• ঢাকা |

দলীয়করণ ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ফেরায় সরকার জনগণকে হতাশ করেছে: এবি পার্টি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৯ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ডেস্ক রিপোর্ট: স্বায়ত্তশাসিত ও করপোরেশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ এবং শিক্ষাঙ্গনে সংঘাতের পরিবেশ ফিরে আসায় সরকার জনগণকে হতাশ করেছে বলে অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের পুরস্কার দেওয়ার জায়গা নয়। যোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত না হলে এসব প্রতিষ্ঠান আবারও জনগণের আস্থা হারাবে।

রোববার রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও ওষুধনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন জেলা ও মহানগর কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করা হবে না—এমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। তার দাবি, সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত বা নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। এ ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবের অধীনে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সরকারের উচিত জনগণের দুর্ভোগ বাড়ায়—এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। একই সঙ্গে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং তা প্রতিহত করতে ছাত্রশিবিরের পাল্টা তৎপরতা সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তার ভাষায়, এ পরিস্থিতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিএনপি ও জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি নিজ নিজ ছাত্রসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়ে মঞ্জু বলেন, শিক্ষাঙ্গনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এর সুযোগ নেবে আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’। দেশকে আবার অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের পথে দেখতে চান না বলেও জানান তিনি।
সভায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহ, ওষুধনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা হয়।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করা। এ জন্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।

একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও জনগণের নিত্যদিনের সংকট ও দাবিগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বিভেদ ও বিদ্বেষ নিয়ে কোনো রাষ্ট্র সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় দলের সাংগঠনিক বিষয়েও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রংপুর মহানগর ও রংপুর জেলা কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রংপুর মহানগর ও জেলা কমিটি পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওয়াহাব মিনার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলকে।

সভায় মাঠপর্যায়ে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, সংগঠন শক্তিশালী করা এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবি পার্টির করণীয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওয়াহাব মিনার, আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর কাসেম, অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, ব্যারিস্টার খান আযম, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি, আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুল, এবিএম খালিদ হাসান, ব্যারিস্টার নুরুল গাফফার, আমিনুল ইসলাম এফসিএসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লোকমান, আব্দুল বাসেত মারজান, অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন ও সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্য নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।