• ঢাকা |

চিকিৎসক অনুপস্থিত, রোগীরা সেবাবঞ্চিত: অফিস টাইম মানেন না বাঘারপাড়া হাসপাতালের কর্মকর্তারা


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

এমএন শাহিনুল ইসলাম: যশোর অফিস: বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসকসহ জনবল সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে চিকিৎসা কার্যক্রম। অথচ চিকিৎসকরা বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। সুযোগ সুবিধা নেওয়ার জন্য প্রেষনে রয়েছেন অন্য হাসপাতালে।

বাঘারপাড়া উপজেলা জনবহুল এলাকা নয়টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা ১৯৬টি গ্রাম নিয়ে ভৌগলিক অবস্থান প্রায় তিন লক্ষ মানুষের বসবাস। ২৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন ১৫ জন। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবকাঠামোভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: অরুপ জ্যোতি ঘোষ, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (এ্যানেথেশিয়া) ডা: নুরুন নাহার সোম ও বৃহস্পতিবার বাকি ০৪ দিন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সেবা দেন।  জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনী) ডা: সঞ্চিতা অধিকারী মিষ্টি শনিবার যশোর পুলিশ লাইন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেন। ডেপুটেশনে আছেন ০৩ জন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা: আক্তারুজ্জামান (চক্ষু), ডা: মুস্তাক আহমেদ মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য, (ঢাকা), ডা: শেখ আব্দুর রাজ্জাক মেডিকেল অফিসার (ইউনানী) শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।

হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসক দিয়ে দায়সারা মতো সেবা চলছে। এর মধ্যে রাতে যিনি ডিউটি করেন পরের দিন অফডে থাকে। এর মধ্যে কেউ ছুটিতে গেলে চিকিৎসা সংকট বিরাজ করে। আন্তবিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলে হাতে গোনা চিকিৎসক থাকায় চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ব্যহত হয়। স্টাফ নার্স ইনচার্জ তানজিরা সহ ৩০ জন কর্মরত আছেন।মেডিকেল টেকনোলজি  (ডেন্টাল) ইপিআই টেকনিশিয়ান সাব এসিট্যান্ট তাপস বাবু নামে মাত্র আছেন ডেন্টাল রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত। পরিচ্ছন্ন কর্মী আছে ০৫ জন। অপরদিকে এক্স-রে মেশিন অচল। আল্ট্রাসোনো অপারেটর না থাকায় বন্ধ থাকে। এছাড়া রয়েছে ঔষধের তীব্র সংকট।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ভারপ্রাপ্ত ডা: খায়রুল্লাহ আল মুছাদ্দীর বলেন, চিকিৎসকের স্বল্পতার কারনে আউটডোর, ইনডোর রোগীদের প্রচন্ড চাপ। এ কারনে মুমুর্ষু রোগীদের সঠিকভাবে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। 

অপর দিকে ডা: মোহন কুমার পাল বলেন রোগীগের চাপের মুখে থাকলেও সঠিকভাবে কোন রোগীকে না দেখে প্রেসক্রিপশন দিতে পারছিনা। এতোটা সামলানো কঠিন। 

গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট সঞ্চিতা অধিকারী মিষ্টি জানান, সপ্তাহের প্রতি শনিবার যশোরের পুলিশ লাইন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা প্রদান করি। বাকী দিন বাঘারপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেবা দিয়ে থাকি। তিনি আরো বলেন, আমার দায়িত্ব কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে থাকি। সরকারি কোন দায়িত্ব কর্তব্য অবহেলা করি না। সূত্র প্রকাশ বিগত দিনগুলোতে রোগীরা সঠিকভাবে সেবা পেত। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা: অরুপ জ্যোতি ঘোষ যোগদানের পর থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা ধরনের অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে বলে স্থানীয়রা জানান। সরকারি নিয়ম ০৮ টা থেকে ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত রোগীদের সেবা দেওয়া। অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা: অরুপ জ্যোতি ঘোষ ১১-১২ টায় অফিসে আসেন। দুপুর একটা বাজলেই শহরে ফিরে যান। কর্মকর্তা কর্মচারীরা অধিকাংশ অনিয়মের মধ্যেই চলছে। গতকাল শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা: অরুপ জ্যোতি ঘোষ কে অফিসে দেখা যায়নি।এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বয়ে আসছে। 

প্রশাসনিক অদক্ষতা, দায়িত্বে অনিহা ও ইচ্ছামতো অফিসে আসেন ও ফিরে যান। দেখার মতো কেউ নেই। এদিকে ডা: মনিরুজ্জামান মোবাইল ফোনে জানান, অফিস টাইম কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত আমি বলব কেন, অফিসে জেনে নিন। একাধিক রোগীর সাথে কথা হয়, তারা অতি দুঃখের সাথে বলেন, ১০টা বাজলেও ডা: মনিরুজ্জামান তিনি অফিসে আসেননি। তিনি বেসরকারি বাঘারপাড়া নামীয়ও ক্লিনিকটি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। জরুরী রোগী হাসপাতালে আসলে তিনি তার ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন বলে একাধিক অভিযোগে একথা জানা গেছে। এদিকে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা: মাসুদ রানা জানান সরকারি নিয়মের মধ্য দিয়ে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে চলতে হবে। অনিয়মের মধ্যে কাউকে চলতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ অনিয়মের মধ্যে চলতে চায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থ্য গ্রহন করা হবে।