পটুয়াখালীর বাউফলে বুড়িচুবানী খালের (আলগী নদীর উপশাখা) ওপর নির্মিত আয়রন ব্রিজটির একাংশ ভেঙ্গে পরার প্রায় ৬ বছর পর সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। সুলতানাবাদ ও রামনগর গ্রামের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই ভাঙ্গা ব্রিজের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। অবশেষে এই জনদুর্ভোগ নিরসনে এগিয়ে এসেছেন বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াত। রবিবার (২ আগস্ট) থেকে ব্রিজের ভেঙে পড়া অংশ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির নির্দেশনায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় আইন ও দাওয়াহ সম্পাদক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলার শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ব্রিজটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫-২০০৬ সালের দিকে ঠিকাদার ফিরোজ হাওলাদার (ফিরোজ কন্ট্রাক্টর) আয়রন ব্রিজটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের সময় ব্রিজের দক্ষিণ পাশের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে অ্যাপ্রোচ সড়কটি খালের একেবারে কিনার ঘেঁষে তৈরি করা হয়। ফলে খালের ভাঙনে অ্যাপ্রোচ ধসে পড়ে ২০২০ সালের জুন-জুলাইয়ের দিকে ব্রিজের একাংশ ভেঙে খালে পড়ে যায়। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে রামনগর, ছয়হিস্যা, তাঁতের কাঠি, নিজ তাঁতের কাঠি, নুরাইনপুর ও ভরিপাশা গ্রামের মানুষের বাউফল সদরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।
বিশেষ করে রামনগর দাখিল মাদ্রাসা, সুলতানাবাদ দাখিল মাদ্রাসা, ধানদী কামিল মাদ্রাসা, বাউফল মাদ্রাসা, নুরাইনপুর মাদ্রাসা, বাউফল কলেজ, বাউফল মহিলা কলেজ, নুরাইনপুর কলেজ, চন্দ্রপাড়া হাইস্কুল এবং রামনগর, ধানদী বাহাদুরপুর ও চন্দ্রপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিল।
দীর্ঘদিন সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় নাজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের এই সামাজিক উদ্যোগে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।