• ঢাকা |

ডিএসসিসি’র প্রশাসকের সাথে জামায়াত নেতার মতবিনিময়


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকার বিরাজমান সমস্যা সমাধানে ডিএসসিসির প্রশাসকের সাথে ড. আব্দুল মান্নানের মতবিনিময়

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকার নানাবিধ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্ব স্থানীয় জনসাধারণ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বিরাজমান সমস্যা গুলো সমাধানে ডিএসসিসিকে পরামর্শ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এসময় জুলাই শহীদ জুনায়েদ হাসানের পিতা শেখ জামাল হাসানসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (৩৪ ও ৩৭ থেকে ৪৬ নং ওয়ার্ড) ১১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকার বিরাজমান সমস্যা ও সমাধানে করণীয় হচ্ছে - “জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, মাদকের ছড়াছড়ি ও অবাধে মাদকদ্রব বেচাকেনা, বাসা-বাড়ির ময়লার অতিরিক্ত ফি আদায়, ধোলাইখাল রোডে রাস্তায় ট্রাক পার্কিং থাকায় প্রধান সড়ক (৪১, ৪২ ও ৪৪ নং ওয়ার্ডে) অস্বাভাবিক যানজটের সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি’, ‘ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান বসিয়ে প্রতিদিন সেখান থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়’, ‘নর্থ সাউথ রোড, নবাবপুর রোড, ইংলিশ রোড ও রায় সাহেব বাজার এলাকা পরিবহন ব্যবসায়ীদের দখলে এবং সন্ধ্যা থেকে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে আন্তঃজেলা পরিবহনের মালামাল রাখা ও লোডিং-আনলোডিং করায় ঘন্টার পর ঘন্টা যাত্রীদেরকে জ্যামে আটকে থাকতে হয়’, ‘৩৮ নং ওয়ার্ড বঙ্গভবনের পাশে হানিফ ফ্লাইওভারের নীচে অবৈধ মুরগীর মার্কেট ও ঠাটারী বাজার বর্জ্য ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করছে’, ‘বিভিন্ন ওয়ার্ডে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুড়ির কারণে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত কাজ সমাপ্ত না করায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে কাঠেরপুল থেকে ধুপখোলা হয়ে শহীদ আনাস সড়ক গেন্ডারিয়া বাসীর একমাত্র প্রধান সড়ক গত ৬ মাস সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে। এলাকাবাসী চরম দূরগতির মধ্যে বাস করছেন। বিকল্প রাস্তাগুলো সামান্য সংস্কার করে খুলে দিলে এ সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইনিস্পেক্টরগণ চাইলেই এই ছোটখাটো সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেন’ ‘প্রায় সকল ওয়ার্ডে ম্যানহোলের ঢাকনা নিয়মিত চুরি হচ্ছে এবং বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় গাড়ি ও পথচারী দুৰ্ঘটনার শিকার হচ্ছে’, ‘ইদানিং নতুন উপদ্রব শুরু হয়েছে যে রাতে বিদুৎতের খুটি থেকে সংঘবদ্ধ চোরচক্র বাসাবাড়িতে সংযোগ লাইনের তার কেটে নিয়ে যাচ্ছে’, ‘নগর উন্নয়নে বিভিন্ন পরিসেবা সংস্থা তথা, ওয়াসা, গ্যাস, বিটিসিএল, সুয়ারেজ, সড়ক সংস্থার সাথে কোন সমন্বয় না থাকায় যে যার মত রাস্তা কাটছে। একবার রাস্তা মেরামত হওয়ার ২/১ মাসের মধ্যেই অন্য সংস্থা রাস্তা কেটে ফেলছে। আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি থাকলে এমনটি বন্ধ হবে’, ‘বাহাদুরশাহ পার্ক থেকে লক্ষ্মী বাজার হয়ে সরকারী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ পর্যন্ত রাস্তার দু পাশে ৩ লেন হকারের অবৈধ দোকান বসানো ও ব্যাপক চাঁদাবাজি চলছে। এ অঞ্চলের স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ব্যবসায়ী চরম ভোগান্তির মধ্যে চলাচল করেন’, ‘ ধূপখোলা কাঁচাবাজারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশানের তিনতলা মার্কেটের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত হয়ে পড়ে আছে এবং বিল্ডিংটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে’, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীন পরিচালিত কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো থাকার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায় না’, ‘৪৫ নং ওয়ার্ড এস কে দাস রোড, ভাট্টিখানা সড়কটি সংস্কারের জন্য ২০২৫ সালের মে মাসে এলাকাবাসী লিখিত আবেদন করে। এখনো এ কাজ শুরুই হয়নি’, ‘সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ময়লার স্ট্যান্ডে দৈনিক ময়লা ফেলার কথা থাকলেও এখনো বিভিন্ন রাস্তায় ময়লা ফেলা হয়’, ‘পার্ক ও খেলার মাঠগুলো দখলমুক্ত করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করা’, অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’, ‘অবৈধ নির্মাণ ও ভবন বিধিমালা বাস্তাবয়নে কঠোর নজরদারি করা’, ‘প্রতি ওয়ার্ডে দৃশ্যমান নাগরিক অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন ও দ্রুত সমস্যা সমাধন করা’, ‘স্ট্রীট লাইট নষ্ট থাকার সুযোগ নিয়ে রাতের বেলা অহরহ ছিনতাই হচ্ছে। দয়াগঞ্জ-রাজধানী মার্কেট রোডে দিনের বেলায় ছিনতাই হচ্ছে। কিছু জায়গায় দিনের বেলায় স্ট্রিট লাইট জ্বলতে থাকায় বিদ্যুৎ অপচয় হয়’, ‘পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ উন্নয়ন করা। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গ নদী দখলমুক্ত করা এবং নদীটি দূষণমুক্ত করা নগরবাসীর প্রাণের দাবি’, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সহজীকরণ। সঠিক আবেদন করার পরও বানান ভুল থাকা। আবার বাংলা ও ইংরেজি নামে অমিল থাকা। জন্ম নিবন্ধন করার পর অনলাইনে আপলোড না করার ফলে পুনরায় আবেদনের ভোগান্তি’, ‘নাগরিকদের সাথে নিয়মিত উন্মুক্ত মতবিনিময় ও অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার ব্যবস্থা সময়ের দাবি।”

 

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, বিরাজমান সকল সমস্যা অবগত হওয়ার পর দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।