ফিরোজ মাহবুব কামাল
আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডা এবং নবীজী (সা:)য়ের ভূ-রাজনীতি
অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলামের পার্থক্য বহু ক্ষেত্রে; তবে মূল পার্থক্যটি হলো, ইসলামের রয়েছে সুনির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা। এবং সে এজেন্ডাটি মহান আল্লাহ তায়ালার। বস্তুত ইসলামের প্রতিটি এজেন্ডাই হলো একমাত্র তাঁর। ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ছাড়া পূর্ণ ইসলাম পালনের কাজটি যে আদৌ হয়না -সেটি মহান রব’য়ের এজেন্ডাটি বুঝলে সহজেই বুঝা যায়। নবীজী (সা:)’য়ের কর্মকাণ্ড তাই শুধু ধর্মপালন ও ধর্মপ্রচারের মাঝে সীমিত ছিল না। তিনি শুধু দ্বীনের দায়ী, কুর’আনের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ছিলেন না। তাকে প্রতিষ্ঠা দিতে হয়েছে বহু রক্ত ব্যয়ে ইসলামী রাষ্ট্র এবং ১০টি বছর দায়িত্বপালন করতে হয়েছে সে রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান রূপে। তিনি ছিলেন সেনাপ্রধানও। সে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দিতে তাকে সন্ধি ও যুদ্ধ করতে হয়েছে। তাই যারা রাষ্ট্রকে ইসলাম থেকে আলাদা করতে বলে, বুঝতে হবে তারা ব্যর্থ হয়েছে ইসলাম বুঝতে। বুঝতে হবে, তারা নবীজী (সা:)’য়ের অনুসারী নয়। তারা ইসলামের প্রতিষ্ঠাকে সীমিত এবং মুসলিমদের দুর্বল ও পরাজিত দেখতে চায়। রাজনীতির অঙ্গণে এরা সেক্যুলারিস্ট, কম্যুনিস্ট, ফ্যাসিস্ট, রাজতন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী। এরা যখন নিজেদেরকে মুসলিম রূপে পরিচয় দেয়, বুঝতে হবে এরা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর ছদ্দবেশী শত্রু।
ইসলাম যেহেতু পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান (Complete code of life), রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ইসলাম তার গণ্ডির বাইরে রাখতে পারে না। অথচ যারা ইসলামের শত্রু, যারা চায় ইসলামের শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ সীমিত হোক এবং যারা বাঁচতে চায় দুর্বৃত্তি নিয়ে -একমাত্র তারাই বলে রাজনীতির ময়দান থেকে ইসলামকে সরানো হোক। এটিতো শয়তানকে খুশি করার নীতি। তাদের কাছে আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করা গুরুত্ব পেলে তারা রাজনীতির অঙ্গণে ইসলামকে দেখতে চাইতো। আল্লাহ তায়ালা চান, রাষ্ট্রের ন্যায় পৃথিবী পৃষ্ঠের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানকে ইসলামের প্রচারে ও প্রতিষ্ঠায় এবং শত্রুশক্তির প্রতিরোধে হাতিয়ার রূপে কাজে লাগানো হোক। নবীজী (সা:) তো সেটিই করেছেন। কারণ, রাষ্ট্রের বিশাল প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ও তার সামরিক ও বেসামরিক জনবলকে কাজে না লাগালে মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডার বাস্তবায়ন অসম্ভব। তখন শরিয়ার বিচার, কুর’আন থেকে জ্ঞানদান, দুর্বৃত্তির নির্মূল এবং সুবিচারের প্রতিষ্ঠা, ইসলামের সামাজিক নিরাপত্তার বিধান ও শত্রু শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদের বিধানগুলি কেবল কিতাবেই থেকে যায়। নবীজী (সা:) ও খোলাফায়ের রাশেদার আমলে রাষ্ট্রকে ইসলামের প্রচারে ও প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগানো হয়েছিল বলেই পৃথিবীর বুকে ইসলাম দ্রুত প্রসার পেয়েছিল। কিন্তু আজ সে নীতি পরিত্যক্ত; ফলে ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠাই শুধু থেমে যায়নি, বিলুপ্ত হয়েছে মুসলিমদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ইজ্জত।
মহান আল্লাহ তায়ালার ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা দেখা যায় নবীজী (সা:)য়ের রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মাঝে। কারণ, নবীজী (সা:) যা কিছু করেছেন -তা তিনি নিজ ইচ্ছা থেকে করেননি; বরং সব কিছুই করেছেন মহান রব’য়ের নির্দেশে। নবীজী (সা:)’য়ের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল কর্মটি হলো ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। সে রাষ্ট্রের নির্মাণে মহান আল্লাহ তায়ালা নবীজী (সা:)কে শুধু পথ নির্দশনাই দেননি, রণাঙ্গণে ফিরেশতা বাহিনী পাঠিয়ে বিজয়ীও করেছেন। তাই ভূ-রাজনীতি, রাষ্ট্র নির্মাণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নবীজী (সা:)’য়ের অনুসরণের অর্থ মহান আল্লাহ তায়ালার অনুসরণ। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর ঈমানদার বান্দাকে কিরূপে দেখতে চান -সে চিত্রটি তিনি পবিত্র কুর’আনে বার বার বর্ণনা করেছেন। সে কাঙ্খিত মানবটির জীবন চিত্রকে সমগ্র মানব জাতির সামনে দৃশ্যমান হয়েছে নবীজী (সা:)’য়ের ২৩ বছরের নবুয়তী জীবনের মধ্য দিয়ে। এজন্যই নবীজী (সা:)কে আল্লাহ তায়ালা “উসওয়াতুন হাসনা” তথা অনুকরণীয় উত্তম আদর্শ রূপে অভিহিত করেছেন।
নবীজী (সা:)কে অনুকরণীয় উত্তম আদর্শ রূপে অভিহিত করে আল্লাহ তায়ালা যা বুঝিয়েছেন তা হলো, প্রতিটি ঈমানদারকে চেষ্টা করতে হবে তার মত পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হতে। সেটিই হলো পূর্ণ ইসলাম পালন ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার রোডম্যাপ। নবীজী (সা:)’য়ের মত মুসলিম কেউই হতে পারবে না -আল্লাহ তায়ালা সেটি জানেন। তবে তাঁকে অনুসরণ করার সামর্থ্য তিনি সবাইকে দিয়েছেন। তাঁর জীবনকে সবার সামনে রেখে তিনি দেখতে চান নবীজী (সা:)’য়ের অনুকরণে প্রতিটি মানুষের নিয়ত, তাড়না ও বিনিয়োগ। এখানেই ঈমানের পরীক্ষা। এ পথে কে কতটুকু সামনে এগোতে পারবে -সেটি মহান রব’য়ের হাতে; তবে মানুষ পুরষ্কৃত হবে তার নিয়ত, তাড়না ও বিনিয়োগের ভিত্তিতে। নবীজী (সা:)’য়ের অনুসরণ করতে গিয়ে হযরত সুমাইয়া (রা:)ও তাঁর স্বামী হযরত ইয়াসির (রা:) কাফিরদের হাতে নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ফরজ হওয়ার আগেই অতি নির্মম ভাবে শহীদ হয়ে গেছেন। তারাই ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ। প্রশ্ন হলো, নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত পালন না করাতে কি তাদের জীবন ব্যর্থ হয়ে গেছে? কখনোই নয়; বরং তাঁরা পেয়েছেন উচ্চ মার্গীয় শহীদের মর্যাদা। অনেকে শত বছর বেঁচে থেকে এবং দীর্ঘকাল নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত পালন করেও শহীদের মর্যাদা পায় না। তারা তো ছিলেন আমৃত্যু সিরাতাল মুস্তাকীমের উপর; এবং সে পথে চলার শুরতেই তারা শহীদ হয়ে গেছেন। বেঁচে থাকলে তারা সারা জীবন সে পথেই চলতেন। কারণ, যারা শহীদ হওয়ার সামর্থ্য রাখে, তারা সামর্থ্য রাখে সিরাতাল মুস্তাকীমের চলারও। ফলে তারা সওয়াব পাবেন পূর্ণ সিরাতাল মুস্তাকীম চলার।
মুসলিমদের উপর ফরজ হলো নবীজী (সা:)’য়ের পূর্ণ অনুসরণ। পবিত্র কুর’আনে একথাও বলা হয়েছে, যে অনুসরণ করে নবীজী (সা)কে সে অনুসরণ করে আল্লাহ তায়ালাকে। সে কথাটি বলা হয়েছে সুরা নিসার ৮০ নম্বর আয়াতে। তাই শুধু নামাজী, রোজাদার, হাজী, যাকাত দাতা ও তাসবিহপাঠকারী রূপে নিজেকে গড়ে তুললে নবীজী (সা:)’য়ের পূর্ণ অনুসরণের কাজটি হয় না। তাতে ফাঁকিবাজী থেকে যায়। সে ফাঁকিবাজীর জন্য তাকে রোজ হাশরে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। একজন চিত্রশিল্পী যখন কোন গাছকে সামনে রেখে ছবি আঁকে, তখন সে গাছটির কাণ্ড, ডাল পালা, পাতা, ফুল ও ফল -ইত্যাদি যা কিছু দেখে ছবির মধ্যে সব কিছুই ফুটিয়ে তুলতে হয়; ছবি আঁকতে কিছু বাদ দিলে ছবিটি অপূর্ণাঙ্গ হয়। তাতে ছবি আঁকার ক্ষেত্রে ফাঁকিবাজী হয়। তেমনি ঈমানদারের তাড়না থাকতে হয় নবীজী (সা:)’য়ের পূর্ণ অনুসরণে।
নবীজী (সা:) ছিলেন একজন পূর্ণ মানব। তাঁর ইবাদত শুধু নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও তাসবিহ তাহলিলে সীমিত ছিল না। তিনি ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রের নির্মাতা। তিনি ছিলেন রণাঙ্গণে যোদ্ধা ও সেনাপতি। তিনি ২৮টি যুদ্ধে নিজে যোগ দিয়েছেন এবং ৮৩ যুদ্ধ সংগঠিত করেছেন। তিনি ছিলেন আমৃত্যু শিক্ষক। মানুষকে তিনি দিন রাত ইসলামের দিকে ডেকেছেন। যুদ্ধে আহত হয়েছেন, দাওয়াত দিতে গিয়ে নির্যাতিত হয়েছেন। তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা ও সংস্কৃতির নির্মাতা। তিনি ছিলেন আদর্শ স্বামী এবং আদর্শ পিতা। নবীজী (সা:)’য়ের মাঝে দেখা যেত মহান আল্লাহর এজেন্ডাকে বিজয়ী করার সার্বক্ষণিক তাড়না। অথচ নবীজী (সা:)’য়ের অনুসরণে বড় রকমের ফাঁকিবাজী হচ্ছে মুসলিমদের মাঝে। অনেকে শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালনের ক্ষেত্রে তাঁর সূন্নতগুলি অনুসরণ করছে, কিন্তু তাদের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও যুদ্ধ বিগ্রহে মহান আল্লাহ তায়ালার ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা নজরে পড়ে না -যেমনটি দেখা যেত নবীজী (সা:)’য়ের জীবনে। রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মুসলিম দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে জাতীয়তাবাদী, স্বৈরচারী, রাজতন্ত্রী সেক্যুলার ধারাকে।
বিজয় শয়তানী শক্তির ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডার
আল্লাহ তায়ালা চান, প্রতিটি ঈমানদার বান্দা শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতই পালন করবে না, বরং তাঁর খলিফা রূপে কাজ করবে তাঁর ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে। তারা নির্মাণ করবে শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র, শ্রেষ্ঠ সংস্কৃতি ও শেষ্ঠ সভ্যতা। তিনি চান, সে রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা পাবে একমাত্র তাঁরই সার্বভৌমত্ব ও শরিয়া। এবং প্রতিষ্ঠা পাবে নবীজী (সা:) ও খোলাফায়ে রাশেদার অনুকরণে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, বৈচারিক ও জনগণের পূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তার নীতিমালা। সে রাষ্ট্র থেকে নির্মূল হবে সকল প্রকার মিথ্যাচার ও দুর্বৃত্তি। সে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক পাবে জাহান্নামের পথ থেকে বাঁচার এবং সিরাতাল মুস্তাকীমে চলার সর্বপ্রকার সহায়ক রাজনৈতিক ও শিক্ষা সাংস্কৃতিক পরিবেশ। রাষ্ট্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কাজ করবে ছাত্র ছাত্রীদের পূর্ণ মুসলিম রূপে গড়ে তোলার হাতিয়ার রূপে। তিনি চান, মুসলিমগণ থাকবে একতাবদ্ধ এবং বাঁচবে সকল প্রকার বিভক্তি থেকে। বস্তুত কুর’আন নাযিল, রাসূল প্রেরণ এবং মুসলিম উম্মাহকে ঘিরে এটিই হলো মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডা -যার ঘোষণা বার বার এসেছে সেটি সেটি পবিত্র কুর’আনে। রোজ হাশরে প্রতিটি মুসলিমের বিচার হবে, সে কতটা একাত্ম হয়েছিল সে এজেন্ডার সাথে। কারণ, তাঁর খলিফা রূপে সে দায়িত্ব পালনই হলো তার মূল দায়।
বস্তুত প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী দায় হলো, সে তাঁর নিজের নিত্য দিনের বাঁচার এজেন্ডাকে মিলিয়ে নিবে মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডার সাথে। এবং নিজের রাজনৈতিক ও শিক্ষা সাংস্কৃতিক জীবনকে মিলিয়ে নিবে মহান নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের জীবনের সাথে। গরমিল দেখা গেলে বুঝতে হবে সিরাতাল মুস্তাকীমে চলার কাজটি হচ্ছে না। তখন ফরজ হলো নিজেকে শুধরিয়ে নেয়া। নবীজী (সা:) যতদিন বেঁচেছিলেন তত দিন তিনি ও তাঁর সাহাবাগণ মহান আল্লাহ তায়ালার সরসরি নজরদারীতে ছিলেন। তাঁরা ভুল করলে সাথে সাথে তিনি তা সংশোধন করে দিতেন। এজন্যই বলা যায়, একমাত্র তাদের ইসলামই হলো বিশুদ্ধ ইসলাম। অর্থাৎ তাদের অনুসৃত ইসলামই হলো প্রতি যুগের, প্রতি দেশের প্রতিটি মুসলিমের জন্য অনুকরণীয় ইসলাম। ফলে সিরাতাল মুস্তাকীমে চলতে হলে একমাত্র তাদের পথ ধরতে হবে। এজন্যই শুধু পবিত্র কুর’আন থেকে পাঠ নিলে চলে না, পাঠ নিতে হয় নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের জীবন থেকেও।
শিক্ষাঙ্গণ হচ্ছে ছাত্র ছাত্রীদের চরিত্র নির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি। জাতির উত্থান ও পতনের শুরুটি এখান থেকেই। অথচ বাংলাদেশে এটিই হলো সবচেয়ে ব্যর্থ খাত। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের জীবন থেকে জ্ঞানদানের কাজটি হচ্ছে না। ফলে হচ্ছে না তাদের অনুসরণের কাজ। বরং শিক্ষাঙ্গণে বিশাল জায়গা দখলে নিয়েছে রবিন্দ্রনাথের ন্যায পৌত্তলিক। তার পৌত্তলিক বন্দনার গানকে জাতীয় সঙ্গীত করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গণে চলছে গল্প, উপন্যাস ও নাটক চর্চার নামে পরকীয়ার প্রশিক্ষণ। স্কুলের ছাত্রকে পাটিগণিত শেখানোর নামে শেখানো হয় দুধে পানি মেশানো ও সূদে লাভের অংক। এভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কাজ করছে শয়তানের ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে। সে বিজয়ের নমুনা হলো, প্রতিষ্ঠা পেয়েছে জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমের ন্যায় হারাম মতবাদ। মুসলিম ভূমিতে কবরস্থ হয়েছে প্যান ইসলামী মুসলিম ভাতৃত্ব; এবং মুসলিম বিশ্ব জুড়ে বিভক্তির দেয়াল গড়া হয়েছে ৫০টির বেশি ভাষা, বর্ণ ও অঞ্চল ভিত্তিক জাতীয় ও উপজাতীয় রাষ্ট্র।
একতা নয়, বিভক্তি নিয়ে বাঁচাই আজ মুসলিমদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। তারা খেলাফত ভেঙেছে, পাকিস্তান ভেঙেছে এবং আরব ভূমিকে ২২ টুকরোয় বিভক্ত করেছে। মুসলিম বিশ্বের কোন কোণেই তারা প্রতিষ্ঠা দেয়নি ইসলামী রাষ্ট্র। কোথাও প্রতিষ্ঠা দেয়নি মহান রব’য়ের শরিয়া আইন। মুসলিম উম্মাহর বিভক্ত মানচিত্র ও তাদের ভূ-রাজনীতিই দৃশ্যমান করছে মুসলিম ভূমিতে শয়তানের ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডার বিশাল বিজয়। তারা সিরাতাল মুস্তাকীম তথা জান্নাতের পথ হারিয়েছে বহু আগেই। সিরাতাল মুস্তাকীম তো ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তথা মহান রব’য়ের ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডাকে বিজয়ী করার পথ। মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়াকে বিলুপ্ত করে এবং জাতীয়তাবাদ, স্বৈরতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমকে বিজয়ী করে সে পথে চলা যায় না। ০৩/০৯/২০২৬