মোঃ ইসমাইল হোসেন, দিনাজপুর: দিনাজপুরের সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের কর্নাই গ্রাম, যা একসময় অনাবাদি ও বেলে মাটির জন্য পরিচিত ছিল, আজ সেখানে বাতাসে দুলছে সোনালি ধানের শীষ। একসময় যে জমি শুধু রবি শস্যের জন্য ব্যবহৃত হতো, সেখানেই এখন সফলতার নতুন গল্প লিখছেন কৃষকেরা। সমবায় ভিত্তিতে ব্রি ধান-৯৮ জাতের আউশ ধান চাষ করে এ গ্রামের কৃষকেরা শুধু নিজেদের ভাগ্যই বদলাচ্ছেন না, অবদান রাখছেন দেশের অর্থনীতিতেও।
কর্নাই গ্রামের কৃষকদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। মাত্র ১১০ দিনের মধ্যে বাম্পার ফলন পেয়েছেন তারা। প্রতি একরে ফলন হয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ মণ পর্যন্ত। স্থানীয় কৃষক রশিদ ইসলাম জানান, তিনি ৮৫ শতক জমিতে ৮৫ মণ ফলন পেয়েছেন, যা বিক্রি করে আলুর মৌসুমের খরচ মেটাতে পারবেন।
ধানের দামও বেশ ভালো, প্রতি মণ ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। শুধু ধান নয়, গোখাদ্যের সংকটের সময়ে খড়ও কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। ১শ আঁটি খড় বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। কৃষক আজীম উদ্দীন বলেন, এই সময়ে ফসল ঘরে তোলা তাদের জন্য আল্লাহর রহমত, কারণ এটি তাদের হাতে টাকা এনে দেয়।
কৃষকেরা জানান, সমবায় ভিত্তিতে চাষ করার কারণে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও কমেছে। ফলে ফলন যেমন বেড়েছে, তেমনি কৃষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষক আরও জানান, এই সাফল্যের কারণে আগামী বছরও তারা একই জাতের ধান আবাদ করার পরিকল্পনা করছেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম তুষার জানান, এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সরকারের এই নির্দেশনার ভিত্তিতেই কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে আউশ ধান চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকেরা এখন স্বল্প সময়ে ফলন পাচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান আরিফ বলেন, আগে এ অঞ্চলের জমিতে আমন ধান তেমন ফলত না। কিন্তু এখন সরকারের উদ্যোগে আউশ ধান চাষ শুরু হওয়ায় একই জমিতে তিন ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকেরা ধান এবং খড় বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভবান হচ্ছেন।
এ বছর দিনাজপুর উপজেলায় ৬৭০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদ হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২২০ কোটি টাকা। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্নাই গ্রামের এই সাফল্য অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকদেরও আউশ ধান চাষে আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা করা যায়, যা দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।