মোঃ মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার রাতে থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিবগঞ্জের কানসাট, বিনোদপুর ও মোবারকপুর ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকায় এ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি ছিল। হঠাৎ এ বৃষ্টিতে আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় আমচাষিরা।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অসময়ে বৃষ্টির ফলে আমের মুকুলে ছত্রাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দ্রুত কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় স্প্রে ও পরিচর্যা শুরু করলে সম্ভাব্য ক্ষতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। আম উৎপাদনের জন্য খ্যাত এ জেলায় বর্তমানে অধিকাংশ গাছেই মুকুল ফুটেছে। ফলে এ সময় আবহাওয়ার সামান্য বিরূপ প্রভাবও ফলনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো ফাউন্ডেশন সদস্য সচিব আহসান হাবিব বলেন, আমরা চাষিরা সব সময়ই আবহাওয়াজনিত ঝুঁকির মধ্যে থাকি। বৃষ্টির পর যদি রোদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকে, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে বলে আশা করছি।
চাঁপাইবনাবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম বলেন, যেসব গাছে মুকুল ফুটে আছে, সেগুলোর ক্ষতি হতে পারে। তবে যেসব মুকুলে ইতোমধ্যে গুটি এসেছে, সেগুলোর জন্য এ বৃষ্টি উপকার বয়ে আনতে পারে।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া বলেন, অসময়ের এ বৃষ্টিতে আমের মুকুলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেব। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিতে ধান, গম ও পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলের উপকার হবে।
উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আম গাছে রয়েছে প্রায় ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৫টি। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন।