বিশেষ প্রতিবেদক: বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সাময়িক অনুমোদন পেয়েছে। চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, "আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির সাময়িক অনুমোদনের চিঠি পেয়েছি। এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।"
ড. সালেহউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সাংবাদিক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, "এটি আমাদের সকলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।"
এ বিষয়ে ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন আরো জানান, ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস বিভিন্ন সময়ে তিনবার পরিদর্শন করে এবং তিনবারই বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে। কিন্তু সুদীর্ঘ সময় পার হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। 2024 সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ পুনরায় বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির অনুমোদনের জন্য আবেদন করলে তাদের আবেদন আমলে নিয়ে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী প্রফেসর ড এম আমিনুল ইসলাম সিনিয়র সচিব বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে তৃতীয়বার পরিদর্শন সম্পন্ন করা হয় এবং পরিদর্শন রিপোর্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড আবরার হোসেন এর সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিকে অনুমোদন দেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সভায় তৎকালীন শিক্ষা সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন কাজে নিয়োজিত কমিটি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। বার বার বিভিন্নভাবে বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রী মহল তৎপর বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।এর অন্যতম কারণ হিসাবে যেটি সামনে এসেছে যা রীতিমতো ভয়াবহ বিষয়। বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন 12 দলীয় জোটে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড মো জসিমউদ্দিন আহমেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক রাজনীতির একজন শীর্ষ নেতা এবং বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির উপউপাচার্য লে. জে. চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ারদি ছিলেন বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় বিইউপির উপাচার্য এবং তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়সরকারের বিরোধিতার কারণে কারাবরণ করেছিলেন, তিনি যোগ করেন।
ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির আধিক্য রয়েছে বলে বিগত বছরের দিনগুলোতে এটি আলোর মুখ দেখেনি বলে জানা যায়।এসব কারণে প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র শুরু থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছে, যদিও বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিনকে এসব প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আমি দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে একটি ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।