বণিক বার্তা-পিএসটিসি আঞ্চলিক সংলাপে বক্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাপী জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতাবিরোধী ১৬ দিনের ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে পিএসটিসি ও বণিক বার্তার যৌথ উদ্যোগে গতকাল এক আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতাবিরোধী ১৬ দিনের ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে পিএসটিসি ও বণিক বার্তার যৌথ উদ্যোগে গতকাল এক আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘একতাবদ্ধ প্রচেষ্টাই লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বন্ধ করতে পারে’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারের লক্ষ্য ছিল নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা।
পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন আইপিপিএফের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক তোমোকো ফুকুদা। অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ভুটানের রিনিউয়ের (রেসপেক্ট, এডুকেট, নেচার অ্যান্ড এম্পাওয়ার ওমেন) নির্বাহী পরিচালক শেরিং দোলকার, সলোমন আইল্যান্ডস প্ল্যান্ড প্যারেন্টহুড অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক জ্যাক মার্টিন, ইন্দোনেশিয়ান প্ল্যান্ড প্যারেন্টহুড অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক লেনি জাকারিয়া।
বক্তারা তাদের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরকে সম্পৃক্ত না করলে সহিংসতামুক্ত ভবিষ্যৎ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। একক প্রচেষ্টা নয়, বরং সম্মিলিত উদ্যোগই বাস্তব পরিবর্তন আনার শক্তি রাখে।
সংলাপে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল (এফপিএএন) থেকে ডা. প্রবীণ শাক্য, ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যান্ড প্যারেন্টহুড ফেডারেশন (আইপিপিএফ), সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অফিসের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার হারজ্যোত খোসা, রিনিউ ভুটান থেকে কিনলে বিধা এবং মীনাক্ষী রাই, আইপিপিএফ-ইস্টার্ন অ্যান্ড সাউথ ইস্ট এশিয়া অ্যান্ড ওশেনিয়া রিজিয়নের ইয়ুথ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি অ্যাডভাইজার লেডি লিসোন্দ্রা, ভুটান থেকে দর্জি ইউডেন, এফপিএএনের যমুনা সিতৌলা, বাংলাদেশ থেকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের পরিচালক মো. তসলিম উদ্দিন খান, আর্কিটেক্ট অব কো-অপারেশন, সাউথ এশিয়া রিজিয়ন, আইপিপিএফের ফয়সাল সাব্বির এবং পিএসটিসি থেকে হেড অব প্রোগ্রামস ডা. মো. মাহবুবুল আলম, টিম লিডার অনিতা শরীফ চৌধুরী, প্রজেক্ট ম্যানেজার কানিজ গোফরানী কোরায়শী, কম্পোনেন্ট ম্যানেজার, ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন মো. ফয়সাল তালুকদার, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (মিল অ্যান্ড এইচআর) আবু সাদাদ মোহাম্মদ সায়েম, রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন কো-অর্ডিনেটর আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সুহাস মাহমুদ, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রেজাউল করিম প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন, বণিক বার্তার প্রতিনিধিত্ব করেন হেড অব বিজনেস মনজুর হোসাইন।
ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন আইপিপিএফের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক তোমোকো ফুকুদা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে চারজন নারীর তিনজনই সহিংসতার শিকার। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়াজুড়েই এ সমস্যা বিদ্যমান। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এটি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে খুব কমই অগ্রগতি হয়েছে। আমি এমন কোনো দেশ দেখছি না, যারা এ সংখ্যা দুই কিংবা একজনে নামিয়ে আনতে পেরেছে। শুধু নারীই নয়, এলিজিবিটি কমিউনিটি, আদিবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।’
অনুষ্ঠানে জ্যাক মার্টিন বলেন, ‘সলোমন দ্বীপপুঞ্জে জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়। সলোমন দ্বীপপুঞ্জে আট লাখের বেশি মানুষ রয়েছে। এখানে তারা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন তার মধ্যে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা তুলনামূলক বেশি। সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সংস্থা, সুশীল সমাজ ও সরকার একসঙ্গে কাজ করছে। ২৪ ঘণ্টা হটলাইন সার্ভিস, কাউন্সেলিং, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সেবা, আশ্রয় ও আইনি সহায়তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সেফটি প্ল্যানিং রয়েছে।’
লেনি জাকারিয়া বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রয়োগ করে নিশ্চিত করে, যেন নাগরিক হিসেবে প্রতিটি ব্যক্তি সমান অধিকার ও পরিষেবা পান। এর মধ্যে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের মতো দুর্বল গোষ্ঠীও অন্তর্ভুক্ত।’
পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা রোধ করা আমাদের সব এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে। আমরা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে একে অন্যের থেকে শিখব, যে কারণে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করা।’
আলোচকরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন যা তাদেরকে আরো দৃঢ়ভাবে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। সংলাপের প্রতিটি বক্তব্যেই নারীর প্রতি সহিংসতা হ্রাস এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা উঠে আসে। আলোচনায় স্পষ্ট হয়, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক নীতি প্রণয়ন এবং সম্মিলিত উদ্যোগই লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধের কার্যকর উপায়। পাশাপাশি যৌথ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, ন্যায়সংগত ও সমতার সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।