• ঢাকা |

স্বাধীনতা বাঁচাতে হলে বন্ধু খুঁজতে হবে ও শক্তিশালী জোট গড়তে হবে


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ফিরোজ মাহবুব কামাল

ভারত বাংলাদেশকে গোলাম বানাতে চায়

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের এজেন্ডা গোপন নয়, অতি সুস্পষ্ট। সম্প্রতি কলকাতার রাস্তায় একজন অতি সাধারণ হিন্দু মহিলা সোসাল মিডিয়াতে ভারত সরকারের মনের কথাটি বলে দিয়েছে। সে দ্বিধাহীন চিত্তে বলেছে, “বাংলাদেশ আমাদের কাছে বাংলাদেশ নয়, সেটি পূর্ব বাংলা। পূর্ব বাংলা ভারতের অংশ। আমাদের পূর্ব বাংলা স্বাধীন থাকতে পারে না। সেখানে শাসন করবে আমাদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী -যেমন ছিল শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা।” এ মহিলা কুটনীতি বুঝে না, তাই ভারত সরকার বা ভারতের রাজনীতিবিদরা যা প্রকাশ্য বলতে সংকোচ করে, উক্ত মহিলা তা মন খুলে বলে দিল। একটি দেশের জনগণ ও সরকারের মতিগতি বুঝতে হলে সে দেশের সাধারণ মানুষ রাস্তা ঘাটে কি বলে তা জানতে হয়। কারণ তারাই ঘরের কথা বাইরে বলে দেয়। স্বাধীন বাংলাদেশ যে ভারত সরকারের কাছে অসহ্য, সেটি তাই কোন গোপন বিষয় নয়।

ভারত সরকারের রয়েছে প্রচণ্ড বাংলাদেশ ভীতি। কারণ বাংলাদেশের অবস্থান তার পেটের মধ্যে। তাই স্বাধীন বাংলাদেশকে ভারত তার নিরাপত্তার জন্য বিপদ মনে করে। তাই পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দ্র অধিকারী নির্বাচনি প্রচার কালে ঘোষণা দিয়েছিল কয়েক ঘন্টার মধ্যে বাংলাদেশ দখলের। ভারতের নীতি, বাংলাদেশ দখলে নেয়া -যেমন দখলে নিয়েছিল ১৯৭১’য়ে। ভারত চায়, বাংলাদেশ হবে ভারতের একটি আশ্রিত রাষ্ট্র। দিল্লি চায়, বাংলাদেশ হবে তার অর্থনৈতিক বাজার; এবং ভারতীয় পণ্যের জন্য খুলে দিবে সীমান্ত। এবং চায়, বাংলাদেশের বুকের উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে যাওয়ার করিডোর। হাই ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক লাইনের জন্য চায় করিডোর। চায়, বাংলাদেশ সুবিধা দিক সমুদ্র ও নদী বন্দরের এবং সহায়তা দিক উত্তর-পূর্ব সাতটি রাজ্যের বিদ্রোহীদের দমনে। মুজিব, হাসিনা এবং এরশাদ সে সহায়তাগুলি লাগাতর দিয়েছে। ভারত চায়, বর্তমান সরকারও সে শেষ সুবিধাগুলি অব্যাহত রাখুক। ভারত এ সুবিধাগুলিকে তার নিজের জন্য অপরিহার্য মনে করে।

ভারতের মোকাবেলার সামর্থ্য বাংলাদেশের নাই                                                                                                   

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ একা কখনোই বিশাল ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পারবে না। ১৯৭১’য়ে পাকিস্তানও পারিনি। কারণ ভারত ১৪৫ কোটি মানুষের বিশাল দেশ; বিশাল তাঁর সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি। বাংলাদেশের এ সামরিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারকে অবশ্যি বুঝতে হবে। এজন্যই উচিত হবে শক্তিশালী বন্ধু খোঁজা। স্বাধীনতা বাঁচানোর এ ছাড়া ভিন্ন পথ নই। বুঝতে হবে জোট বাঁধা ও একতাবদ্ধ হওয়াটি মুসলিমের কাছে স্রেফ ভূ-রাজনীতি নয়, বরং পবিত্রতম ইবাদত। বরং বিভক্ত থাকাটি কবিরা গুনাহ। একতা মহান আল্লাহর রহমত আনে; এবং বিভক্তি আযাব আনে।

যদি সম্ভব হয়, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরবের সাথে সামরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা। সম্ভব হলে দেরি না করে বাংলাদেশের উচিত মক্কা সামরিক সহযোগিতা চুক্তিতে যোগ দেয়া। চুক্তিতে বাংলাদেশকে নেয়ায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের আগ্রহ আছে। সে আগ্রহের দ্রুত সদ্ব্যবহার করা উচিত। বুঝতে হবে শত্রুর শত্রু ভাল বন্ধু হয়। পাকিস্তান যেহেতু ভারতের শত্রু, অতএব পাকিস্তানই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু।  তুরস্কও বাংলাদেশের ঘনিষ্ট বন্ধু হবে। তার ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে। তুর্কু বীর ইখতিয়ার মহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি ও তাঁর ২০ জন তুর্কি সৈনিকের বাহিনী হিন্দুদের অধিকৃতি থেকে বাংলাকে স্বাধীন করেছিল। সেটি তুর্কিদের ইতিহাসের অংশ। সে স্বাধীনতা বাঁচতে আজও আগ্রহী হবে সেটাই স্বাভাবিক।  

প্রত্যেককে সৈনিক হতে হবে

সে সাথে  জরুরি হলো বাংলাদেশের প্রতিটি ছাত্র ও নাগরিককে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। স্বাধীনভাবে বাঁচতে হলে প্রতিটি বাংলাদেশীকে সৈনিক হতে হবে। এর বিকল্প নাই। বুঝতে হবে, মুসলিম হওয়ার অর্থ শুধু নামাজী ও রোজাদার হওয়া নয়, বরং সৈনিক হওয়াও। নবীজী (সা:)’য়ের এমন কোন সাহাবা ছিলেন না, যিনি সৈনিক ছিলেন না। যারা সৈনিক হয়নি তাদের মুনাফিক বলা হয়েছে। মুসলিমদের আজকের ব্যর্থতার মূল কারণ, তারা বিপুল সংখ্যায় নামাজী, রোজাদার ও হাজী হয়েছে, কিন্তু সৈনিক হয়নি।  বুঝতে হবে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসী ভারত ঘেরা বাংলাদেশীদের জন্য স্বাধীনতাকে সুরিক্ষিত করার চেয়ে অধিক গরুত্বপূর্ণ কোন এজেন্ডা থাকতে পারে না।

বুঝতে হবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাঁচানোর দায় শুধু বেতনভোগী সেনাবাহিনী বা বাংলাদেশ সরকারের নয়। দায়টি প্রতিটি নাগরিকের। নিজ অর্থ ও নিজ সামর্থ্য এ কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।  এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে, ব্যর্থতা কখনো একাকী আসবে না, সাথে আসবে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে গুরুতর শাস্তিও। এবং সে শাস্তির শুরুটি হবে ভারতের গোলামী দিয়ে।

ভারত হলো আরেক ভয়ানক ইসরাইল

বুঝতে হবে, ভারত বাংলাদেশের জন্য এক ভয়নাক ইসরাইল। এ আগ্রাসী ইসরাইল থেকে বাঁচতে হলে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়া নামাজ রোজার ন্যায় প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরজ। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তায়ালার সুস্পষ্ট নির্দেশ এসেছে সূরা আনফালের ৬০ নম্বর আয়াতে। ভারত সরকার এবং ভারতের বাংলাদেশী এজেন্টগণ চায়না, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দিক। তারা চায়, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে একাকী থাকুক। কারণ তারা জানে, বাংলাদেশ একাকী হলে ভারতের পক্ষে দেশটি গিলে ফেলার কাজটি সহজ হবে। এমন ভারতপন্থীরাই হলো ভারতের ন্যায় বাংলাদেশের শত্রু। এরা এটিও চায় না, বাংলাদেশের শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকুক। তারা চায় না, বাংলাদেশের মানুষ সামরিক দিক দিয়ে প্রশিক্ষিত হোক। এরা বাংলাদেশকে দুর্বল ও পরাধীন দেখতে চায়। বাংলাদেশকে স্বাধীনতাহীন করতে ভারতের সাথে ৭ দফা ও ২৫ সালা চুক্তি করেছিল। এবং সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী না করে রক্ষিবাহিনী গড়েছিল।

ভারত যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কতটা নৃশংস, সেটি বুঝতে হলে ভারতীয় মুসলিমদের প্রতি তাদের আচরণ দেখতে হবে। তারা বুল ডোজার দিয়ে মুসলিমদের ঘর ভাঙছে এবং মসজিদ মাদ্রাসা গুড়িয়ে দিচ্ছে। ইসরাইলীরা মনে করে ফিলিস্তিন একমাত্র তাদের; ফলে ফিলিস্তিন থেকে ফিলিস্তিনীদের নির্মূল চায়। তারা ভাবে না, ফিলিস্তিনীরা কোথায় যাবে? ভারতও মনে করে, ভারত ভূমি একমাত্র হিন্দুদের, তাই তারাও মুসলিমদের নির্মূল চায়। ভারতীয়রা ভাবে না, মুসলিমরা কোথায় যাবে? তাই ভারতের হাতে নির্মূল হওয়া থেকে বাঁচতে হলে আমাদের সবাইকে স্বাধীনতা বাঁচানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতি নিতে দেরী হলে বিপদটি আরো ভয়ানক রূপে ধেয়ে আসবে। ২৫/০৮/২০২৬