আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে নারীদের ভূমিকা পুরুষের তুলনায় কোন অংশে কম নয় - ইসলামী মহিলা মজলিস
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ ডিসিসি হলে বাংলাদেশ ইসলামী মহিলা মজলিসের উদ্যোগে ’আদর্শ সমাজ গঠনে মহানবী স. এর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নাসরিন কাদেরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদিকা রায়হানা মালিক লোপা'র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা পেশ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ উম্মে মাহদী।
আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ স. দেড় হাজার বছর পূর্বে মদীনায় ইনসাফ, মানবাধিকার, সুশাসন, শিক্ষা ও নৈতিক উৎকর্ষতার যে সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন তা বিশ্ববাসীর জন্য আজও সবচেয়ে বেশি অনুকরণীয়। সেখানে বর্ণ, গোত্র বা সামাজিক পদমর্যাদার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সমাজে সব মানুষের সমান অধিকার ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা কায়েম করেন।শাসক বা প্রশাসকদের জন্য জনকল্যাণ, নম্রতা ও ইনসাফকে বাধ্যতামূলক করেন। ঐতিহাসিক মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মের মানুষের মধ্যে নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করেন।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ স. দাস-দাসী ও অধীনস্তদের প্রতি সদয় আচরণ করার নির্দেশ দেন এবং তাদের মুক্ত করা ও কাজের চাপ কমানোর প্রতি বিশেষ জোর দেন। তিনি নারীর বিরুদ্ধে জাহেলী সমাজের সকল কুসংস্কারাচ্ছন্নতা দূর করে তাদের সম্মানজনক অধিকার ও পারিবারিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে এবং জ্ঞান অর্জনকে সর্বস্তরে গুরুত্ব দেন। ‘আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার’ নীতির মাধ্যমে সমাজ থেকে যাবতীয় অন্যায় ও অসৎ কাজ দূর করার ভিত্তি স্থাপন করেন।
আলোচনা সভায় মহিলা মজলিস নেতৃবৃন্দ নারীদের ভূমিকার প্রতি জোর দিয়ে আরো বলেন, একটি আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে নারীদের ভূমিকা পুরুষের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ স. এর যুগে মুসলিম নারীরা ইসলামি সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁরা জ্ঞানচর্চা, হিজরত, যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ছিলেন।
হযরত খাদিজা, নুসাইবা, সুমাইয়া ও আসমা (রা.)–এর মতো নারীরা ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় জীবন ও সম্পদ কুরবানি করে অমর হয়ে আছেন। হযরত ফাতিমা, উম্মে সালামা ও আয়েশা রা. এর মত অনেক নারী রাসুলের স. কাছ থেকে সরাসরি জ্ঞান অর্জন করতেন, তাঁর বাণী মুখস্থ করতেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতেন।
রাসুল স. এর যুগে নারীরা যুদ্ধে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন। নুসাইবা বিনত কা’ব ওহুদের যুদ্ধে নবীজিকে রক্ষা করতে গিয়ে ১২টি ক্ষত সহ্য করেছিলেন। আসমা বিনত উমাইস, উম্মে সালিম, আল-রুবাইয়ি বিনত মুআওয়ায এবং রুফাইদা আল-আনসারিয়ার মত নারীরা যুদ্ধে আহতদের সেবা করতেন। একজন নারী খলিফা উমর রা.-এর মজলিশে তাঁর মোহর সম্পর্কিত ভুল বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং কোরআনের আয়াত (সুরা নিসা, আয়াত: ২০) উল্লেখ করে তাঁকে সংশোধন করেন। উমর বলেছিলেন, ‘একজন নারী ওমরের সঙ্গে তর্ক করে তাঁকে পরাজিত করেছে!’
একটি আদর্শ ও সুখী পরিবার গঠনে নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মা হিসেবে একজন নারী হলেন সন্তানের প্রথম শিক্ষক, নৈতিকতার আধার এবং একটি সুস্থ পরিবারের মূল ভিত্তি। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, স্ত্রী তার স্বামীর পরিজনবর্গ এবং সন্তানদের তত্ত্বাবধানকারিণী। তিনি আরো ঘোষণা দিয়েছেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত। একটি আদর্শিক পরিবার গড়ে তুলতে নারীকে একজন আদর্শ স্ত্রী, আদর্শ মা এবং আদর্শ গৃহব্যবস্থাপক হওয়ার জন্য ইসলাম সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেছে। পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে পর্দা ও শালীনতার সাথে যখাযখ ভূমিকা পালনেরও সুযোগ দিয়েছে।