ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ধান চাষে নানামুখী সংকটে পড়ছে কৃষক। তবে এ পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখাচ্ছে স্বল্প মেয়াদী ও খরা সহিষ্ণু ধানের জাত বিনাধান-১৭। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় এই ধান কর্তন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে কৃষক মাঠ দিবস।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বালিয়া ইউনিয়নের বগুলাডাঙ্গী গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় কৃষক মাঠ দিবস।
আরডিআরএস বাংলাদেশ বিএফটিডব্লিউ প্রোগ্রামের আওতায় আয়োজিত এই মাঠ দিবসে কৃষকরা অংশ নেন প্রদর্শনী প্লটের ধান কর্তন ও ফলন পর্যালোচনায়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিরুল আলম। তিনি বলেন –বিনাধান-১৭ যেহেতু খরা সহিষ্ণু, তাই উত্তরাঞ্চলে এই ধানের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আগাম ধান কাটার ফলে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন। একই জমিতে সরিষা, আলু বা ভুট্টা চাষ করে বছরে তিন ফসল ফলানো সম্ভব—এটাই এই জাতের সবচেয়ে বড় সুবিধা।
এছাড়া অন্যান্য বক্তারা বলেন, বিনাধান-১৭ একটি উচ্চ ফলনশীল, খরা সহিষ্ণু ও স্বল্প মেয়াদী আমন ধানের জাত। তারা জানান, এই জাতের ধান প্রজনন পর্যায়ে টানা ১৫ থেকে ২০ দিন বৃষ্টিহীন থাকলেও ফলনে তেমন কোনো ক্ষতি হয় না।এমনকি পানির স্তর ভূমি থেকে ৭০ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেলেও এবং মাটির আর্দ্রতা ২০ শতাংশের নিচে থাকলেও ভালো ফলন দিতে সক্ষম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বালিয়া ফেডারেশনের সভাপতি জামিনী বর্মন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা ফেডারেশন সমন্বয় কমিটির সভাপতি নিতাই মুখার্জি, বালিয়া ইউনিয়ন সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন মাসুদ। এছাড়া আরডিআরএস বাংলাদেশের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা (কৃষি ও পরিবেশ) মো.রবিউল আলম এবং কমিউনিটি ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট সুপারভাইজার মো. শশীউল ইসলাম।
আলোচনা শেষে অতিথিবৃন্দ প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করেন এবং বিনাধান-১৭ এর উৎপাদন কার্যক্রম সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রদর্শনী প্লটের কৃষক আইনুদ্দিন।
মাঠ দিবসে কৃষক আইনুদ্দিন জানান, তার প্রদর্শনী প্লটে বিনাধান-১৭ এর ফলন হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৫ দশমিক ৪৩ টন।