স্টাফ রিপোর্টার: "ফ্যাসিবাদ রোধে নির্বাচনী সংস্কার : সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি কি সমাধান?"—এই শিরোনামে আজ ১৭ জুলাই সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব।
সূচনা বক্তব্য দেন ড. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। বর্তমানে, বিভিন্ন দেশে এই পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। কিছু ক্ষেত্রে, এটি আরও বেশি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের জন্য প্রস্তাব করা হচ্ছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে, এর দুর্বলতা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভোটের শতাংশের ভিত্তিতে সংসদে আসন বরাদ্দ করে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, ছোট দলগুলোও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়, যা একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি করে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, "ছাত্ররা শুধু চাকরির জন্য নয়, ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। তারা সাংবিধানিক স্বৈরাচারকে উৎখাত করতে চেয়েছিল।" তিনি বিশ্বজুড়ে সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতির বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন।
সংলাপে অধ্যাপক ড. মহিউদ্দীন সরকার বলেন, "বর্তমানে PR পদ্ধতির গুরুত্ব বেড়েছে। এতে কেন্দ্র দখল ও রাতের ভোটের মতো অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব।"
অধ্যাপক ড. শামীমা তাসমিম বলেন, "আমি ১৭ বছর ভোট দিইনি। PR পদ্ধতি ছাড়া ভোটের সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয়।"
সিটিজেন ইনিশিয়েটিভের কো-ফাউন্ডার মোহাম্মদ তালহা বলেন, "জনগণের প্রকৃত মত প্রকাশের জন্য এমন পদ্ধতি দরকার, যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে।"
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, "পিআর পদ্ধতি বিশ্বে সমর্থন পাচ্ছে। আমাদেরও নির্বাচনকে সঠিক পথে নিতে এই পদ্ধতি দরকার।"
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, "ভারতীয় আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।"
নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা আতাউল্লা আমীন, ইসলামি আন্দোলনের শাহ ইফতেখার তারিক, লেখক শাহ আবদুল হালিম, এনসিপির মুজাহিদ ইসলাম সাহিন, মানবাধিকারকর্মী মাহবুব হক, ইনপ্যাক ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এনায়েত হোসাইন জাকারিয়া, এবং প্রফেসর ড. জুলফিকার হাসান—সবাই পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত দেন।
বক্তারা বলেন, পিআর পদ্ধতি চালু হলে নেতৃত্ব নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হবে, দলীয় গণতন্ত্র সুসংহত হবে, এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বাড়বে।
শেষে সভাপতি অধ্যাপক ড. আবদুর রব বলেন, "ফ্যাসিবাদের মূল উৎপাটনের জন্য পিআর প্রয়োজন। এখনই সময় সঠিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়।"