত আলী (রা:)’র ন্যায বদর, ওহুদ, খন্দকের যুদ্ধে কাফিরদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়নি। খলিফা হযরত আলী (রা:)’য়ের আমলে যারা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের শীর্ষে ছিল উমাইয়া বংশীয় এই তোলাকারা। হাশেমী গোত্রের হযরত আলী (রা:)’য়ের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষমতা দখলের লড়াইকে উমাইয়ারা একটি গোত্রীয় যুদ্ধে পরিণত করে।
মুয়াবিয়ার সবচেয়ে বড় অপরাধটি হলো, নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের সে বিলুপ্তি ঘটায় এবং প্রতিষ্ঠা দেয় উমাইয়াদের গোত্রীয় রাজতন্ত্রের। এভাবে ফিরিয়ে আনে জাহেলি যুগের গোত্রবাদী হারাম শাসন ব্যবস্থাকে। এরপর উমাইয়ারা ঝাণ্ডা তুলে ধরে আরব জাতীয়তাবাদের হারাম মতবাদকে; এতে দ্রুত থেমে যায় ইসলামের প্রসার। কারণ, জাতীয়তবাদীদের কখনোই অন্য ভাষা, অন্য অঞ্চল ও অন্য বর্ণের লোকেরা আপন করে নেয়না; তাদেরকে বরং মন দিয়ে ঘৃণা করে। ফলে আরব জাতীয়তবাদের কারণে উমাইয়াদের শাসনামলে অতি অল্প সংখ্যক ইরানী মুসলিম হয়েছিল। বেশির ভাগ ইরানী মুসলিম হয়েছে উমাইয়া শাসনের বিলুপ্তির পর।
মুয়াবিয়ার রাজতন্ত্রী আদর্শ নিয়ে মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিতে আজও অনেকে সক্রিয়। তাদের পিছনে রয়েছে বিপুল সংখ্যক মোল্লা মৌলভী, আলেম, ইমাম, পীর এবং নানা জাতের ধর্মব্যবসায়ী। তারা এতোটাই বিভ্রান্ত যে, খেলাফতে রাশেদার বিরুদ্ধে মোয়াবিয়ার নাশকতাকে নিন্দা পর্যন্ত করতে রাজী নয়। মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদের বর্বর বাহিনী নবীজী (সা:)’য়ের নাতি ইমাম হোসেনকে যেরূপ নৃশংস ভাবে শহীদ করে, তার মস্তক যেভাবে কর্তন করে দামেশকে এজিদের দরবারে নিয়ে যায়, এবং তার লাশের উপর যেভাবে ঘোড়া দাবড়িয়ে দেয় -সেসব নৃশংসতাও তাদের হৃদয়ে নাড়া দেয় না! এজন্যই ১০ মহররম এলে মুয়াবিয়া ভক্তদের নীরব দেখা যায়। প্রশ্ন হলো, বিবেকের এমন মৃত্যু নিয়ে কি মুসলিম হওয়া যায়? বস্তুত আজকের মুসলিমদের ব্যর্থতা শুধু ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে নয়; বরং মূল ব্যর্থতাটি হলো পূর্ণ মুসলিম হওয়ায়। তাই শুরুর কাজটি শুরুতে করতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজের শুরু হওয়া উচিত পূর্ণ মুসলিম হওয়া এবং অন্যদের পূর্ণ মুসলিম করার প্রকল্প দিয়ে -যেমনটি করেছিলেন নবীজী এবং তারা সাহাবাগণ। এছাড়া কোন সহজ রাস্তা নাই। ২৪/০৮/২০২৬