রায়হান আহমেদ, ময়মনসিংহ ব্যুরো: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা নিয়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘Orientation of LGI, Leaders and Stakeholders on the Climate-Energy Nexus, focusing on Rooftop Solar’ শীর্ষক এ সভা ২৪ আগস্ট ২০২৬ কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজন করে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডাব্লিউজিইডি)।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী।
সভায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, সফলতা এবং ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা’ বিষয়ক একটি নীতিপত্র অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উপস্থাপন ও শেয়ার করা হয়। নীতিপত্রে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক বাড়ি, সরকারি স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প ব্যবস্থা নয়, এটি জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যম। এ খাতের সম্প্রসারণে প্রয়োজন সহজ অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং নীতিগত সহযোগিতা।
নীতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি জরুরি। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি সেবার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রহিমা আক্তার, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নেত্রকোনার সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাও সভায় অংশ নেন। তাঁরা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সম্ভাব্য স্থাপনা চিহ্নিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের কোপ প্রকল্পের ইন্টার্ন নুসরাত নেহা।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব, অন্যদিকে তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ তৈরি করা যাবে।
সভায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়।