মো: মামুন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটায় জমির ক্রেতা অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে স্ত্রী সানজিদা শেলী শাপলার পরিকল্পিত অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্যসংবলিত সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম। সোমবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনীতে চাকরিকালীন সময়ে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে তিনি সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ডাকবাংলা বাজারসংলগ্ন ঝাড়াবর্ষা মৌজায় জমি কিনেছিলেন। পরে স্ত্রী সানজিদা শেলী শাপলার সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্তে ওই জমির আড়াই শতকের ওপর তিনতলা ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করেন।
তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় গত ৮ এপ্রিল পার্শ্ববর্তী এলাকার অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের কাছে তিনতলা ভবনসহ ওই জমি রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করেন। জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর স্ত্রী শাপলা, শ্বশুর শাহাদুজ্জামান সাজু এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে ভবনসহ জমির দখল ক্রেতা জিল্লুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
আশরাফুলের অভিযোগ, জমি বিক্রির পর থেকেই তার স্ত্রী শাপলা ক্রেতা জিল্লুর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন অপবাদ ও অপপ্রচার চালাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে গত ৮ মে জিল্লুর রহমানের নিয়োগ করা কেয়ারটেকার আসাদুজ্জামানকে সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান গত ২০ মে সাঘাটা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৬৭/২০২৬ নম্বর মামলা করেন বলে জানান আশরাফুল ইসলাম। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে সানজিদা শেলী শাপলা স্বেচ্ছায় রাতেই ওই বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল ইসলাম নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি নেশাগ্রস্ত নন এবং অনলাইন জুয়ায়ও জড়িত নন।
তার দাবি, স্ত্রী শাপলা জমির ক্রেতা অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্যসংবলিত সংবাদ প্রচার করছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকার লিয়াকত আলী, আসাদুজ্জামান পারভেজ, আশরাফুলসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত সানজিদা শেলী শাপলা ও অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।