• ঢাকা |

রাজশাহীতে জোর করে জমি দখল, হামলা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

শামীম রহমান , রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীতে মোহনপুর থানার বেড়াবাড়ী গ্রামে অবৈধভাবে জোরপূর্বক জমি দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। জমিটি দখল করা নিয়ে প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে ওই পরিবারের লোকজনদের ব্যাপক মারপিট করে গুরুতর জখম করেছে। এতে অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।  রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগিরা রাজশাহীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জমির মালিকের ছেলে মেহেদী হাসান রনি বলেন, আমরা পেশায় কৃষক। মোহনপুর থানাধীন বেড়াবাড়ী গ্রামের শামীমের বাড়ীর উত্তর পাশে আমাদের ক্রয় সূত্রে ২৫ শতক জমি আছে যা প্রায় ২৫ বছর যাবৎ ভোগ দখল করে আসছিলো। আমরা উক্ত জমি আলু লাগানোর জন্য চাষ করি। কিন্তু গত ২১/১১/২০২৫ খ্রিঃ সকাল ৬.০০ টায় উক্ত জমিতে প্রতিপক্ষরা জোর পূর্বক গম রোপন করছিলো।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, আমার বাবা মোঃ মমিন (৬০) প্রতিপক্ষকে গম রোপন করতে নিষেধ করলে এরাদ মৃধার হাতে থাকা কোদাল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার পিছনে কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে। আক্কাস সরদারের হাতে থাকা বল্লম দ্বারা আমার বাবার ডান পায়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। ময়েদের হাতে থাকা হাতুরি দ্বারা আমার বাবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেরে ছিলা ফোলা জখম করে। আমার চাচা মোঃ রহমত (৫০), পিতা-মৃত আঃ রহিম সরদার বিল থেকে ঐ দিকে দিয়ে আসার সময় আমার বাবাকে মারা দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলে সৈয়দ, আফাজের হাতে থাকা হাতুরি দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার চাচার মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেরে রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে। আমার চাচা মোঃ রহমত (৫০) ডাকা চিৎকার করলে বাড়ী হতে আমারা এগিয়ে গেলে সবুজ ও মাসুদের হাতে থাকা হাতুরি এবং বাশের লাঠি দ্বারা আমার চাচাতো ভাই মোঃ রোহান (২২), পিতা-মোঃ কেরামত আলীকে আঘাত করে কপাল সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। জাসুদ এবং আমিনসহ সকলেই তাদের হাতে থাকা হাতুরি এবং হাসুয়া দ্বারা আমার ভাই মোঃ আবির হোসেন জনিকে (১৭) পায়ে আঘাত করে রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে এবং তার বাম হাতে মেরে ভেঙ্গে ফেলে। আমার চাচা মোঃ মনিরুল ইসলাম (৩০), পিতা-মৃত বদর উদ্দিনকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেরে রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে।  
গুরুতর আহত ভুক্তভূগী মেহেদী হাসান রনি আরো বলেন, আমাকে কোদাল এবং লোহার শাবল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের পর আঘাত করে। আমি মাটিতে পড়ে যায়। আমাকে যারা রক্তাক্ত করে গুরুতর জখম করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
রনি আরো অভিযোগ করেন, মামলা করার পরেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা হয়রানি মূলক মামলায় তাদেরকে জড়ানো হয়েছে। তারা সকলেই রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়েছে অথচ থানার পুলিশ তাদের প্রতিপক্ষকে গোপনে সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) মমিন সরদারের ছেলে শামীম রেজা (৩৩) মোহনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে গুরুতর জখম আর এক ভূক্তভূগী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি ওখানে দাড়িয়ে ছিলাম। অতর্কিতভাবে হঠাৎ করে আমার উপর আক্রমণ করে বসে। আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আমি আত্মরক্ষা করে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যালে চিকিৎসা নেয়। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবিও করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ওদের হামলায় আমাদের ৭ জনের মুখ, মাথা এবং পা মারাত্মক জখম হয়েছে। ডাক্তাররা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিক।
এদিকে মোহরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগতভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মামলা এবং পরবর্তী আইনী পদক্ষেপের ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুকুল চন্দ্রের কাছে জানতে চাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।