• ঢাকা |

আলোকিত মানুষ, আদর্শ শিক্ষক ও জননেতা মরহুম মাওলানা আবুল হাশেম


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২ জুন, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

মোহাম্মদ ইউসুফ: মরহুম অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম মোঃ বশিরুল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন, সফল জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবক। শিক্ষা, দ্বীনি খেদমত এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নিজ এলাকাসহ বৃহত্তর সমাজে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি।

১৯৫৩ সালে বরিশাল জেলার তৎকালীন হিজলা উপজেলা ও বর্তমান মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের নলগোড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম খলিলুর রহমান ও মাতা মরহুমা হাজেরা খাতুন। শৈশব থেকেই তিনি শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে নপাইয়া হোগলটুরী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল, আলিম ও ফাজিল এবং পরবর্তীতে ছারছিনা দারুসসুন্নাহ কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৬ সালে নপাইয়া হোগলটুরী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সাল থেকে অবসর গ্রহণ পর্যন্ত বাহেরচর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শের আলোয় আলোকিত করেছেন।

জনপ্রতিনিধি হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সফল ও জনপ্রিয়। ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়া হিজলা উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।

দ্বীনি অঙ্গনেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি হিজলা উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতিব, জাতীয় ইমাম সমিতির হিজলা উপজেলা সভাপতি ও বরিশাল জেলা সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের হিজলা উপজেলা সভাপতি ও বরিশাল জেলা শাখার সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হিজলা উপজেলা আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, নৈতিক সমাজ গঠন এবং দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি ১৯৭৬ সালে উলানিয়া ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মরহুম রহমত আলী সাহেবের কন্যা সামর্তবান বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের দাম্পত্য জীবন ছিল সুখী ও সুশৃঙ্খল। এই দম্পতির সংসার আলো করে জন্ম নেয় ৪ পুত্র ও ৩ কন্যা সন্তান।

মরহুমের তিন পুত্রই হাফেজে কুরআন। সন্তানদের সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনন্য। বড় ছেলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে উপসচিব পদে কর্মরত রয়েছেন। মেজো ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা পেশায় নিয়োজিত। সেজো ছেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ছোট ছেলে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

সন্তানদের শিক্ষা, আদর্শ ও কর্মক্ষেত্রে সাফল্য তাঁর স্নেহ, ত্যাগ ও সুশিক্ষারই উজ্জ্বল প্রতিফলন।

জীবনের শেষদিকে তিনি ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৫ সালের ১ জুন মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ইন্তেকাল করেন।

মরহুম মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি শিক্ষা, নেতৃত্ব, দ্বীনি খেদমত ও মানবসেবাকে একসূত্রে গেঁথে জীবন পরিচালনা করেছেন। তাঁর কর্ম, আদর্শ ও অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের সকল খেদমত কবুল করুন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন, আমিন।

লেখক: মরহুমের স্নেহধন্য ছাত্র ও বরিশাল জেলা সংবাদাতা, দৈনিক গণজাগরণ।