• ঢাকা |

ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতা: মুসলিম রূপে বাঁচায় ব্যর্থতার শো’কেস


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ফিরোজ মাহবুব কামাল

পরিত্যক্ত হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ

কি ধরণের গৃহে বাস করে তা দেখে পরিচয় মেলে সে গৃহের বাসিন্দার চিন্তা চেতনা, কর্মকুশলতা, রুচি ও সংস্কৃতির। চিন্তা চেতনা, কর্মকুশলতা, রুচি ও সংস্কৃতি যেহেতু সবার এক নয়, ফলে একই রূপ নয় সবার গৃহ। তাই কেউ গুহায়, কেউ তাঁবুতে এবং কেউ পরিচ্ছন্ন সুন্দর গৃহে বাস করে।  তেমনি রাষ্ট্র দেখে পরিচয় মেলে রাষ্ট্রের নাগরিকদের চিন্তা চেতনা, কর্মকুশলতা, রুচি, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের। এজন্যই পৌত্তলিক,  বা সেক্যুলারিস্টদের রাষ্ট্র এবং মুসলিমের রাষ্ট্র কখনোই একই রূপ হয়। একই রূপ হয়না রাষ্ট্রের রাজনীতি, প্রশাসন, আইন আদালত, শিক্ষা সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তার বিধান এবং যুদ্ধ বিগ্রহের রীতি নীতি। মানুষ কিভাবে বাঁচতে চায় সেটি যেমন তার গৃহে মাঝে দেখা যায়, তেমনি দেখা যায় তার রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্রীয় পরিচালনার নীতিমালার মাঝে। যারা চিন্তা চেতনায় পশ্চাদপদ তাদের ব্যর্থতা দৃশ্যমান হয় রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতা দেখে।

মুসলিমদের ইবাদত শুধু মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ নয়, বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি হলো ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ। মসজিদ মাদ্রাসার সংখ্যা কম হলেও তেমন ক্ষতি হয় না, কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র না থাকলে অসম্ভব হয় পূর্ণ ইসলাম পালন। তাই নবীজী মক্কায় ১৩টি বছর নবীজী (সা:) ইসলাম পালন করেছেন কোন মসজিদ নির্মাণ না করেই। অথচ মক্কায় থাকা অবস্থাতেই ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছিল। মদিনায় গিয়ে তিনি মাত্র একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে মসজিদে জিরা নামে আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল সেটিকে তিনি আল্লাহর নির্দেশে জ্বালিয় দিয়েছিলেন। কারণ সেটি ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আখড়া। নবীজী (সা:)’য়ের সকল সামর্থ্য নিয়োজিত হয়েছিল ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের লড়াইকে জিহাদ তথা সর্বোচ্চ ইবাদত বলা হয়। নবীজী (সা:)’য়ের আমলের ইসলামের সাথে আজকের ইসলামের পার্থক্য অনকে; তবে মূল পার্থক্য হলো তারা ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিয়ে পূর্ণ ইসলাম পালন করতেন। আর আজকের মুসলিমগণ ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের প্রকল্পই বাদ দিয়েছে। তারা বাঁচে অপূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালন নিয়ে।

অন্যদের কাছে রাষ্ট্র গুরুত্ব পায় জাতীয় পরিচয়, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ সেবা ও যোগের অবকাঠামা সুনিশ্চিত করার প্রয়োজনে। কিন্তু মুসলিমদের কাছে রাষ্ট্রের গুরুত্ব আরো বেশি। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্র দেয় পূর্ণ দ্বীন পালনের সহায়ক পরিবেশ। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থ হলে ব্যর্থ হতে  পূর্ণ ইসলাম পালনে। তখন মুসলিমদের স্বাধীনতা, জান মালের নিরাপত্তা, শরিয়ার আইন, কুর’আন থেকে জ্ঞান লাভ, দ্বীনের প্রচার, দুর্বৃত্তির নির্মূল, সুবিচারের প্রতিষ্ঠা, প্যান ইসলামী মুসলিম ভাতৃত্বের ন্যায় ইসলামের মৌলিক প্রকল্পগুলি কিতাবেই থেকে। ফলে যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা কুর’আন নাযিল করেছেন এবং ইসলামকে দ্বীন হিসাবে নির্ধারিত করেছে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। ইসলামী রাষ্ট্রের গুরুত্ব নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাগণ বুঝতেন; তাই তাদের বিপুল অর্থ, শ্রম ও রক্তের কুরবানী দিতে হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে। তাছাড়া এমন একটি রাষ্ট্রের নির্মাণ গুরুত্ব পেয়েছিল সর্বজ্ঞানী মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে। নবীজী (সা:) সেরূপ একটি রাষ্ট্রের নির্মাণে উদ্যোগ নেন তো মহান রব’য়ের নির্দেশেই। মহান রবই রণাঙ্গণে ফিরেশতা পাঠিয়ে সে প্রকল্প নস্যাৎ করার সকল শয়তানী প্রচেষ্ঠাকে বানচাল করে দেন।

ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে ব্যর্থতায় দৃশ্যমান হয় পূর্ণ মুসলিম হওয়ায় ব্যর্থতা  

ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ ছিল নবীজী (সা:)’য়ের আমলে সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাজ। অর্ধেকের বেশি সাহাবা ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ ও সে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষায় শহীদ হয়ে গেছেন।  বস্তুত ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতাই মুসলিম জনগোষ্ঠির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতা দৃশ্যমান করে দেশবাসীর মুসলিম রূপে বেড়ে উঠায় ব্যর্থতা। মসজিদ নির্মাণ, মাদ্রাসা নির্মাণ, ইয়াতিম খানা নির্মাণ ইত্যাদি অন্য কাজে বিশাল সাফল্য দিয়ে এ ব্যর্থতা পুষিয়ে নেয়া যায় না। রাষ্ট্রের দায় শুধু প্রশাসনের অবকাঠামো, রাস্তা ঘাট ও কল কারখানা গড়া নয়, বরং সে সাথে সংস্কৃতি, রুচি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের নির্মাণও। রাষ্ট্র সে কাজগুলি করে বলেই গুহাবাসী মানুষ আর সভ্য রাষ্ট্রের নাগরিক কখনোই একই রূপ হয়না। যে জনগোষ্ঠি কোন কালেই রাষ্ট্র গড়েনি এবং যে জনগোষ্ঠি রাষ্ট্র গড়েছে - বিশাল পার্থক্য দেখা যায় তাদের উভয়ের মাঝে। তাদের সংস্কৃতি, রুচি ও মূল্যবোধ কখনোই একই রূপ হয়না; পার্থক্যটি বিশাল। গুহাতে বা তাঁবুতে কখনোই কোন সভ্যতা গড়ে উঠেনি, গড়ে উঠেছে রাষ্ট্র নির্মাণের পর। কৃষি বা গৃহ নির্মাণ শিখতে মানবের বহুকাল লাগেনি। কিন্তু রাষ্ট্র নির্মাণ শিখতে হাজার হাজার বছর লেগেছে। তারপরও বহু অপূর্ণতা ও বহু ত্রুটি রয়ে গেছে।

মানুষ বড় ভুলটি গৃহ নির্মাণে করে না; কৃষিকাজেও করেনা। বরং সবচেয়ে বড় ভুলটি রাষ্ট্র নির্মাণে ও রাষ্ট্র পরিচালনায়। রাষ্ট্র পরিণত হতে পারে অবিচার, নির্যাতন ও নৃশংস নাশকতার হাতিয়ারে। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বড় গণহত্যা ও গণনির্মূলের নৃশংসতাগুলি হিংস্র পশু বা রোগ জীবাণুর হাতে ঘটেনি, সেগুলি ঘটেছে রাষ্ট্রগুলির হাতে। রাষ্ট্রগুলির হাতেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণগত নির্মূল। একমাত্র দুটি বিশ্বযুদ্ধে সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাই মহান রাব্বুল আলামীন নবীজী (সা:)কে শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতের নিয়ম কানুন শেখাতে পাঠাননি; বরং পাঠিয়েছেন রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বিষয়টি শেখাতে। নবীজী (সা:) নিজে বাষ্ট্র বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্র নায়ক ছিলেন। শুরুতে তিনি রাসূল তথা আল্লাহ তায়ালার বাণীবাহকও ছিলেন না। তাঁকে রাসূলের দায় দেয়া হয় যখন তাঁর  বয়স ৪০ বছর। নবুয়তের ১৩ বছর পর যখন তিনি মদিনায় হিজরত করেন তখন তাঁর উপর আরেকটি বাড়তি দায়িত্ব দেয়া হয়। সেটি হলো ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ এবং সে রাষ্ট্রের পরিচালনার দায়। তাই যে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁকে রাসূল বানিয়েছিলেন, সে মহান আল্লাহই তাকে রাষ্ট্রের নির্মাতা, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্র নায়ক বানিয়েছেন খোদ মহান আল্লাহ তায়ালা। ফলে নবীজী (সা:)‌’য়ের রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মাঝে দেখা যায় মহান রাব্বুল আলামীনের নিজস্ব রাষ্ট্র নীতি। তাই নবীজী (সা:)কে শুধু রাসূল হিসাবে মানলে তাঁর পূর্ণ অনুসরণের কাজটি হয়না, বরং তাঁকে পূর্ণ অনুসরণ করতে হয় রাষ্ট্রের নির্মাতা ও রাষ্ট্রের নির্বাহী পরিচালক রূপে।     

পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিমদের কাছে গুরুত্ব পায়নি নবীজী (সা:)’য়ের রাষ্ট্র নির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার সে গুরুত্বপূর্ণ সূন্নত। এমন কি মাদ্রাসাগুলিতে তাঁর রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও রাষ্ট্রনীতি পড়ানো হয়না। মাদ্রাসাগুলিতে এমন কি কুর’আন শিক্ষাও তেমন গুরুত্ব পায় নায় না। গুরুত্ব পায় কুর’আনের তেলাওয়াত ও হিফজ। এবং সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয় সেসব হাদীস শিক্ষায় -যা দিয়ে ভিন্ন মতের অনুসারীদের পথভ্রষ্ট, বেদয়াতী বা কাফির বলা যায় এবং নিজেদের ফেরকাকে শ্রেষ্ঠতর প্রমাণ করা যায়। মুসলিম দেশগুলিতে নবীজী (সা:)’য়ের নীতি মালাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র নির্মাণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয় কাফিরদের রীতি নীতি মেনে। নবীজী (সা:)’য়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হচ্ছে মুসলিম ভূমিত। ফলে মুসলিমদের রাষ্ট্রগুলি পরিণত হয়েছে জাতীয়তাবাদ, উপজাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, আঞ্চলিকতাবাদ, রাজতন্ত্র ও স্বৈরাচারের ন্যায় হারাম রাষ্ট্র নীতির শো’কেস। কাফিরদের ন্যায় তারা আদালত থেকে শরিয়তকে বিদায় দিয়েছে। সংবিধান থেকে বিদায় দিয়েছে মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্বকে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিদায় দিয়েছে কুর’আন শিক্ষাকে। দুর্বৃত্তির নির্মূলের ফরজ পালন না করে তারা দুর্বৃত্তির প্লাবন এনেছে। একতার বদলে বিভক্ত মানচিত্র গড়েছে। দেশ গড়ার বদলে দেশ ভাঙাকে গৌরবের বিষয় বানিয়েছে। এভাবে মুসলিম রাষ্ট্রগুলি পরিণত হয়েছে আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের হাতিয়ারে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলি যখন জনগণের রাজস্বের অর্থে আল্লাহ ও তার বিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত, তখন আলেম আল্লামা ও মোল্লা মৌলভী ও সাধারণ মুসলিমগণ নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালন করেই ভাবে, তারা পূর্ণ ইসলাম পালন করছে এবং ভাবে জান্নাত তাদের জুটবেই।

ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ: নবীজী (সা:)’য়ের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান

মানব জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ কর্মটি হলো রাষ্ট্র নির্মাণ। রাষ্ট্র নির্মাণের ফলেই মানব সভ্যতা দ্রুত সামনে এগিয়েছে। জন্ম নিয়েছে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আইনের শাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচার ধারণা। আদিম যুগে এ সবের বালাই ছিলনা; ছিল জঙ্গলের বিধান। জোর যার শাসন তার  -সেটিই ছিল বিধান। রাষ্ট নির্মাণের কাজে সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষণীয় আদর্শ রেখে গেছেন নবীজী (সা:)। নবীজী (সা:)’য়ের জীবনে এটিই হলো সবচেয়ে বড় অবদান। শুরুতে ইসলামের দ্রুত প্রসারের পিছনে ছিল এই রাষ্ট্র। অপর দিকে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থতাই হলো আজকের মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। মুসলিম বিশ্বে বড় বড় শহর নির্মিত হয়েছে, সম্পদের প্রাচুর্য এসেছে, নির্মিত হয়েছে শত শত কল কারখানা এবং গড়া হয়েছে হাজার হাজার কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু নির্মিত হয়নি ইসলামী রাষ্ট্র। ফলে ১৫০ কোটির অধিক মুসলিম ব্যর্থ হয়েছে বিশ্বের মঞ্চে ভূ-রাজনৈতিক শক্তি রূপে আবির্ভুত হতে। এটি আজকের মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।  

মানব সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভ্য ও সৃষ্টিশীল কর্মটি হলো কুর’আন থেকে জ্ঞানদান ও জ্ঞানার্জনের চেষ্টা। এগুণের কারণেই মানব জাতি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি গণ্য হয়। অর্থদান কাউকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচায় না। কিন্ত জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর সে কাজটি করে ওহীর জ্ঞান। কারণ সে জ্ঞান জান্নাতের পথ দেখায়। জ্ঞানদান ও জ্ঞানার্জনের সে মহৎ কাজটি গুহায় বা তাঁবুতে বসে হয় না, জঙ্গলেও হয়না। এজন্য চাই জ্ঞান দানের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অবকাঠামা। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত হলে সে রাষ্ট্রের বিশাল প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো এবং তার অর্থবল ও জনবল পরিণত হয় জ্ঞানদানের কাজে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারে। মহান রব’য়ের বিধান তখন কিতাবে বন্দী থাকে না, তা প্রচার পায় এবং রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার জুড়ে তা প্রতিষ্ঠা পায়। তখন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে বিপ্লব আসে। রাষ্ট্র তখন শান্তির নীড় ও জান্নাতের বাহনে পরিণত হয়। তখন সমাজের অসহায় মানুষদের ভিক্ষায় নামতে হয়না। বরং রাষ্ট্রই তখন সাহায্য নিয়ে তাদের দোয়ারে হাজির হয়। এমন একটি বিপ্লব এসেছিল নবীজী (সা:) ও খোলাফায়ে রাশেদার আমলে। সেটি ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ফলে। সমগ্র মানব জাতির ইতিহাসে এটিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লব। মানবতা, জানমালের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের মান তখন শীর্ষে পৌঁছেছিল। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের কাজটি না হলে শরিয়া বিধান ও ওহীর জ্ঞানের ন্যায় মহান রব’য়ের সর্বশ্রেষ্ঠ দান তখন শুধু কিতাবেই থেকে যায়। এজন্যই পৃথিবী পৃষ্ঠে সবচেয়ে বড় নেককর্মটি হলো ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ।

অনৈসলামী রাষ্ট্র: শত্রু উৎপাদনের রাষ্ট্রীয় কারখানা

ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না দিলে সে ভূমি কখনো খালি থাকেনা। গাছা না জন্মালে যেমন আগাছা জন্মে, তেমনি ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠা পায় অনৈসলামী রাষ্ট্র ও শয়তানী শক্তির শাসন। তখন শিক্ষার নামে শুরু হয় মানব মনের আঙ্গিনায় পরিকল্পিত দূষণক্রিয়া। তখন চেতনার সে ভূমিতে চাষাবাদ হয় দুষ্ট মতবাদ ও মিথ্যা দর্শনের। বস্তুত এ কারণেই ফ্যাসিবাদ, জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, সেক্যুলারিজমের ন্যায় নানা ভ্রান্ত মতবাদের জন্ম হয়েছে এবং বিস্তার পেয়েছে অনৈসলামী রাষ্ট্র। সেটি মারাত্মক সংক্রমণ ঘটিয়েছে ওহীর জ্ঞানশূণ্য ও ঈমানশূণ্য মানুষদের মগজে। এমন সংক্রমণে দুর্বৃত্তে পরিণত হয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। সেটির প্রমাণ বাংলাদেশ নিজেই। বাংলাদেশের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও সংস্কৃতির ময়দানে যারা মতবাদী রাজনীতির নামে ইসলামী রাষ্ট্র, শরিয়া এবং মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত -তারা কোন কাফির দেশ থেকে আসেনি। তারা জন্ম নিয়েছে এবং বেড়ে উঠেছে বাংলাদেশেই। এখন এটি সুস্পষ্ট যে, মুসলিম ভূমিতে যতদিন নির্মিত হবে না ইসলামী রাষ্ট্র এবং মুসলিম সন্তানদের যতদিন দূরে রাখা হবে কুর’আন ও হাদীস থেকে -ততদিন মুসলিম ঘরে শুধু ইসলামের শত্রুই উৎপাদিত হতে থাকবে। ততদিন মুসলিম ঘরে সৈনিক পাবে ইসলামের শত্রুরা। ১৯০ বছর ধরে সেরূপ দাস সৈনিক পেয়েছে ব্রিটিশ কাফিরশক্তি; ১৯৭১’য়ে পেয়েছে ভারতের পৌত্তলিক কাফিরশক্তি। এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে পেয়ে আসছে ইসলাম, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার দেশী শত্রুরা।

তাই ঈমানদারের দায়টি বিশাল। সে দায়টি শুধু ইসলাম বিরোধীদের সামরিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দখলদারিকে নির্মূল করা নয়; বরং ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদ শুরু করা। নবীজী (সা:)’য়ের ন্যায় সে যুদ্ধের শুরু হতে হবে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ দিয়ে। এ যুদ্ধে অস্ত্র হতে হবে পবিত্র কুর’আন এবং কুর’আন লব্ধ জ্ঞান। লক্ষ্য হবে, চেতনার ভূবন থেকে জাহিলিয়াতের নির্মূল। যাদের নাই বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক যুদ্ধের সামর্থ্য, তাদের মনে গড়ে গড়তে হবে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার সংস্কৃতি। এক্ষেত্রে মহান রব’য়ের নির্দেশ হলো:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِم بِالْمَوَدَّةِ

অর্থ: “হে মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধরূপে গ্রহণ করো না। তাদের প্রতি দেখাবে না ভালবাসা।” –(সুরা মুমতেহিনা, আয়াত ১)।

উপরের আয়াতটি একটি আয়াতে মোহকামাত -যাতে মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুম রয়েছে। এ আয়াতে যারা তাঁর নিজের শত্রু -তথা তাঁর দ্বীন ও এজেন্ডার শত্রু এবং মুসলিমদের শত্রু, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা এবং তাদের প্রতি ভালবাসা দেখানোকে তিনি হারাম করেছেন। প্রশ্ন হলো, কারা আল্লাহর শত্রু? সেটি জানা প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরজ। আল্লাহর শত্রু তো তারাই যাদের অবস্থান তাঁর সার্বভৌমত্ব, তাঁর ভূ-রাজনৈতিক ও ধর্মীয় এজেন্ডা এবং তাঁর শরিয়া বিধানের বিরুদ্ধে। এরা হলো তারা, যারা কখনো চায় না এ পৃথিবী পৃষ্ঠে প্রতিষ্ঠা পাক ইসলামী রাষ্ট্র -যা বিলুপ্তি ঘটাবে জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, ফ্যাসিবাদ, সেক্যুলারিজম ও রাজতন্ত্রের ন্যায় সকল মতবাদী রাজনীতি ও দর্শনের। তাই ঈমানদারগণ কখনোই এমন দুর্বৃত্তদের রাজনীতির সমর্থক ও বন্ধু হতে পারে না। সেটি হারাম। তাছাড়া দুর্বৃত্ত বেঈমান কখনোই তার নিজের এজেন্ডা থেকে দূরে সরে না। ফলে তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়তে গেলে ইসলামের এজেন্ডা থেকে মুসলিমদের দূরে সরতে হয়। তাতে বেঈমানি হয় ইসলামের এজেন্ডার সাথে।

মশা মাছি আবর্জনার উপর বসাকে পছন্দ করে; তেমনি দুর্বৃত্তরা পছন্দ করে দুর্বত্তদের দলে ভিড়তে এবং তাদের ক্ষমতায় বসাতে। এটিই দুর্বৃত্তদের রাজনীতি ও সংস্কৃতি। বাংলাদেশে এ দুর্বৃত্তদের সংখ্যাটি এতোই বিশাল যে, বার বার নির্বাচন হলেও ইসলামপন্থীদের বিজয়টি স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। দুর্বৃত্তরা রয়ে গেছে রাষ্ট্রের deep state’য়ে। মিশর, তিউনিসিয়া, আলজিরিয়া, ফিলস্তিনের নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের বিজয়কে যেভাবে ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে -সেটি হচ্ছে বাংলাদেশেও। মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, ভারত -এদের কেউই মুসলিম দেশে ইসলামপন্থীদের বিজয় দেখতে চায় না। ইসলাম থেকে যারা দূরে সরেছে -এরা চায় তাদের ক্ষমতায় আনতে। এটি তাদের ঘোষিত নীতি। বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশগুলিতে তাদের পার্টনার হলো দুর্বৃত্ত কবলিত deep state। দুর্বৃত্তি করাই শুধু নয়, দুর্বত্তিকে বাঁচিয়ে রাখাও এদের নীতি। এদের কারণে দেশের রাষ্ট্র্রীয় ক্ষমতা থেকে এক দুর্বৃত্ত যায়, আরেক দুর্বৃত্ত ক্ষমতায় বসে। বিগত শত শত বছর ধরে বাংলার বুকে সে প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। জনগণ যতদিন এ দুর্বৃত্ত শক্তির নির্মূলের যুদ্ধে সফল না হচ্ছে, ততদিন এ দুর্দিন শেষ হবার নয়।


রাজী নয় আল্লাহ তায়ালার সৈনিকের দায় নিতে

মুসলিম হওয়াটি কোন মামুলি বিষয় নয়। এটি জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচা এবং জান্নাতের পথে চলার মিশন নিয়ে বাঁচা। তাই মুসলিম হওয়ার অর্থ শুধু কালেমা পাঠ, নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালন নয়; বরং জান্নাতের পথে যাত্রা শুরু করা। এটিই জীবনের মূল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্ম। এটি এক বিশাল দায় নিয়ে বাঁচা। জীবনের এ যাত্রা পথে লাগাতর জিহাদ আছে, সে জিহাদে জান মালের কুরবানী আছে। এবং ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণ আছে। যে কোন যাত্রা পথে যাত্রীদের সবাইকে হাঁটতে হয়; কেউ হাঁটা বন্ধ করলে তার যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। সে আর কখনোই গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না। তেমনি জান্নাতের পথে যাত্রা বন্ধ করার বিপদটি ভয়ানক। তখন অসম্ভব হয় জান্নাতে পৌছা; জাহান্নামে পৌঁছা ছাড়া তখন ভিন্ন পথ থাকে না। যাত্রা বন্ধ হতে পারে নানা কারণে। কারণটি হতে পারে পার্থিব লালসার কারণে যাত্রায় অনাগ্রহ, মৃত্যুর ভয়, আখেরাতের ভয়শূণ্যতা ও ঈমানশূণ্যতা।

সেনাদলের সব সৈনিককেই যুদ্ধ করতে হয় -এটি এক সার্বক্ষণিক দায়। এমন কি ঘুমন্ত অবস্থায় যুদ্ধের ডাক এলে ঘুম থেকে ত্বরিৎ জেগে উঠে যুদ্ধে যেতে হয়। কোন সেনাদলে নিষ্ক্রিয় সৈনিক বলে কেউ নাই; তেমনি ইসলামে নিষ্ক্রিয় মুসলিম বলেও কেউ নাই। মুসলিম হওয়ার অর্থই হলো সার্বক্ষণিক সৈনিক হওয়া। তাই নবীজী (সা:)’য়ের আমলে প্রতিটি সুস্থ মুসলিমকে রণাঙ্গনে দেখা গেছে। অথচ আজকের মুসলিমদের এখানেই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। তারা নামাজী, হাজী ও রোজাদার হতে রাজী, কিন্তু সৈনিকের দায় নিতে রাজী নয়। অথচ সে দায় পালনে ময়দানে হাজির না হলে যে মুসলিম থাকা যায়না -সে সামান্য জ্ঞানটুকুও তাদের নাই। এভাবে দায় এড়ানো যে বিশুদ্ধ মুনাফিকি সেটুকুও তারা জানে না। এটি ভয়ানক অজ্ঞতা; এ অজ্ঞতা জাহান্নামে নেয়। বিষকে বিষ রূপে না জানলে তার পরিণাম ভয়ানক; তখন বিষ পানে মারা যেতে হয়। পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিম মনের এ ভয়ানক অজ্ঞতাকে দূর করবে এমন মৌলিক জ্ঞানটুকু বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলিতে ছাত্রদের দেয়া হচ্ছে না। ফলে গুরুতর অপরাধের কাণ্ড ঘটছে শিক্ষালয়ে।  ভয়ানক ব্যর্থতা এখানে কুর’আনী জ্ঞানদানে।

বস্তুত মুসলিম উম্মাহর সকল ব্যর্থতার শুরু শিক্ষাদানে ব্যর্থতা থেকে। যে অজ্ঞতার কারণে এমন কি একজন নিয়মিত নামাজী, রোজাদার এবং হাজীও পূর্ণ ঈমানদার হতে ব্যর্থ হয়। মুসলিম মনে সে অজ্ঞতা বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে ব্রিটিশগণ পরিকল্পিত ভাবে স্কুল কলেজে যেমন কুর’আন শিক্ষা নিষিদ্ধ করেছিল, তেমনি জিহাদ বিষয়ক শিক্ষা নিষিদ্ধ করেছিল তাদের অনুমোদনপ্রাপ্ত আলিয়া মাদ্রাসা ও কওমি মাদ্রাসাগুলিতে। ধর্মপালন বলতে এসব মাদ্রাসায় শুধু নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও দোয়াদরুদের তালিম দেয়া হয়। বয়ান দেয়া হয় কুর’আন তেলাওয়াত ও কুর’আন মুখস্থ করার ফজিলতের। সেখানে রাষ্ট্র, জিহাদ ও রাষ্ট্রীয় ভূ-রাজনীতি নিয়ে চিন্তা ভাবনার কোন সুযোগ নাই। তারা চায়, জনগণ বাঁচতে শিখুক জালেম শাসকের জুলুম সহ্য করে। আত্মসমর্পিত সে জনগণ তখন শাসকের বিরুদ্ধে জিহাদের দায় নেয় না; বরং বিপুল সংখ্যায় জালেম শাসকের চাটুকর সৈনিকে পরিণত হয়। মুসলিম বিশ্বের দুর্বৃত্ত জালেম শাসকগণ তো বেঁচে আছে তাদের সাহায্য নিয়েই। তাই আলেমদের দেখা গেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে কওমী জননী বলতে।

এরূপ চাটুকরদের দিয়ে এজিদ বিশাল সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিল এবং সে বাহিনী দিয়ে খোলাফায়ে রাশেদাদের রেখে যাওয়া বিশাল রাষ্ট্রের উপর নিজের দখলদারি প্রতিষ্ঠা করেছিল। মুসলিমদের পতনের যাত্রা তখন থেকেই বেগবান হয়। একই ভাবে অনুগত চাটুকরদের দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনাও গড়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী,  RAB এবং ছাত্রলীগের দুর্বৃত্ত বাহিনী। অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র এ ভাবে দখলে চলে গেছে ইসলামের শত্রু শক্তির হাতে; ফলে কোথাও বেঁচে নাই নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম। সাধারণ মুসলিমরা খুশি মসজিদে নামাজ আদায়, রোজা পালন ও হজ্জ পালনের সুযোগ পেয়ে। এর বাইরে কিছু ভাবতে তারা রাজী নয়।  

দুর্বৃত্ত শক্তির দখলদারির কারণে রাষ্ট্র পরিণত হয়েছে নৃশংস অপরাধ কর্মের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারে। ফলে দেশের সকল চোর ডাকাত, সকল সন্ত্রাসী এবং সকল খুনিগণ মিলে যত অপরাধ সংঘটিত করে -তার চেয়ে হাজার গুণ অধিক অপরাধের কাণ্ড ঘটায় রাষ্ট্রের সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধীগণ। শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি পরিণত হয়েছিল সবচেয়ে বড় অপরাধী সংগঠনে। তার আমলে বার বার গণহত্যা হয়েছে। ব্যাংক ও শেয়ার মার্কেট থেকে লুণ্ঠিত হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। শেখ হাসিনার আমলে দেশ থেকে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের ন্যায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানকে অপরাধীদের দখলে রেখে ইবাদত শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ-যাকাতে সীমিত রাখলে - পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হয়, এ হলো তার নমুনা।

ব্রিটিশ অনুমোদিত আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার ফল হলো, এসব মাদ্রাসায় শিক্ষিতরা নামাজে হাজির হলেও জিহাদে হাজির হতে রাজী নয়। কুর’আন বুঝতে অক্ষম জনগণ মসজিদ মাদ্রাসার নির্মাণে লাখ বা কোটি টাকা দানে রাজী হলেও ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদে ভোট দিতে তারা রাজী নয়। তারা বরং ভোট দেয় ইসলামী রাষ্ট্র ও শরিয়া বিরোধী সেক্যুলার দলকে। এসব মাদ্রাসার শিক্ষকগণ বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের অস্ত্র হতে পারে এমন একখানী ভাল বই লিখতে বা পড়তে রাজী নন। এমন কি রাজী নন, সেরূপ কোন ভাল বই বাজার থাকলে সেটি ছাত্রদের হাতে তুলে দিতে। এভাবেই পরিকল্পিত ভাবে ছাত্রদের মনে ইসলামী জ্ঞানার্জনে অনিহা সৃষ্টির সাথে জিহাদশূণ্যতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। মাদ্রাসাগুলি ব্যবহৃত হচ্ছে নিজ নিজ ফিরকা, ত্বরিকা ও মজহাবের অনুসারী তৈরীর কাজে। ফলে যতই নির্মিত হচ্ছে মাদ্রাসা, ততই বাড়ছে মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি। জিহাদ থেকে দূরে সরানোর প্রজেক্ট সফল হওয়াতে মুসলিম ভূমি কাফির শক্তির হামলার শিকার হলেও প্রতিরোধের যুদ্ধে নামাজীদের দেখা যায় না। বাঙালি মুসলিমের এ রোগ অনেক পুরনো। তাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মাত্র ৪ হাজার সৈন্য তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী দেশ বাংলাকে কয়েক ঘন্টায় দখলে নিতে পেরেছিল। এ বিশাল বাংলা জয়ে ব্রিটিশের রাজকীয় সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে নামতে হয়নি, সে যুদ্ধে কোম্পানীর ক্ষুদ্র বাহিনীই যথেষ্ট ছিল। এটি নিদারুন লজ্জার বিষয়। এ বিপর্যয়ের কারণ, বাংলার স্বৈরশাসক এবং বাঙালি মুসলিম জনগণ মনযোগী হয়েছিল শুধু জগত বিখ্যাত মসলিন, মখমল, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও রেশম পণ্যের প্রাচু্র্য বাড়াতে, ওহীর জ্ঞান বাড়াতে নয়। আর এর পরিণতি, স্বাধীনতা হারিয়ে ব্রিটিশের ১৯০ বছরের গোলামী। আজও মুসলিম উম্মাহর দেহে একই রোগ। কুর’আনী জ্ঞানের গভীর শূণ্যতা থেকে জন্ম নিয়েছে ঈমানশূণ্যতা। ঈমানশূণ্যতা থেকে জন্ম নিয়েছে জিহাদশূণ্যতা। ফলে দেশ মসজিদ মাদ্রাসায় ভরে গেলেও শত্রুশক্তির হাতে অধিকৃত এ দেশটিতে জিহাদে লোক নাই। নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালনে আগ্রহ দেখা গেলেও তারা দায় নিতে রাজী নয় সৈনিকের। ফলে মুসলিমগণ ব্যর্থ হচ্ছে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে: ফলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ দেশের মত দেশগুলিতে দুর্দান্ত প্রতাপে শাসন চলছে ইসলামের শত্রুদের। ০৪/০৯/২০২৬