• ঢাকা |

সুন্দরগঞ্জে ৩০ হাজার মানুষের ভরসা কাঠের সাঁকো


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

শাহজাহান, সুন্দরগঞ্জ: ব্রিজ আর সড়কের অভাবে লেখা পড়া ও বিবাহশাদী করার সংকটে চরাঞ্চলের ৩০ হাজার মানুষ। ছাত্র ছাত্রী, কৃষক শিক্ষক সকলে কাঠের  নড়বড়ে সাঁকোর ওপর ধীরে ধীরে পার হচ্ছে মানুষজন। নিচে বয়ে তিস্তা শাখা নদীর দিকে তাকালেই মনে জাগে অনেক ভয় তবুও এ পথই তার প্রতিদিনের তাদের  যাওয়া আসার একমাত্র ভরসা কাঠের সাকোঁ।

স্থায়ী ব্রিজ না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় এই তিস্তা শাখা নদী। সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। তবুও বাধ্য হয়েই এই অনিশ্চিত মধ্যে চলতে হয় চরাঞ্চলের মানুষ।

 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের চর বেলকা, চর চরিতাবাড়ী, জিগাবাড়ী, কাশিম বাজার, বজরা,উজান চেওড়া,কাশিম বাজার, চর বজরা ও মহিষবান্দি,সহ আরো কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা  কাঠের তৈরি সাঁকো। তিস্তা শাখা নদীর ওপর স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় জীবনের  ঝুঁকি নিয়ে কাঠের তৈরী সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন পারাপার করেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। বছরের পর বছর ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি উঠলেও বাস্তবে মেলেনি ব্রিজের কোন সমাধান।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলকা ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ি গ্রামের মাইদুল ইসলাম বলেন আমাদের গ্রামের কয়েক শতাধিক পরিবারের চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি কাঠেঁর সাঁকো। সেই সাঁকো বেয়ে উঠতে হচ্ছে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের।কাঠেঁর  সাঁকোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ । অনেক কাঠ পচে গেছে, বিভিন্ন জায়গার পাটাতন উঠে গিয়ে বড় বড় ফাঁকা  জায়গায়  তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও দড়ি দিয়ে কাঠ বেঁধে কোনোভাবে টিকিয়ে রাখা হয়েছে । একসঙ্গে দুইজন মানুষ উঠলেই দুল দুল করে দুলতে  শুরু করে পুরো সাঁকো।

 এমন জরাজীর্ণ কাঠেঁর সাঁকোয় ভরসা প্রায় ৩০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র যাতায়াতের ভরসা। 

স্থানীয়দের জানা মতে, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসি। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা সেতু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিললেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

 

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জানালেন, ভাঙাচোরা চরাট দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হচ্ছে। এক হাতে বই আরেক হাত দিয়ে চরাট ধরে ধীরে ধীরে চলতে হয়। প্রতিদিন এই পথ পার হতে তার খুব ভয় লাগে, তবে বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করতে হয়। পাকা সেতু থাকলে তার মতো আরো অনেক শিক্ষার্থীদের কষ্ট হত না।

 

স্থানীয় কৃষক আব্দুল আউয়াল প্রতিদিন নদীর ওপারে জমিতে কাজ করতে যান। হাতে কৃষি সরঞ্জাম আর কাঁধে ফসলের বোঝা নিয়ে এই কাঠেঁর সাঁকো পার হতে হয়। তিনি বলেন, ভয় তো সবসময়ই লাগে। কিন্তু উপায় কী? এই সাঁকো ছাড়া অন্য কোন রাস্তা নেই যে সেই রাস্তা দিয়ে নদী পার হবো ।এখন বর্ষাকাল তাই আরও ভয়ংকর অবস্থা হয় সাঁকো পারাপার হতে, তবুও জীবন বাজি রেখে চলাচল করতে হবে।

শুধু যাতায়াত নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা এখন প্রভাব ফেলছে সামাজিক জীবনেও। এলাকাবাসী জানান, সেতু ও পাকা সড়কের অভাবে সন্তানের লেখা পড়া এমনকি বিবাহ দিতে গেলে ভালো চোখে আমাদের কে দেখে না অনেকে।আবারও অনেক পরিবার যোগাযোগের দুর্ভোগের কথা শুনে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে নেয়।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী নবিয়াল বলেন, একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে পুরো এলাকার জীবনযাত্রা ও অর্থনীতির চেহারা বদলে যেত। বর্তমানে যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তাদের নানা ধরনের সমস্যার মুখে থুবরে পড়েছে।

 

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ জানান জরাজীর্ণ কাঠেঁর  সাঁকোটি আমি ও এলাকা বাসীর উদ্যোগে  সংস্কার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো নতুন কাঠঁ  দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে , পাশাপাশি যেসব জায়গায় পাটাতন উঠে গেছে সেগুলো পুনরায় মেরামত করা হয়।  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে  চরাঞ্চলের মানুষ। এখানে  ব্রিজ ও পাকা রাস্তা হওয়া উত্যান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ব্রিজ ও পাকা রাস্তা হলে এলাকার মানুষের জীবনযাপন  দৃশ্য মান হবে এবং সমাজের সাথে মিলেমিশে চলতে পারবে।

 

গাইবান্ধায় ১ সুন্দরগঞ্জ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান বেলকা তিস্তা শাখা নদীর উপর ব্রিজের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে ডিউ লেটার দেওয়া হয়েছে।আমি বেলকা ব্রিজসহ আরো কয়েকটি ব্রিজের ব্যাপারে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে দেখা করে কথা বলেছি তিনি আমাকে ব্রিজ দেয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের বরাদ্দ পাব ইনশাআল্লাহ।