• ঢাকা |

৪ ঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদে বসে থেকেও মেলেনি সেবা, ক্ষোভে ফ্রান্স প্রবাসীর ফেসবুক পোস্ট


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

সিলেট ,কানাইঘাট ৯নং রাজাগনজ: ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সেবা না পেয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ফ্রান্স প্রবাসী আখলাকুল আম্বিয়া। নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করেন। মুহূর্তেই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ফেসবুক পোস্টে আখলাকুল আম্বিয়া লেখেন, “আমি একজন ফ্রান্স প্রবাসী। একটি জরুরি কাগজপত্রের জন্য আমি আমাদের ইউনিয়নের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব শামসুল ইসলাম সাহেবকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি আমাকে দুপুর ১২টার মধ্যে ইউনিয়ন অফিসে আসতে বলেন। আমি এক ঘণ্টা আগে সকাল ১১টায় অফিসে গিয়ে হাজির হই। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি চেয়ারম্যান সাহেবও নেই, সচিব সাহেবও নেই। আমি বারবার ফোন দিয়েছি, ওনারা ফোন ধরেননি। সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত টানা ৪ ঘণ্টা অফিসে বসে ছিলাম। পরে বাধ্য হয়ে বাড়ি চলে আসি।”

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, বাড়ি ফিরে ফোন দিলে চেয়ারম্যান উল্টো বলেন, “আপনি সিলেট থেকে আসবেন, আমাকে বলবেন না?” প্রবাসী আখলাকুল প্রশ্ন রেখে বলেন, এটাই কি জনগণের সেবা হওয়া উচিত? এভাবে প্রবাসীসহ সাধারণ নাগরিকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৯ নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা শামসুল ইসলাম বলেন, “আমি সবসময় পরিষদে থাকব, বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় সামাজিক কাজে বা এলাকায় কেউ মারা গেলে সেখানে যেতে হয়। ওই প্রবাসী আমাকে ফোন দিয়েছিলেন, এটা ঠিক। কিন্তু তিনি যে সিলেট থেকে আসছেন, সেটা আমাকে বলেননি। পরে আমিও তাঁকে ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা দিন-রাত নাগরিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”

তবে পরিষদের সচিব কেন অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরে একটি অডিও বার্তা ফরোয়ার্ড করে তিনি জানান, সচিবের স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। স্ত্রী অসুস্থ থাকায় সচিব অনুপস্থিত ছিলেন।

এ সময় চেয়ারম্যান আরও জানান, রাজাগঞ্জ পারকুল গ্রামের এক সৌদি প্রবাসী সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁর পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।