কল্লোল আহমেদ, লালমনিরহাট: উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে চরম অনিয়ম ও মূল্য অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন দোকানে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এই অতিরিক্ত মূল্য আরও বেশি নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৭২৮ টাকা হলেও, জেলার শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অনেক দোকানে তা ১,৯৫০ থেকে ২,০৫০ টাকা কিংবা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
ভুক্তভোগী কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তাদের ভাষায়, ব্যবসায়ীরা এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে ক্রেতাদের। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি না দিলে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। বিশেষ করে গ্রামীণ বাজারগুলোতে নজরদারির অভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করেছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ সাদী জানান, “এলপিজি গ্যাসের বাজার নিয়মিত নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি না করে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে বাজার পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাদের মতে, শুধু আশ্বাস নয়—দৃশ্যমান অভিযান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই এই নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব।
সচেতন নাগরিকরা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এলপিজি গ্যাসের এই অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।