কল্লোল আহমেদ লালমনিরহাট: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার প্রতিবাদে লালমনিরহাটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে) জেলা শহরের মিশন মোড় চত্বরে এই কর্মসূচির আয়োজন করে গণসংহতি আন্দোলন লালমনিরহাট জেলা শাখা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে যুদ্ধবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। তারা বলেন, যুদ্ধ কখনো কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না; বরং এতে নিরীহ সাধারণ মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয়ে পড়ে।
কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং লালমনিরহাট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক দীপক কুমার রায়। তিনি বলেন,
“সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নিজেদের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য ইরানের ওপর অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই আগ্রাসন শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধেও এক গুরুতর অপরাধ। আমরা এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব পরিহার করে অবিলম্বে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থান জোরদার করতে দেশ-বিদেশের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় এই ধরনের সংঘাত ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আরিফ রিপন, ব্যবসায়ী দুলাল হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, যুদ্ধের ফলে শুধু একটি অঞ্চল নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতি, মানবিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ে। তাই অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মিশন মোড় এলাকায় এসে শেষ হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিশ্বশান্তি বিনষ্টকারী যেকোনো আগ্রাসন ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তারা শান্তি, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক সংহতির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।