প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে প্রাণ হারান। বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা, এই পাশবিকতা শুধু শহীদ পরিবারের বুকই শূন্য করেনি, সমগ্র জাতিকে গভীর শোক ও বেদনায় নিমজ্জিত করেছিল। ইতিহাসের এই নির্মম অধ্যায় আমাদের রাষ্ট্রজীবনে এক অমোচনীয় ক্ষত হয়ে আছে।
শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন,
২৫-২৬ ফেব্রুয়ারির হত্যাযজ্ঞ আমাদের জাতীয় জীবনের এক কালো অধ্যায়। যারা দেশ রক্ষার শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাদের এমন নৃশংস পরিণতি জাতির জন্য গভীর বেদনার। আমরা শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করি।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পিলখানা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নাম ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের আলামত উঠে এসেছে বলে তারা উল্লেখ করেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য। এত বছর পরও প্রকৃত দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি না হওয়াটা জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
তারা বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ কেবল শোক প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; প্রয়োজন একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা,যেখানে ষড়যন্ত্র, অব্যবস্থাপনা ও দায়হীনতার কোনো স্থান থাকবে না।
এবি পার্টি বিশ্বাস করে, শহীদ সেনা দিবস কেবল স্মরণের দিন নয়,এটি আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারের দিন। শহীদদের আত্মত্যাগকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে একটি মানবিক, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা।
আল্লাহ শহীদদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।