• ঢাকা |

"গণরায় বাস্তবায়ন না হলে থামবো না": লালদিঘিতে ১ দলের হুঁশিয়ারি, ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সমাপ্ত


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে ১ দলীয় ঐক্যের "ঢাকা টু চট্টগ্রাম" লংমার্চ শনিবার রাত পৌনে ৯টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

সকাল সোয়া ৮টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চ পথে কাঁচপুর, পদুয়া বাজার, মহীপাল ও মিরসরাইয়ে পথসভা করে চট্টগ্রামে পৌঁছে। নির্ধারিত পথসভার বাইরেও রুটের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে অনির্ধারিত সমাবেশ হয়। রাস্তার দুই ধারে শত শত মানুষ লংমার্চকে অভ্যর্থনা জানায়।

সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, "৬ দফার একটিও ১ দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের।" 

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংস্কারের গণভোটে ৭০% মানুষ 'হ্যাঁ' ভোট দিলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। "এ সরকার গণভোটের প্রায় ৭০% মানুষের গণরায়কে বাস্তবায়ন না করে জাতিকে অপমান করছে। ৭০% জনগণের গণরায় বাস্তবায়ন না করে আমরা থামবো না। আমাদের লড়াই চলবে। আমরা বাংলাদেশকে বদলাবো, ইনশাআল্লাহ," বলেন তিনি।

জুলাই গণহত্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে না, জুলাই গণহত্যার বিচার আমরা পাবো।" সরকার বিচার না করলে "১১ দল জনগণের সরকার গঠন করে বিচার নিশ্চিত করবে" বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও দুর্নীতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "দেশে গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, কিন্তু বিল দিতে হচ্ছে জনগণকে। সমাজে হানাহানি, সন্ত্রাস ও চুরি-চামারিতে ঝাপিয়ে পড়েছে বিএনপির লোকেরা।"

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, "দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার কোনো পরিকল্পনা এ সরকারের নেই। বিরোধী দল সমর্থন না দিলে এ সরকার দেশ চালাতে পারবে না।" 

তিনি বলেন, "জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে বিরোধীদল সহযোগিতা করবে। আপনারা দুর্নীতি করলে আমরা এক বিন্দু সহযোগিতা করব না। সংসদ ও রাজপথ আজ একাকার হয়ে গেছে। আপনাদের জবাব দিতে হবে।"

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, "আমাদের লংমার্চের উদ্দেশ্য কোনো দলীয় বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, আমাদের উদ্দেশ্য হলো চব্বিশের ছাত্র-জনতা যে স্বপ্ন দেখেছিল স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার।" 
তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, "বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সাথে গাদ্দারি করছে। বিএনপি গাদ্দারি করলেও আমরা গাদ্দারি করতে পারবো না। এজন্য আজ আমাদের আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলো।"

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, এনসিপির সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

এর আগে সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

দাবিসমূহ: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম কমানো, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধ ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন।