• ঢাকা |

৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশ ডেকে এনেও জবরদখল থেকে জমি রক্ষা করতে পারেননি দরিদ্র রিক্সাচালক


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারীতে প্রভাবশালীদের শেল্টারে এক রিক্সাচালকের জমি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই জমিতে থাকা বিভিন্ন ফলজ গাছ কর্তন করে সেখানে অস্থায়ীভাবে তৈরিকৃত একটি টিনের ঘর এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় অসহায় রিক্সাচালক জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল করে পুলিশ ডেকে এনেও জবরদখল ঠেকাতে ব্যার্থ হয়েছেন বলে জানা যায়।  

শনিবার(১৫ আগস্ট) বিকেলে মান্দারী বাজার সংলগ্ন মালি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযুক্তরা হলেন, স্থানীয় স্বর্ণকার ব্যবসায়ী বিজয় কুরী ও তার দুই ছেলে পিয়াস কুরী ও পিকলু কুরী।

 

খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিজয় কুরীর পক্ষে অর্ধশতাধিক লোক বিতর্কিত জমির পাশে অবস্থান নিয়ে জমি দখলের উদ্দেশ্যে তৈরীকৃত একটি টিনের ঘর সেখানে এনে বসিয়েছেন। এসময় জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার রিক্সাচালক গণেশ দাস, তার আত্মীয় প্রতিমা রানী ও তার পরিবারের লোকজনকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। 

 

রিক্সাচালক গণেশ দাস আহাজারি করতে করতে বলেন, বিজয় কুরী স্বর্নকার হওয়ায় জেলা স্বর্নকার সমিতির সভাপতি সমির কর্মকার এর শেল্টারে প্রভাব বিস্তার করে স্থানীয় লোকজনদের তার পক্ষে নিয়েছেন। তাদের সহায়তায় জোরপূর্বক জমি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে একটি তৈরিকৃত ঘর এনে বসিয়েছেন। এছাড়া ওই জমিতে থাকা টিনের বেড়া ভাংচুর করে এবং  নারিকেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলজ গাছ কর্তন করে জমির পাশে সীমানা প্রাচীর তৈরি শুরু করেছেন বিজয় কুরীর লোকজন। 

 

তিনি জানান,কাজটি সম্পন্ন করতে সন্ত্রাসী এবং শত শত লোকজন ভাড়া করেছেন। এ ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বার-৯৯৯' এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দখলের কাজ বন্ধ করে দেয়। পুলিশ চলে গেলে আবারও কাজ শুরু করে। 

 

এসময় তিনি আরও জানান, তিনবার পুলিশ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর ফের জবরদখল করেছে তারা।

 

জানা যায়, রতনপুর মৌজার আরএস ১৩০ নম্বর খতিয়ানের নামজারি জমাখারিজ ১১৯২ নম্বর খতিয়ান ও নামজারি জমাখারিজ খতিয়ানের ৩২৮৩ নং দাগের ৮ শতাংশ ভূমি ক্রয়সূত্রে মালিক তারা। ওই জমিটি বিজয় কুরী ক্রয় করেছে দাবি করে গত কয়েক বছর ধরে জবরদখলের জন্য উঠে পড়ে লাগে। এর আগেও ওই জমি থেকে সবজি তুলতে গেলে বিজয় কুরী ও তার ছেলেরা হামলা করে তাদের পরিবারের লোকজনকে আহত করে। সম্প্রতি তাদরকে ঘায়েল করতে বিজয় কুরী নিজে ঘরের মধ্যে আত্মগোপনে থেকে তাদের বিরুদ্ধে অপহরণের নাটক সাজায়। কিন্তু প্রশাসন কর্তৃক অপহরণের ঘটনাটি সাজানো নাটক হিসেবে উদঘাটিত হয়। 

 

জমির আরেক মালিক দাবিদার প্রতিমা রানী বলেন,

অতীত থেকে এ জমির উপর কুনজর পড়েছে বিজয় কুরির। তখন থেকে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও জমিটি দখলে নিতে না পেরে বিভিন্নভাবে আমাদের হামলা এবং হয়রানি করা হয়েছে। এখন ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সাহায্যে আমাদের জমিতে একটি তৈরিকৃত ঘর এনে বসিয়ে জবর দখল নিয়েছে।

 

অভিযুক্ত বিজয় কুরী বলেন, জমিটি আমার কেনা সম্পত্তি। প্রতিমাদের জমি অন্য পাশে। এটি একসময় ডোবা ছিল, আমি বালু দিয়ে ভরাট করার পর এখন প্রতিমাদের নজরে পড়েছে। তাই জমিটি তাদের বলে দাবি করতেছে।

 

তিনি আরও জানান, জমি নিয়ে বিতর্ক উঠার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ দায়িত্ব নিয়ে দুই পক্ষের উকিলদের নিয়ে শালিসি বৈঠক হয়। আমার মালিকানা ঠিক থাকায় বৈঠকে আমার পক্ষে রায় আসে। কিন্তু প্রতিপক্ষ ওই রায় মানছে না।

 

জেলা স্বর্ন শিল্প সমিতির( বাজুস) এর সভাপতি সমির কর্মকার বলেন,বিষয়টি তাদের পারিবারিক। এতে আমার কোন ভূমিকা নেই।

 

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক শিমূল সাহা বলেন,যতটুকু জানি জমির বিতর্ক নিয়ে দুই পক্ষের উকিল শালিস হয়েছে। তাতে বিতর্কিত জমিটি বিজয় কুরিদের বলে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। তবে উভয়পক্ষ এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়েছে কিনা সেটা জানা হয়নি।

 

এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  আবদুর রব বলেন, জমি দখলের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। দখলের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।