মো. বিল্লাল হোসেন, বাঙ্গরা,কুমিল্লা: কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা, অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার এবং অনুমোদনহীন ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটায় ব্যবহৃত ড্রেজারসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি জব্দে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ এবং ড্রেজারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত আবাদি জমি ও বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট গর্তের বিষয়ে তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত আরও বলেছেন, কৃষিজমি রক্ষায় নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ড্রেজার ও ইটভাটার জন্য মাটি কাটার কারণে যেসব কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব স্থানের গর্ত ভরাট করে জমিকে পুনরায় আবাদযোগ্য করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নিতে হবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মুরাদনগর ও বাংগরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছ
মুরাদনগরে কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা ও অবৈধ ড্রেজার এবং ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন কৃষি ও পরিবেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ উজ্জল।
রিটে সংবিধানের ১৬, ১৮(ক), ২১(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের আলোকে কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। রিটকারীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হলেও কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া এবং অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ইটভাটায় ব্যবহারের ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষিজমি রক্ষায় হাইকোর্টের এমন নির্দেশনা এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে। এর আগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কৃষিজমির টপসয়েল বা উর্বর মাটি কাটার অভিযোগে বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
মুরাদনগরের সর্বশেষ আদেশকে কৃষিজমি রক্ষা, অবৈধ মাটি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।