• ঢাকা |

বাউবিতে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিচার না করে বিশেষ পরিদর্শক করা হচ্ছে স্পর্শকাতর সেনানিবাসে


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সৈনিকদের জন্য কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে ব্যারাক বা সেনানিবাসে অবস্থান করে চাকুরীর পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার জন্য পরিচালিত হয় নিশ-১ নামে একটি প্রোগ্রাম যা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুল পরিচালনা করে থাকে।
এই প্রোগ্রামের আওতায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সারাদেশের ১৬ টি সেনানিবাসে অবস্থান করে শুক্রবার ও শনিবার পরীক্ষা দিয়ে থাকে। উক্ত পরীক্ষা সমূহ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুলের শিক্ষকগণ সারাদেশের সেনানিবাসে সরাসরি উপস্থিত থেকে পরীক্ষা সম্পন্ন করে এরং পরীক্ষা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য শুক্রবার ও শনিবার তাদেরকে সেনানিবাসের গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে হয়। গত ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নিশ-১ এইচএসসি পরীক্ষার বিশেষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া ভ্রমণাদেশ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, এই তালিকায় চিহ্নিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দোসর হিসেবে খ্যাত  শিক্ষকদের নাম রয়েছে।
দেখা যাচ্ছে, এই শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছে ড. জাকিরুল ইসলাম যিনি এখনো আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক। যাকে মাওয়া জাজিরা সেনানিবাস ও সাভার সেনানিবাসে বিশেষ পরিদর্শক হিসেবে ১৭, ১৮ এবং ৩১ অক্টোবর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ড. শহীদুর রহমান, যিনি সর্বশেষ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শিক্ষক ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। যাকে বিশেষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে  মাওয়া জাজিরা সেনানিবাস ও সাভার সেনানিবাসে বিশেষ পরিদর্শক হিসেবে ২৪, ২৫ এবং ৩১ অক্টোবর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আওয়ামী প্যানেল থেকে শিক্ষক  সমিতির নির্বাচিত সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুদীপ রায়কে দেয়া হয়েছে ১৭, ১৮ এবং ৩১ অক্টোবর বিএনএস হাজী মহসীন ও যমুনা সেনানিবাস, টাংগাইলে। আওয়ামী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী বুদ্ধিজীবি ড. জাফর ইকবালের সাবেক ছাত্র দুলাল মাহমুদকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিএনএস হাজী মহসীন ও মাঝিড়া সেনানিবাস বগুড়ায়। আওয়ামী সরকারের পলাতক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের চাচাতো ভাই মাসুদ তালুকদারকে মাঝিড়া সেনানিবাস ও যশোর সেনানিবাসে এবং ওমর ফারুক ভূইয়াকে দেয়া হয়েছে ঘাটাইল সেনানিবাসে। 

৫ আগষ্ট পরবর্তী নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলটি যখন দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র  করে যাচ্ছে তাদের এমন চিহ্নিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের স্পর্শকাতর সেনানিবাসে অফিসিয়াল বৈধতা দিয়ে যাওয়া এবং সেনানিবাসে অবস্থান করতে দেয়ার সুযোগ নিরাপত্তার জন্য কতটুকু হুমকি, তা বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। বিগত দিনে দেখা গেছে, শুধুমাত্র জামায়াত বিএনপি সংশ্লিষ্ট থাকার অজুহাতে কয়েকজন শিক্ষককে সে সময় নিশ-১ প্রোগ্রামের বিশেষ পরিদর্শক তালিকা থেকে বাদ রাখা হতো। এবিষয়ে ওপেন স্কুলের ডিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 
তাদেরকে ট্যুর দেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বাধা নিষেধ না থাকায় তাদের নাম ট্যুর তালিকায় দেয়া হয়েছে। নিশ-১ প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী সহযোগী অধ্যাপক আদনান আরিফ সালিম বলেন, ট্যুর তালিকা পাশ হয় প্রশাসন থেকে। এবিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে ফোন করে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে প্রফেসর ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনিন
প্রোভিসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় -এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনারা বলাতে আমি বিস্তারিত অবগত হলাম। বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের কোনো স্থান নেই। যত শীঘ্র সম্ভব, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।