গণজাগরণ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা তথা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল যা টাইপ-১ ডায়াবেটিস শিশু-কিশোরদের চিকিৎসাব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। শনিবার ১১ অক্টোবর রাজধানীতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সাইয়েদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সহ স্বল্পোন্নত দেশ গুলোর হাজার হাজার টাইপ-১ ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশু কিশোর উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুধু বৈজ্ঞানিক ফলাফল নয়, বরং নীতিগত পরিবর্তনের পথ সুগম করবে। বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে টাইপ-১ ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে এটি এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রেসিডেন্ট জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাডাস-এর মহাসচিব মো. সাইফ উদ্দিন। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ-এর গ্লোবাল প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ড. লুও জিং (Dr. Luo Jing), লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন-এর ড. এইমহিন এনসব্রো (Dr Éimhín Ansbro) ও মার্গারেট প্রাস্ট (Margaret Prust) এবং লোকাল প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর (পিডিআরসি) ডা. বেদৌরা জাবীন।
গবেষণাটির অর্থায়ন করে দি লিওনা এম এন্ড হ্যারি বি. হেমসলি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট (The Leona M. and Harry B. Helmsley Charitable Trust)। পুরো গবেষণা কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ (University of Pittsburgh, USA)।
গবেষণা কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠান বারডেমে অবস্থিত পেডিয়াট্রিক ডায়াবেটিস রিসার্চ সেন্টার ( পিডিআরসি) (Paediatric Diabetes Research Centre)
৭ থেকে ২৫ বছর বয়সী টাইপ-১ ডায়াবেটিস শিশু-কিশোরদের নিয়ে পরিচালিত এই ট্রায়ালে দু' ধরনের ইনসুলিন-এনালগ (গ্লার্জিন) ও হিউম্যান ইনসুলিনের কার্যকারিতা তুলনা করা হয়। গবেষণার ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে বক্তারা উপাত্ত তুলে ধরেন। তারা বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ইনসুলিন Analog (গ্লার্জিন) হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধে এবং রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে হিউম্যান ইনসুলিনের তুলনায় বেশি কার্যকর, যা চিকিৎসা নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
গবেষণায় শুধু চিকিৎসাগত ফলাফল নয়, আরও অন্তর্ভুক্ত ছিল শিশু-কিশোরদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ।