• ঢাকা |

হঠাৎ বন্যায় তিস্তা পাড়ের পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আকস্মিক বন্যা। এতে তিস্তা পাড়ের অন্তত পাঁচটি উপজেলার ১৫টি গ্রামের পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হঠাৎ করেই তিস্তার পানি বেড়ে যায়। পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়। তবে বুধবার সকাল ৬টার পর পানি কিছুটা কমে গিয়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধি এবং স্রোতের কারণে হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, বসতবাড়ি এবং পুকুরের মাছ।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিন্দুরনা, পাটিকাপাড়া ও গড্ডিমারী ইউনিয়ন; কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী; আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এবং সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও গোকুন্ডা ইউনিয়ন।

কালমাটি বাগাডোরা গ্রামের কৃষক হায়দার আলী বলেন, “রাতে অতটা পানি ছিল না। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়ি-ঘর, ক্ষেত-খামার সব পানিতে তলিয়ে গেছে। আমার মুরগির ঘর ভেসে গেছে, দুটি ছাগল মারা গেছে। বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না, ধানের ক্ষেতের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।”

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, “গতকাল রাতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে যাওয়ায় কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আজ সকালে পানি কমলেও ভাটির দিকে এখনো চাপ রয়েছে। ধুবনী এলাকায় একটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটির মেরামতের কাজ চলমান।”

এলাকাবাসী দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।