• ঢাকা |

ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসা সুপারকে গণপিটুনি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

সাইফুল ইসলাম সুমন, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বারে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক ও স্থানীয় মসজিদের ইমামকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদরাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (৫০) জেলার বরুড়া উপজেলার পোমতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের ছেলে সিয়াম (১২) তার বাবার মোবাইলে অনৈতিক ভিডিও দেখতে পেয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরবর্তীতে সে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং মাদরাসার বাবুর্চি মো. ইব্রাহিমকে ভিডিওগুলো দেয়। পরবর্তীতে ইব্রাহিমের কাছ থেকে ভিডিওগুলো স্থানীয় যুবকদের হাতে পৌঁছালে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিজানুর রহমানকে আটক করে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে তিনি পালিয়ে চাইলে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে আটকের পর গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মিজানুর রহমান দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ওই এলাকায় বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, গত দেড় বছরে তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে অন্তত তিনটি সালিস বসেছিল। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, হুজুর প্রায় দেড় বছর ধরে তাকে বিরক্ত করছিলেন। এক পর্যায়ে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দিলে তাকে ব্ল্যাকমেইল ও কুফুরি কালামের ভয় দেখিয়ে অচেতন করে ভিডিও ধারণ করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান বলেন, প্রকাশিত ভিডিওগুলো তার নয়। বিয়ে পড়ানো কেন্দ্র করে গ্রামের একটি মহল শত্রুতা করে তার বিরুদ্ধে এ চক্রান্ত করেছে।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মাদরাসা সুপারকে আটকে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করতে রাজি না হওয়ায় রাতে ওই সুপারের মুচলেকা নিয়ে তার স্ত্রী ও ছেলে জিম্বায় ছেড়ে দেয়া হয়।