নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার বিচার ও শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে মতিঝিল শাপলা চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা ছিল ইসলাম ও ইসলামী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার একটি পরিকল্পিত অংশ। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার পর বহু আলেম-ওলামাকে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রাখা হয় এবং রিমান্ডে নির্যাতন চালানো হয়, যা দেশের ইতিহাসে এক “কালো অধ্যায়” হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কেবল ঢাকাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন দমনের নামে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিপুল সংখ্যক মানুষকে আসামি করে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার ফলে অনেকে বছরের পর বছর কারাভোগ করেছেন।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সত্যতা আড়াল করতে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের কাছে তিনি শাপলা চত্বরের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ, নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। পাশাপাশি দায়ীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য এতে জড়িত ছিলেন।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও ভিন্নমত বিদ্যমান রয়েছে।