• ঢাকা |

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘দলীয়করণ’ ফ্যাসিবাদের শামিল: বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

সংসদে ‘জনবিরোধী বিল’ পাসের প্রতিবাদে ওয়াকআউট; বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার নিয়ে তীব্র সমালোচনা
এমএম রহমাতুল্লাহ:
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দলীয়করণ করছে, যা কার্যত আরেক ধরনের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার শামিল। তিনি একে ‘অলিখিত বাকশাল’ হিসেবে আখ্যা দেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশন শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত একাধিক বিলের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে সাময়িক ওয়াকআউট করে।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে এমন কিছু বিল উত্থাপন ও পাস করা হচ্ছে, যা জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। বিরোধীদলীয় সদস্যদের কথা বলার সুযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, যেখানে বিরোধী সদস্যদের মাত্র ২ থেকে ৬ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সময়সীমা ছাড়াই দীর্ঘ সময় বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি স্পিকারের এ ধরনের আচরণকে সংসদীয় রীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নতুন বিলগুলোর মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভাগের অধীনে চলে যাচ্ছে। এতে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত নিরপেক্ষ অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে গেছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। এতে স্থানীয় সরকার কাঠামো ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, শেরপুর ও বগুড়ার উপ-নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনগুলোতে অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবং দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। শেরপুরে দলীয় কর্মী হত্যার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন এবং দায়ীদের বিচার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বলেন, পূর্বে যাচাই-বাছাই করা একাধিক অধ্যাদেশকে বিল আকারে উপস্থাপন করে আইন করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, ৯৮টি অধ্যাদেশের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ—যেমন গুম প্রতিকার প্রতিরোধ, বিচার বিভাগের স্বতন্ত্র সচিবালয় এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রস্তাব—বাতিল করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, যেসব অধ্যাদেশের ওপর বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল, সেগুলোও সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করে বলেন, তারা সংসদ বর্জন করেননি এবং ভবিষ্যতেও সংসদে উপস্থিত থেকে জনগণের পক্ষে কথা বলবেন। তবে জনস্বার্থবিরোধী আইন পাস হলে তারা আরও জোরালোভাবে প্রতিবাদ করবেন বলে জানান।

তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, অতীতে জনগণ ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করেছে, ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।