এমএম রহমাতুল্লাহ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি। একই সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের নারী নেত্রীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের চেতনা সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী’ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের নারীদের অংশগ্রহণে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয় এবং পরবর্তী গণভোটে অধিকাংশ মানুষ এর পক্ষে মত দেয়। তাঁর দাবি, বিএনপি গণপরিষদের শপথ গ্রহণ না করে জুলাই সনদের সঙ্গে প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
তিনি বলেন, “জুলাই শহীদদের সঙ্গে বেইমানির জন্য আমরা আরেকটি আন্দোলন গড়ে তুলব। যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।”
সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যদি জুলাই সনদকে অবৈধ বলা হয়, তবে সেই ভিত্তিতে বর্তমান সরকারের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম এমপি। উদ্বোধন করেন জুলাই আন্দোলনে নিহত শিশু জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি।
সভায় জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রুম্মান বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলন ছিল বৈষম্যবিরোধী এক ঐতিহাসিক বিপ্লব, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতার সুফল অর্জন সম্ভব নয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, জুলাই ও শাপলা গণহত্যাসহ সব আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্তরিক নয় এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু এমপি বলেন, জুলাই আন্দোলনের নারী শহীদদের অবদান অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শহীদকে সমানভাবে স্মরণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মারজিয়া বেগম এমপি বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল কেবল একটি আন্দোলন নয়; এটি ছিল রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামগ্রিক পরিবর্তনের ডাক। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করতে হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সংসদ ও রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নিলু এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম এমপি, লেবার পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সাবিনা ইয়াসমিন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, অ্যাডভোকেট মাহবুবা আক্তার, অধ্যাপিকা মোছাম্মাৎ কারিমা খাতুন, আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না, শহীদ পরিবারের সদস্য রাজিয়া সুলতানা ও মারিয়া সুলতানাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নারী প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।