নিজস্ব প্রতিবেদক: আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর কেন্দ্রীয় সহ-প্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবিরের লালমনিরহাটের গ্রামের বাড়িতে পৌরসভার বুলডোজার দিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহার করে ফিরোজ কবিরের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
তারা বলেন, দিনের বেলায় পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহার করে একজন রাজনৈতিক কর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ সামনে এসেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফিরোজ কবির দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, কৃষকদের সারের ন্যায্য দাবি এবং বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। এসব বিষয়ে তার বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া রংপুরের লংমার্চে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা তাকে ফোন করে হুমকি, গালিগালাজ এবং ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছে এবি পার্টি।
দলটির অভিযোগ, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল লালমনিরহাট পৌরসভার বুলডোজার নিয়ে ফিরোজ কবিরের বাড়িতে যায়। সেখানে তারা হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত শত শত মানুষের মধ্যে কয়েকজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাদের ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলা হয় বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, পৌরসভার বুলডোজার কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ নেই। জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে কোনো নাগরিকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এর যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ফিরোজ কবির ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা, প্রশাসন বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে তথ্য যাচাই প্রয়োজন।