এম এম রহমতুল্লাহ
কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার ১৫টি দেশে খাদ্য নিরাপত্তা সহায়তার জন্য একটি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালু করেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত। ঢাকাস্থ রাজকীয় সৌদি দূতাবাস এই খাদ্য বাস্কেট বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে, যেখানে দূতাবাসের উপ-রাষ্ট্রদূত মহামান্য ইব্রাহিম আলাহমারি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের পক্ষে আবদুর রহমান আলমুতুরি এবং কক্সবাজারে খাদ্য ঝুড়ি বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান আইএসডিই-এর নির্বাহী পরিচালক নাজের হোসেইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সোমবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির সঞ্চালনা করেন সৌদি দূতাবাসের রাজনৈতিক ও মিডিয়া অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর ইয়াসির শেশাহ।
এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের বৈশ্বিক খাদ্য সহায়তা উদ্যোগের অংশ, যা ১৫টি দেশে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বাংলাদেশও এই উদ্যোগের সুবিধাভোগী দেশগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এবছর, কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় সুবিধাভোগীদের জন্য ৬০,০০০ খাদ্য বাস্কেট বিতরণ করছে। এই বাস্কেটগুলোতে তেল, চিনি, লবণ, ডালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী রয়েছে, যা মৌলিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘব করতে সাহায্য করবে।
এটি কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের পঞ্চমবারের মতো মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম, যা সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অব্যাহত প্রচেষ্টার অংশ। দ্রুত বিতরণের মাধ্যমে, সংস্থাটি নিশ্চিত করছে যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় জনগোষ্ঠীর কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছায়।
অনুষ্ঠান শেষে ইয়াসির শেশাহ সাংবাদিকদের বলেন, "এই উদ্যোগটি সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সাথে সমন্বয় করে বাস্তবায়িত হবে, যাতে সঠিক ব্যক্তির কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছায় এবং মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব সর্বাধিক হয়। এটি আমাদের নিরপেক্ষ, কার্যকর এবং টেকসই মানবিক সহায়তা প্রদানের মিশনকে তুলে ধরে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার তাদের বৈশ্বিক ত্রাণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে, যা বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা এবং খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আইএসডিই-এর নির্বাহী পরিচালক নাজের হোসেইন, সৌদি দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান এবং দূতাবাসের গণসংযোগ কর্মকর্তা ড. এমদাদুল হক খান আরো জানান, ৬০০০০ খাদ্য বাস্কেটে চিনি, তেল, খেজুর, লবণ, ডালসহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। বাংলাদেশে এবারকার এই কার্যক্রমে কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের ব্যয় প্রায় ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার।