• ঢাকা |

রাজশাহী মেডিকেলে সাপেকাটা রোগীর মৃত্যুহার এখন শূন্য


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

শামীম রহমান,  রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত এক মাসে সাপের কামড়ে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। নতুন করে চালু হওয়া বিশেষায়িত সাপের কামড় ও বিষবিদ্যা ওয়ার্ড কার্যক্রম শুরু করার পরই এ সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুলাই থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত রামেকে সাপে কাটা মোট ৭৯৫ জন রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে ৩৪১ জন বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত ছিলেন। শুধু রাসেলস ভাইপারের কামড়ে ভর্তি হন ৬৮ জন। এসব রোগীর মধ্যে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়। তবে ২৩ অক্টোবর নতুন ১২ শয্যার বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালুর পর থেকে চিত্র বদলে যায়। ২৪ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেন ১১১ জন রোগী—এর মধ্যে ৭৫ জন বিষহীন ও ৩৬ জন বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত। এই সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি।
হাসপাতালের পুরোনো ক্যানটিনের স্থানে গড়ে ওঠা এইচডিইউ-মানের এই ওয়ার্ডটি সাপের বিষজনিত জটিলতা—শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা ও স্নায়বিক সমস্যার দ্রুত চিকিৎসার সুবিধা নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে রয়েছে আটজন পুরুষ ও চারজন নারীর জন্য শয্যা। সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা, প্রশিক্ষিত টিম এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রামেকের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, রাসেলস ভাইপারের কামড়ে আগে মৃত্যুহার ছিল ২৭ শতাংশ। এখন সমন্বিত চিকিৎসা, দ্রুত সেবা এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহের কারণে মৃত্যুহার অনেকটাই কমে এসেছে। রোগী ওয়ার্ডে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু হওয়ায় বাঁচার হার আরও বেড়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো রামেকে সাপে কাটা রোগীদের জন্য পৃথক সাপের কামড় ও বিষবিদ্যা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। ওয়ার্ডটি চালুর আগে এখানকার চিকিৎসক ও নার্সদের ‘স্নেকবাইট ন্যাশনাল গাইডলাইন’ অনুযায়ী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি জানান, আগে বড় ওয়ার্ডের কোণায় এসব রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে দেরি হতো। এখন পৃথক ওয়ার্ড থাকায় রোগীরা দ্রুত, নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা পাচ্ছেন।
পরিচালক আরও বলেন, গত এক মাসে এই ওয়ার্ডে সাপের কামড়ে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। তার দাবি, রোগীদের জন্য আলাদা ও সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার ফলেই দ্রুত সেরে ওঠার হার বেড়েছে। “আগে রামেকে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুহার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালুর পর মৃত্যুহার শূন্যে নেমে এসেছে,” বলেন তিনি।
চিকিৎসকদের আশা, এই ওয়ার্ডের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।