ফিরোজ মাহবুব কামাল: দেশের সংবিধানের মধ্য দিয়ে সে দেশের জনগণের ঈমান-আক্বীদা, স্বপ্ন ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার কথা বলে। তাই ঈমানদার জনগণের সংবিধান এবং বেঈমান জনগণের সংবিধান কখনোই একই রূপ হয়না। ফলে একই রূপ হয় না ইসলামী রাষ্ট্রের সংবিধান এবং অনৈসলামী রাষ্ট্রের সংবিধান। ঈমানদার জনগণের সংবিধানে থাকে মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্বের ঘোষণা; থাকে তাঁর অনুগত খলিফা রূপে নাগরিকদের দায়িত্বপালনের অঙ্গীকার। বস্তুত সংবিধান হলো মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করা এবং সে বিজয়কে সুরক্ষিত রাখার রোডম্যাপ। মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হওয়া থেকে বাঁচাতে মুসলিম দেশের সংবিধান মাত্রই সুনির্দিষ্ট red line তথা অনতিক্রম্য সীমারেখা বেঁধে দিবে -সেটিই কাঙ্খিত। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান সে কাজটি করে না। বরং বৈধতা দিয়েছে মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহকে। দেশটির জনসংখ্যার শতকরা ৯১ ভাগ মুসলিম হলেও দেশটির নাম ইসলামী প্রজাতন্ত্র নয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের মূল নীতি হলো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ। ধর্মনিরপেক্ষতা বাঁচাতে এ সংবিধানের যুদ্ধটি মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া বিধানের বিরুদ্ধে। ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেয়াকে সাংবিধানিক ভাবে অসম্ভব করা হয়েছে। অথচ মুসলিম হওয়ার অর্থ: সত্য ও অসত্য, ন্যায় ও অন্যায়, ইসলাম ও অনৈসলাম এবং জালেম ও মজলুমের লড়াইয়ে সে কখনোই নিরপেক্ষ হয় না। বরং সব সময়ই সত্য, ন্যায় ও মজলুমের পক্ষ নেয়। ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেয় দেশের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও আদালতে। ইসলামের বিজয় বাড়াতে এমন কি যুদ্ধও করে। যুদ্ধকালে নিরপেক্ষ থাকার অর্থ অন্যায়কারী ও জালেমের পক্ষকে বিজয়ী করা। এটি হারাম।
অপর দিকে বাংলাদেশের সংবিধান দেশের মুসলিম জনগণকে বাধ্য করেছে কাফির, জালেম ও ফাসিক হতে -সেটি আদালতে শরিয়া বিধানকে বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে। কারণ, আদালতে যারা শরিয়ার আইন অনুযায়ী বিচার পরিচালনা করে -তাদেরকে কাফির, জালেম ও ফাসিক বলেছেন খোদ মহান আল্লাহতায়ালা, সেটি সুরা মায়েদার ৪৪, ৪৫ ও ৪৭ নম্বর আয়াতে। তাই বাংলাদেশের সংবিধান হলো মহান আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের দলিল। ধর্ম নিরপেক্ষতা বাঁচাতে এ সংবিধান নিষিদ্ধ করে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। ইসলামপন্থীদের নির্মূলের যুদ্ধের অংশ রূপে ময়দানে নেমেছে বাংলাদেশের পুলিশ। তারা হাসিনার আমলে গৃহে গৃহে তল্লাশী চালিয়েছে জিহাদ বিষয়ক বই বাজেয়াপ্ত করতে। সে বই রাখার অপরাধে ইসলামপন্থীদের কারাবন্দী করেছে। ইসলামের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে দেশের আদালতের বিচারকগণও রণাঙ্গণে নেমেছে। তারা ইসলামপন্থীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বৈচারিক হত্যা করেছে। এবং দেশের পুলিশ, বিজিবি, RAB এবং সেনাবাহিনী একত্রে দেশের নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাতে দেখা গেছে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে। অনৈসলামী রাষ্ট্র এভাবেই পরিণত হয় শয়তানের নৃশংস হাতিয়ারে।