• ঢাকা |

সুন্দরগঞ্জে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়, চার মাসেও নেই মেরামতের উদ্যোগ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

শাহজাহান মিয়া , সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চার মাসেও সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি অফিস কক্ষ মেরামত করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষে বসেই দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

 

এদিকে একই ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার হাবলুর মোড়ের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর থাকা একটি বিশাল আকৃতির সরকারি রেইনট্রি গাছ উপড়ে পড়ে পাশের মালিকানা জমিতে পড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে গাছটি পড়ে থাকায় জমির মালিকও সমস্যায় পড়েছেন। তিনি গাছ পড়ে থাকা অংশ বাদ দিয়ে জমির বাকি অংশে ইতোমধ্যে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন।

 

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ মে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবল কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়া, ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্তসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি বিশাল আকৃতির বটগাছ উপড়ে পড়ে প্রধান শিক্ষক, করণিক ও শিক্ষকদের মিলনায়তনসহ তিনটি অফিস কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

ঝড়ের পর স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে ঘটনার প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখনো কোনো সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

 

সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক. জ. ম. হাবিবা বেগম বলেন, ঝড়ে বিদ্যালয়ের তিনটি অফিস কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রায় চার মাস হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ঝড়ে উপড়ে পড়া বটগাছটি নিলামে প্রায় ২৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে বড় ধরনের মেরামতের কাজ করা সম্ভব নয়। এখনো গাছটির গোড়া সরানো সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে কষ্ট করে শ্রেণিকক্ষে বসেই অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা তৈরি করে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকেও দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে তা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় থাকা বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশও নিশ্চিত হবে।