• ঢাকা |

সরকারি ভবনে ৫০০০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলারের দাবি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

রায়হান আহমেদ, ময়মনসিংহ ব্যুরো চীফ: সরকারি ভবনগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পাঁচ  হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
১৩ মে  মঙ্গলবার নেত্রকোনায় অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, ক্লিন (কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক), বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি) এবং ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফইডি), নেত্রকোনার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রচারাভিযান ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়। পরে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগ দেশের সরকারি ভবনগুলোতে রুফটপ সোলার স্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই।
পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী ইমন সরকার বলেন, রুফটপ সোলার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। সৌরপ্যানেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, স্থাপনকারী কোম্পানি, রক্ষণাবেক্ষণ সেবাদাতা এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সরবরাহকারীদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে, যা দেশের সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি ভবন, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও প্রশাসনিক স্থাপনার অব্যবহৃত ছাদগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এসব স্থানের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে এবং সঞ্চালন ক্ষতিও কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদার সময় রুফটপ সোলার নির্ভরযোগ্য সহায়ক জ্বালানি উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ সময় বক্তারা নেট মিটারিং ব্যবস্থা আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার দাবি জানান, যাতে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায়। পাশাপাশি প্রশাসনিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, সরকারি পর্যায়ে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে আঞ্চলিকভাবে একটি উদাহরণ তৈরি করতে সক্ষম হবে এবং পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।