• ঢাকা |

ফায়ার সার্ভিস ও ARAB-এর যৌথ কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ সম্পন্ন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস থেকে ভূমিধস—৮ বিভাগের ১৬ স্থানে অনুশীলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বড় কোনো দুর্যোগে উদ্ধার ও জরুরি সেবা কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ। ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা ভূমিধসের মতো দুর্যোগে প্রচলিত মোবাইল ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে কীভাবে বিকল্প ব্যবস্থায় উদ্ধার কার্যক্রম চালু রাখা যায়—এবার তার বাস্তবভিত্তিক অনুশীলন করল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ARAB)।

দেশব্যাপী তিন দিনের এই যৌথ কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ ২৩ আগস্ট শুরু হয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শেষ হয়েছে। দেশের আট বিভাগের মোট ১৬টি স্থানে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ পরিস্থিতি ধরে এ অনুশীলন পরিচালনা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল দুর্যোগের সময় প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও অ্যামেচার রেডিওর মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রাখার সক্ষমতা যাচাই করা।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও চলবে উদ্ধার অভিযান
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বড় ধরনের দুর্যোগে বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ও অন্যান্য যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ব্যাহত হলে উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই ফায়ার সার্ভিস ও ARAB-এর যৌথ উদ্যোগে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। অনুশীলনে মূলত পরীক্ষা করা হয়েছে—ফায়ার সার্ভিসের প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অচল হলে অ্যামেচার রেডিও অপারেটররা কীভাবে দ্রুত যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করবেন এবং উদ্ধার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করবেন।

৮ বিভাগে ১৬ স্থানে দুর্যোগের মহড়া
তিন দিনের অনুশীলনে দেশের আট বিভাগের ১৬টি স্থানে ভিন্ন ভিন্ন দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, তেজস্ক্রিয়তা ও ভূমিধসের মতো সম্ভাব্য দুর্যোগ।

প্রতিটি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে ARAB-এর প্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগের সময় দুই পক্ষের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন, তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সমন্বয়ের প্রক্রিয়াও আরও সহজ হয়েছে।

উদ্বোধনে ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
২৩ আগস্ট সকাল ১০টায় এ কমিউনিকেশন এক্সারসাইজের উদ্বোধন করেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান, পিএসসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অপারেশনস ও মেইনটেন্যান্স) মো. মামুনুর রশিদ, ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন, বিএফএম, বিএফএম (এস), ARAB-এর সাধারণ সম্পাদক অনূপ কুমার ভৌমিকসহ ফায়ার সার্ভিস ও ARAB-এর অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসির নির্দেশনায় এ অনুশীলনের আয়োজন করা হয়।

মিরপুরে মহাপরিচালকের পরিদর্শন
অনুশীলনের দ্বিতীয় দিন ২৪ আগস্ট মিরপুরে কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। তিনি অনুশীলনের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এ ধরনের অনুশীলনের মাধ্যমে সেটিও বাস্তবে যাচাই করা হয়।

শেষ দিনে সরাসরি বেতার যোগাযোগ
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় এক্সারসাইজের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার, পিএসসি।

বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুশীলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। ফায়ার সার্ভিসের ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (EOC), মিরপুর থেকে পরিচালক (অপারেশনস ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান দেশের বিভিন্ন বিভাগের ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও ARAB প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেতার যোগাযোগ স্থাপন করেন।

পরে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে দেশব্যাপী পরিচালিত অনুশীলনের সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এক্সারসাইজের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন সক্ষমতার সংযোজন
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্যোগের সময় যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা উদ্ধার কার্যক্রমের সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি অ্যামেচার রেডিওকে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস ও ARAB-এর এই যৌথ অনুশীলনের মধ্য দিয়ে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই নয়, বরং দুর্যোগের মুহূর্তে দুই পক্ষ কীভাবে একই কমান্ড কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে, তারও বাস্তব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে পরিচালিত এই মহড়া ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি কমিয়ে উদ্ধার ও জরুরি সেবা কার্যক্রম দ্রুত চালু রাখতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।