• ঢাকা |

শত বছরের ধর্ম সেবা আশ্রম, শিব মন্দিরটি নতুন করে স্থাপনা করার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ফারুক আহমেদ, মাগুরা: মাগুরা শালিখা উপজেলার বুনাগাতি ইউনিয়নের নলের বিলের মাঠে অবস্থিত। এখানে হাজরাতলা শিব মন্দিরের সামনে আছে ১০০ বছরের উপর বয়সী বরই গাছের কয়েকটি জোড়া গাছ।

সেবায়েত বা সেবাইত বলতে হিন্দু ধর্মে মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেব-দেবীর নিত্য পূজা-অর্চনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিকে বোঝায়। তিনি দেবোত্তর সম্পত্তির বা মন্দিরের কার্যনির্বাহী বা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সহজ কথায়, দেবতা বা বিগ্রহের সেবক এবং দেবত্র সম্পত্তির তদারককারীই হলেন সেবায়েত।

ঝিনাইপুকুর মহাশ্মশান বিজয় কৃষ্ণ সেবায়েত আশ্রমের সেবায়েত শৈলন্দ্রনাথ সামন্ত জানান, আমি দীর্ঘ ৪০ বছর এই মহাশ্মশানে তদারকির দায়িত্ব পালন করে আসছি। আর এখানে নড়াইল জেলার দক্ষিণ তুলারামপুর এলাকার ইচড়া গ্রামের পাগল বিজয় কৃষ্ণ আসেন বাংলাদেশ স্বাধীনতার ১৯৭১ সালের পূর্ব সময়ে। তৎকালীন সময়ে আমাদের বাউলিয়া গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামের বেশ কয়েকজন লোকজনের মোড়ক লাগে পাগল বিজয় কৃষ্ণকে তাড়িয়ে দেয় তখন বিজয় কৃষ্ণ পাশ্ববর্তী শালিখা ইউনিয়নের রায়জাদাপুর চলে যায়। খবর শুনে তৎকালীন সময়ের জমিদার সুধাংশু ভূষণ বখসী তখন বিজয় কৃষ্ণকে আবার নিয়ে এসে পুনরায় যোগ্য করালেন এবং ১ একর ৮০ শতাংশ জমি পাগল বিজয় কৃষ্ণের নামে রেজিস্ট্রি করে লিখে দেন। ভারতের আসাম, উড়িষ্যা, বিহার, কলকাতা, দিল্লি ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এসে এই ঝিনাইপুকুর মহাশ্মশান বিজয় কৃষ্ণের সেবায়েত আশ্রম ও হাজরাতলা শিব মন্দিরে ভালো মন করে মান্নত করতে আসে এবং ভগবান স্রষ্টার কৃপায় তাদের মনো বাসনা পূর্ণ হয়।

বন্ধু ডেকোরেটরের কর্মী সদস্য অনিক রায় নামযজ্ঞের আগের দিন বিজয় কৃষ্ণ সেবায়েত আশ্রমের কালি মন্দিরের পূর্ব পাশে থেকে রাত ৮ টার সময় হঠাৎ করে ছায়া দেখে ভয় পেয়ে বেহুশ হয়ে যায়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে সেবায়েত শৈলেন্দ্রনাথ সামন্ত জানান, এখানে আসতে হলে কখনও মনে কুমতলব, কুচিন্তা, অপরাধ মূলক চিন্তা ও অকথ্য ভাষা ব্যবহার করলে তাকে আলামত দেখা দিবে। আর আমি যখন শিব মন্দিরের সামনের বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার সময় ও মাটি দেওয়ার সময় রাতে গাড়ির লোকজন জানায় রাতে তারা স্বচক্ষে বিরাট আগুনের আলোকসজ্জা মহাশ্মশানের পুকুরের মধ্যে পড়তে দেখেছে। তাছাড়া এটা হলো হিন্দু ধর্মাল্বীদের জন্য একটা পবিত্র স্থান এখানে ভালো মন করে আসলে কেউ এই পর্যন্ত খালি মুখে খাবার না খেয়ে যাইতে পারিনি। আর তারা নিয়মিত প্রতিদিন বিশেষ করে তিনজন পূজা অর্চণা, মহাভারত পাঠ, রামায়ণ পাঠ ও সন্ধ্যার সময় হরে রাম হরে কৃষ্ণ রাম রাম হরে কৃষ্ণ সঙ্গীত করেন। ভবিষ্যতে এখানে লালন সাধক সাইজি লালনের কীর্তি স্থাপনা করার পরিকল্পনা আছে। তাছাড়া এই ঝিনাইপুকুর মহাশ্মশানে হৃদয় চাঁদ বাবার সমাধি, রাধাকৃষ্ণ মন্দির, শ্রী শ্রী দেবী মা কালী মন্দির, রথের চূড়া, নাট মন্দির, নামযজ্ঞে আসা লোকজনের থাকার জন ঘর নির্মাণ, রান্না ঘর, খাটিয়া, স্নান করার জন্য বড় পুকুর, টিউবওয়েল ও বিভিন্ন প্রকারের বড় বড় গাছপালা আছে যেটা শৈলন্দ্রনাথ নিজে হাতে লাগিয়ে ছিলেন। তিনি আরও জানান, সেবায়েত বিজয় কৃষ্ণ ছিলেন একজন আধ্যাত্বিক জ্ঞানী মানুষ আমি তার গুরু সান্নিধ্যে পেয়ে তার সাধু দর্শন পেয়ে ছিলাম যার জন্য জীবনের যুবক বয়স থেকে তার খেদমত করে এসেছি। আর বাকী জীবন ভগবানের কৃপায় আমি মানুষের ধর্ম দিয়ে সেবা ও হিন্দু ধর্মের একটা মানুষের শেষ কৃতি কাজে নিয়োজিত থাকবো আর আমার সাথে ওতপ্রোতভাবে ভাবে আমার দুই শিষ্য ভক্ত পঙ্কজ কুমার ও ব্রজেন সিংহ আমার সাথে থাকে ও সমস্ত কাজে সহযোগিতা করে। তিনি সবশেষে বলেন মানব সেবা হচ্ছে বড় ধর্ম সেবা। আর পশু প্রাণীদেরকেও সেবা করতে হবে।

সোমবার ৯ মার্চ বিকাল ৫ টার সময় ২০২৬ সাল সরজমিন পরিদর্শন করে জানা যায়,  বর্তমান বিজয় কৃষ্ণের আশ্রমে সেবায়েত শৈলন্দ্রনাথ সামন্ত তার নিজস্ব পৈত্রিক ১৭ শতাংশ জমি পাগল বিজয় কৃষ্ণ সেবায়েত আশ্রমের নামে লিখে দিয়েছেন অনুমান ১৯৯৬ সালে। এখন তার সাথে হাজরাতলা শিব মন্দির কমিটির সভাপতি নিরঞ্জন পোর্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক অজিত মজুমদার, সদস্য পঙ্কজ কুমার কুন্ডু, সদস্য ব্রজেন সিংহ।

হাজরাতলা শিব মন্দিরটি নতুন করে তৈরি ও স্থাপনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেছেন শিব মন্দির কমিটির প্রধান সেবায়েত শৈলন্দ্রনাথ,  সভাপতি নিরঞ্জন, সাধারণ সম্পাদক অজিত, সদস্য পঙ্কজ, ব্রজেন।