ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলাকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত করার লক্ষ্যে ১৫ দিনব্যাপী রোগী অনুসন্ধান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত চলমান এ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ আবু মাহমুদ তালহা। সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রসবজনিত ফিস্টুলা নারীদের একটি নীরব ও মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা। দীর্ঘদিন সামাজিক লজ্জা, অজ্ঞতা ও বিলম্বিত চিকিৎসার কারণে এ রোগ আড়ালে থেকে যায়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দক্ষ ও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ঘরে ঘরে সম্ভাব্য রোগী শনাক্তের মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ক্যাম্পেইন চলাকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং কমিউনিটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্ভাব্য রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। সন্দেহভাজন রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টারে রেফার করা হবে।
সনাক্ত রোগীদের চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় বিনামূল্যে বহন করা হবে। চিকিৎসা শেষে দরিদ্র রোগীদের পুনর্বাসন সহায়তাও প্রদান করা হবে। পাশাপাশি কোনো ফিস্টুলা রোগীর তথ্য প্রদানকারীকে নগদ এক হাজার টাকা সম্মানী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা জানান, দীর্ঘসময় বাধাগ্রস্ত প্রসব বা অপারেশনজনিত জটিলতার কারণে প্রসবের পথ দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রস্রাব বা পায়খানা নির্গত হওয়াই প্রসবজনিত ফিস্টুলার প্রধান লক্ষণ। দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করলে এ রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী ২৩ মে আন্তর্জাতিক ফিস্টুলা দিবস উপলক্ষে লালমোহন উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিস্টুলামুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে। বিনামূল্যে সেবার জন্য ০১৭১২৬৬৭৫৪৫ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল-এর আর্থিক সহায়তায় এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ-এর কারিগরি সহযোগিতায় SR-MNCAH প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। অনুষ্ঠানের শেষে স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।