• ঢাকা |

সীমান্ত পরিস্থিতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্য সম্পর্কে জাস্টিস পার্টির বিবৃতি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ঘটনাবলি, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য দেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কিছু ব্যক্তিকে অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে আখ্যায়িত করে সীমান্তবর্তী এলাকায় জড়ো করা হচ্ছে এবং তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যও এ বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিষয়গুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটন, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের দেশপ্রেমিক জনগণ বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তাদের এই ভূমিকা জাতির জন্য গর্বের বিষয়।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি মনে করে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং দেশের জনগণকে যথাযথ তথ্যের মাধ্যমে আশ্বস্ত করা।
এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি মনে করে, এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতি একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্য, প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক স্বাভাবিক এবং কাম্য। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো বিভাজনের অবকাশ নেই। এ ধরনের জাতীয় ইস্যুতে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে জাতীয় বিভক্তি ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে বিদেশি শক্তি বহুবার বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। অতএব বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য আরও সুদৃঢ় করা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় যে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যেকোনো ধরনের উত্তেজনাকর, উসকানিমূলক অথবা ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে সকল বিষয়ের সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
একই সঙ্গে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী, ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন, যেকোনো ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তি পরিহার করবেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি তার সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য, সংযম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আজ এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ জাভেদ মোঃ সালেহউদ্দিন উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন।