এমএম রহমাতুল্লাহ: বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর একটি বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় দেওয়া তার কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সঙ্গে ২০ কোটি (বাংলাদেশের) অ্যাড করেছি, ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই, তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে ভাবছি না। দেখছেন না আমি হেঁটে চলে আসছি। একই আকাশ, একই বাতাস।”
হাইকমিশনারের এই বক্তব্যকে কেউ কেউ দুই দেশের ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার প্রতিফলন হিসেবে দেখলেও সমালোচকদের একটি অংশ এটিকে বাংলাদেশের প্রতি ‘অস্বস্তিকর বার্তা’ এবং ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতার ইঙ্গিত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দাবি করেছেন, বর্তমান আঞ্চলিক বাস্তবতায় এমন বক্তব্য সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমান্ত পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুর প্রেক্ষাপটে হাইকমিশনারের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
সমালোচকদের অভিযোগ, যদি অন্য কোনো দেশের কূটনীতিক বাংলাদেশ সম্পর্কে অনুরূপ মন্তব্য করতেন, তাহলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আরও জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা যেত। তারা এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়াও জানতে চেয়েছেন।
তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, বক্তব্যের রাজনৈতিক ব্যাখ্যার আগে এর পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং কোনো মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ভাষার সূক্ষ্ম দিকগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনেও উল্লেখযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেখা যায়নি। ফলে দিনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক আগামী দিনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।